রবিবার, ১৬ মে ২০২১, ১১:০৩ পূর্বাহ্ন

২১ তোমাদের ভুলিনি…

মোঃ আল মামুন রাসেল

এই দিনে ভাষা শহীদ ভাইদের কথা খুব মনে পড়ছে, ১৯৫২ সালে আমার ভায়ের রক্তে রঞ্জিত হয়ে ছিলো পুরো ঢাকা শহর। তাদের রক্তে ভিজে ছিলো আমার বাংলার রাজপথ। শহীদ হয়েছিলো আমার ধর্মপ্রাণ মুসলিম ভাই শহীদ আঃ জব্বার, রফিক,শফিক, বরবত সহ আরো অনেকে। ভাষার জন্য শহীদ হয়েছে পৃথিবীর বুকে এই প্রথম ইতিহাস। ১৯৪৮ সালে পাকিস্তান অধিরাজ্য সরকার ঘোষণা করে যে, উর্দূই হবে একমাত্র পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। এ ঘোষণার প্রেক্ষাপটে পূর্ব বাংলায় অবস্থানকারী বাংলাভাষী জনগণের মধ্যে গভীর ক্ষোভ ও বিরুপ প্রতিক্রিয়া জন্ম নেয়, তার ফলস্বরপ বাংলা ভাষার সমমর্যাদা দাবিতে পূর্ব বাংলায় আন্দোলন দ্রুত দানা বেঁধে ওঠে। আন্দোলন দমনে পুলিশ ১৪৪ ধারা জারি করে ঢাকা শহরে মিছিল, সমাবেশ ইত্যাদি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ( ৮ ফাল্গুন ১৩৫৮ ) এ আদেশ অমান্য করে ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের বহু সংখ্যক ছাত্র ও প্রগতিশীল কিছু রাজনৈতিক কর্মী মিলে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। মিছিলটি ঢাকা মেডিকেল কলেজের কাছাকাছি আসলে শুরু হয় পুলিশের গুলিবর্ষণ। এতে শহিদ হয় আঃ জব্বার, রফিক,শফিক, বরবত সহ আরো অনেকে। এই দিনটি বাঙালী জাতির জন্য যেমন দুঃখের, তেমনি গৌরবের। এই দিনে যদিও অনেক মায়ের কোল খালি হয়েছে, ঝড়েছে অনেক মায়ের চোখের অশ্রু। তার বদলে বাঙালী জাতি ফিরে পেয়েছে তাদের মুখের ভাষার অধিকার, রক্ষা করতে পেরেছে মাতৃভাষাকে। বিশ্বের দেশে দেশে আজ আমাদের মহান ভাষা আন্দোলনের গৌরব গাঁথা কীর্তিত হয়, উচ্ছারিত হয়, বাংলা ভাষা ও ভাষা আন্দোলনের শহীদের মধুমাখা নাম। আর এই দিনটি উপলক্ষ করে শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা বিশ্বে পালিত হয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। বাঙালী জাতি নিজের বুকের তাজা রক্ত দিয়ে বিশ্বকে শিখিয়ে গেছে মাতৃভাষাকে ভালোবাসার মন্ত্র। তাই আসুন আমরা নিজ দেশ, মাতৃভাষা, সাংস্কৃতিকে ভালোবাসি ও মূল্যায়ন করি। এবং বাংলা সাহিত্য চর্চা করি, অন্য জাতির ভাষাকে মর্যাদা দেই, আর ভাষা শহীদদের জন্য মাকবুল মোনাজাতে একটু দোয়া করি। তবে সার্তক হবে শহীদদের রক্ত, এগীয়ে যাবে বাংলাদেশ।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved ©2020 jubokantho24.com
Website maintained by Masum Billah