মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১, ০৬:৫২ অপরাহ্ন

শিরোনাম:
রাবেতাতুল ওয়ায়েজীন বাংলাদেশ মাওলানা মামুনুল হকের পাশে থাকবে। গ্রেফতার ঝুঁকিতে হেফাজত নেতৃবৃন্দ : করণীয় কি? সৈয়দ শামছুল হুদা মসজিদে তারাবির নামাজে ২০ জনের বেশি নয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে কুরআন নাজিলের মাসে হিফজুল কুরআন ও ক্বেরাত বিভাগ খুলে দিন -আল্লামা মুফতি রুহুল আমীন ২৯শে মে জাতীয় ওলামা মাশায়েখ সম্মেলন গণগ্রেফতার ও হয়রানী বন্ধ করুন: মামুনুল হক মানহানী ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করতে পারবেন: সুপ্রিমকোর্ট আইনজী ৩১৭ বছরের পুরনো মসজিদ উদ্বোধন করলেন আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী পাথরের ট্রাকে ২কোটি টাকার হেরোইন উদ্ধার – আটক২ সাংসদ বেনজীর আহমেদ করোনায় আক্রান্ত সাভারে জোর করে বের করে দেয়া ভাড়াটিয়াদের রক্ষা করলো পুলিশ

ভোট চলছে শিক্ষাবোর্ডের নেতা নির্বাচনে! কান্ডারী নিয়ে যাচ্ছো কোথায়?

লাবীব আব্দুল্লাহ!
ছবিটা ভোট প্রদানের বা ভোটের লাইনের- আমার বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে৷বেফাকের পথে সিলেটের এদারা৷
শিক্ষাবোর্ডের সভাপতি নির্বাচন হয় এবং একাধিক প্রার্থী বা লোভী বা কামনাকারী বা খাদেম ও অনুসারীদের দাবিতে সভাপতি হতে হয়, এই মনোভাব নিয়ে সভাপতিপ্রার্থী শিক্ষবোর্ডের৷ এইসব সার্কাস, নাটক দেখতে হচ্ছে এই সময়ে৷
ভোট খরিদ ফরুখত ও কেনাবেচা হবে৷ লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি এক সময় হয়তো মুরব্বীর ছবিসহ নির্বাচনী প্রচারণাও হবে! বেফাকের সভাপতির নির্বাচনের সময় হালকা করে একটি আশংকা প্রকাশ করেছিলাম এইসব নির্বাচনের ভয়াবহতার কথা৷ সাহেবজাদা সংস্কৃতি কিছুটা নীরব বা থেমে আছে হাটহাজারী আন্দোলনের পর৷ সময় হলে আবার জেগে ওঠবে৷ মাঝে ওয়াজ মৌসুমের ইস্যু শেষ হলে আমাদের নতুন ইস্যু লাগতে পারে৷ গরমের মৌসুমে তো আর শীতের ওয়াজ চলবে না৷ বেফাক জেলায় জেলায় কমিটি বানায়৷ সভাপতি বানায়৷ সদস্য বানায়৷ একটি শিক্ষাবোর্ডের মূল কাজ বাদ দিয়ে কখনও জঙ্গিবিরোধী সমাবেশ, কখনও নানা ইস্যুর প্রতিবাদ করে কিন্তু তালেবে ইলমের আগামী নির্মাণ নিয়ে সুন্দর পরিকল্পনা নেই৷ নেই শিক্ষকদের অধিকার নিয়ে কথা৷ নেই মাদরাসার নেসাব ও নেজামের প্রয়োজনীয় সংস্কার, সংযোজন -বিয়োজন।
একটি পরীক্ষা ও প্রভাবহীন কাগুজে সনদের জন্য কত আয়োজন! সিলেটের এদারা বা ইদারা প্রাচীনতম শিক্ষাবোর্ড৷ আমি তাদপর নির্বাচনী হালচালের ভিডিও ও ছবি দেখে কষ্ট পেলাম৷

সভাপতি নির্বাচনে শুরাঈ নেজাম ও শারঈ মানদন্ড ও নেজাম না মেনে ভোটের পথ নেবার ছবি! এইসব শেষে কোন পথে নিয়ে যাবে কওমী ধারার দ্বীনি মাদরাসাগুলোকে৷ হাটহাজারী মাদরাসা, লালবাগ মাদরাসা এবং বারিধারা মাদরাসার মুহতামিম কে?

