মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১, ০৭:১০ অপরাহ্ন

শিরোনাম:
রাবেতাতুল ওয়ায়েজীন বাংলাদেশ মাওলানা মামুনুল হকের পাশে থাকবে। গ্রেফতার ঝুঁকিতে হেফাজত নেতৃবৃন্দ : করণীয় কি? সৈয়দ শামছুল হুদা মসজিদে তারাবির নামাজে ২০ জনের বেশি নয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে কুরআন নাজিলের মাসে হিফজুল কুরআন ও ক্বেরাত বিভাগ খুলে দিন -আল্লামা মুফতি রুহুল আমীন ২৯শে মে জাতীয় ওলামা মাশায়েখ সম্মেলন গণগ্রেফতার ও হয়রানী বন্ধ করুন: মামুনুল হক মানহানী ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করতে পারবেন: সুপ্রিমকোর্ট আইনজী ৩১৭ বছরের পুরনো মসজিদ উদ্বোধন করলেন আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী পাথরের ট্রাকে ২কোটি টাকার হেরোইন উদ্ধার – আটক২ সাংসদ বেনজীর আহমেদ করোনায় আক্রান্ত সাভারে জোর করে বের করে দেয়া ভাড়াটিয়াদের রক্ষা করলো পুলিশ

আমাদের মিডিয়া বিমুখ মানসিকতা : সৈয়দ শামছুল হুদা

আমাদের দেশের অনেক তরুনের খুব আক্ষেপ, আমাদের কেন নিজস্ব মিডিয়া নেই? আমাদের কেন কোন জাতীয় পত্রিকা নেই? আমাদের কেন ব্যাপক জনপ্রিয় কোন অনলাইন নেই? কেন একটি অনলাইন রেডিও চালু করতে পারি না? টেলিভিশনতো অনেক দূরকি বাত।

প্রিয় তরুন বন্ধুদের কাছে প্রশ্ন, আমরা এই যে অনেক কিছুর আশাকরি, আমাদের এই আশাটা করাটা কি ঠিক? আমরা যে পরিবেশে বড় হই, আমরা যে মানসিকতা নিয়ে বড় হই, এর সাথে কি এইসব চাওয়ার কোন মিল আছে? আমাদের পুরো শিক্ষা জীবনটি শেষ করি এক নির্দিষ্ট পরিবেশে, আর যখন কাজের ময়দানে নামি তখন দেখি যে, আমার গোটা শিক্ষা জীবনে যা ভাবি নাই, কাজের ময়দানে সে সব কিছুর মুখোমুখি হতে হয়। গোটা শিক্ষা জীবনটা দুনিয়াবিমুখ মানসিকতা তৈরি করা হয়। সেখানে নিজেরা মিডিয়া করার স্বপ্নতো অনেক পরের কথা। ব্যবসা, বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজনীতি কোন কিছু নিয়েই আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় কোন প্রকার আলোচনা নেই। কীভাবে এই সমাজে চলতে হবে, সমাজের ভেতরে থাকা হাজারো সমস্যার কীভাবে সমাধান হবে, সে সম্পর্কে কোন ধারণাই দেওয়া হয় না। সেই আমরাই যখন কাজের ময়দানে আসি, দেখি, আমার সামনে প্রতিবন্ধকতার পাহাড়। এটাতো গেল একটি দিক।

অন্য দিকটা হলো, কাজের ময়দানে এসে আমরা যখন এগুলোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করতে থাকি, তখন পদে পদে ভুল করতে থাকি। যে যেদিকে পারি ছুটোছুটি করতে থাকি। কী করতে হবে? কীভাবে করতে হবে? কোন কাজের জন্য কী প্রয়োজন এসব বিষয়ে ভাসা ভাসা ধারণা নিয়েই কাজের ময়দানে নেমে পড়ি। অতঃপর খুব সামান্যই টিকতে পারে। অধিকাংশই বাস্তবজ্ঞান না থাকায় ছিটকে পড়ে। তখন আমরা হতাশ হয়ে পড়ি। ভেঙ্গে পড়ি। আর অন্যের সফলতা দেখে, টিকে থাকা দেখে, সেও কেন ঝড়ে পড়ে না, তার জন্য নানা বাক্যবাণে তাকে জর্জরিত করি।

আজ মিডিয়ার কথা যদি বলি, তাহলে প্রথমত: বলবো, বর্তমান মিডিয়ার শক্তি সম্পর্কে আমাদের ধারণা একেবারেই কম। মিডিয়াবাজি সম্পর্কে ন্যুনতম জ্ঞান কয়জন রাখি সেটা বুঝা খুব কঠিন। আমরা হয় সবকিছুকে খুব সহজভাবে নিই, অথবা খুব কঠিনকাজ বলে এড়িয়ে যাই। ২০১৩সালের শাহবাগ আন্দোলনের পর উলামাদের বড় একটি অংশ স্যোসাল মিডিয়ায় জড়িয়ে যায়। কিন্তু এর ব্যবহার বিষয়ে সতর্ক না হওয়ায় নানা বিতর্কে জড়িয়ে যায় অনেকেই। অনেকেই ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে এ ময়দান ছেড়ে চলে যায়। এরপর শুরু হলো অনলাইন মিডিয়া চালুর হিড়িক। একজনের দেখাদেখি সকলেই অনলাইন মিডিয়া করা শুরু করে। খুব অল্প টাকায় অনলাইন মিডিয়া করার সুযোগ থাকায়, ফেসবুক একাউন্