সেখানে নেজাম ও এন্তেজাম পরিচালনায় একাধিক মুহতামিম বা শূরা বা পরিচালনা পরিষদ! অন্যরাও এই পথ অনুসরণ করতে পারে৷ আমরা কেন একটি ব্যবস্থাপনার জন্য সুন্দর কাঠামো তৈয়ার করতে পারি না? কেন রুপ দিতে ব্যর্থ একটি দীনি প্রতিষ্ঠানকে প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দিতে৷ এই ক্ষেত্রে সাহেবজাদাকে গদ্দীনিশিন করার প্রবণতা ছাড়াও কমিটির পূজা ও কমিটিকে ব্যবহার করে স্বার্থ হাসিল করা এবং অন্যান্য কারনও রয়েছে৷ মাদরাসাকে নিজসম্পত্তি ও ভোগের সামগ্রী মনে করলে এইসব ফিতনা হবেই৷ মাদরাসা উম্মাহর৷ মুসলিম জনতার৷ জনতার আমানত রক্ষাকারী যারা তাদের ভক্ষক হবার মানসিকতা বাদ দিতে হবে। অন্যথা সামনে আরও বিপদ৷ স্থবির হয়ে পড়বে কওমী মাদরাসার প্রশাসন৷ কওমীর নেজাম৷ নেসাব তো স্থির ও জুমুদের শিকার আগ থেকেই৷ নতুন যুগের নতুন সময়ের চাহিদা ও সময়ের স্পন্দন উপলব্ধি করতে পুরনো ধাচের মাদরাসার ধারক বাহকরা অনেকটা ব্যর্থ তবে শুকরিয়া মাহফিলে সফল! সরকারি সনদপ্রাপ্তি নিয়ে তৃপ্তির ঢেকুর৷ সরকারি সনদ নিয়ে কাহাফি নিদ্রায় বিভোর কান্ডারীরা৷ কওমীর তালেবে ইলম ও এই প্রজন্ম গভীর ইলম চর্চা, ত্যাগ ও উম্মার বৃহত্তর স্বার্থচিন্তা বাদ দিয়ে দেড় ইঞ্চি বক্তা হয়ে রাতে বিরাতে ওয়াজ মাহফিল করে টাকা উপার্জনের চিন্তায়৷ আমাদের তালেবে ইলমরা এখন বক্তা হয়ে তখত তাউসে বা হেলিকপ্টারে উড্ডীনের স্বপ্নে বিভোর৷ ব্যতিক্রম নেই তা বলা যাবে না৷ বাংলা নোট গাইড দেখে হাইআর মাস্টার্সের সনদ পরে মুফতী, আল্লামা, শাইখুল হাদীসের লকব লাগিয়ে ওয়াজ মাহফিলে বক্তা হওয়া আর তাফাক্কুহ ফিদ্দীন এক নয়৷ এইসব নীতিকথা বললে আবার কওমীবিরোধী বলে গালি দেবে আমাকে৷ দেবে নানা লকব৷ সনদও!

আমাদের মুরব্বীগন এই যামানায় ভোট, নেতা হবার পদ্ধতির যা করছেন মনে হয় তারা নিজের চিন্তায় করেন না৷ চাটুকার তৈলবাজ, খাদেম পার্টি, সাহেবজাদা ও ধান্ধাবাজদের উস্কানি বা তৈলমর্দনের শিকার৷ এইসব জঞ্জাল মুক্ত হলে দারুল উলূম দেওবন্দের পুরনো যুগের হালতে এবং দরসে নেজামীর পুরোনো ভালো দিকগুলোর দিকে এবং খেলাফতে রাশেদা থেকে দেওবন্দ পর্যন্ত দীনি ইলমের সিলসিলার দিকে ফিরে যেতে হবে৷ ফিরে যেতে হবে আকাবির ও আসলাফের সুন্দর পথে৷ সচ্ছ পথে৷ সেই পথের সাথে সময়ের ভালো দিক যোগ করতে হবে৷ এই দেশে নির্বাচনে কী হয় তা কি আমাকে স্পষ্ট করে লিখতে হবে! একটি বিড়ি খেয়েও ভোট বিক্রি হয়৷
মাদরাসার ভোটাররা বিড়ি নয় ভাড়ায় ভোট দিয়ে নির্বাচন করবে সভাপতি! এই পতি কোনো কাজে আসবে না কওমীর প্রকত উন্নয়ণে৷ কাজে আসবে না সুন্দর আগামী বিনির্মাণে৷
ভাঙনের মুখে কওমীর ঐতিহ্য৷ এই ভাঙন ঠেকাতে যথা সময়ে হতে হবে সজাগ৷ জাগ্রত৷ সচেতন৷

আমাদের অব্যবস্থাপনা দেখে অন্য শক্তি হস্তক্ষেপ করতেই পারে তখন শুধু ফেলতে হবে চোখের পানি৷ অশ্রুপাত৷
এইসব লিখে লাভ নেই তবুও লিখি৷ তবুও ডাক দিয়ে যাই৷
শিক্ষাবোর্ড হোক শিক্ষাবান্ধব৷ পরিভাষা হোক শিক্ষামূলক৷ লোকবল ও ব্যবস্থাপনা হোক সুন্দর নিয়মে৷ যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে৷
কওমী মাদরাসা আপন ঐতিহ্যে ফিরে আসবে এই প্রত্যাশা৷
কওমী অঙ্গন ও কওমীর ফুলবাগে ফিরে আসুক নতুন বসন্ত৷
ফুলেল হোক৷ সুরভিত হোক সেই ফুলে আঙ্গিনা৷

লাবীব আব্দুল্লাহ
ইবনে খালদুন ইনস্টিটিউট
4/3/2021

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved ©2020 jubokantho24.com
Design & Developed BY Masum Billah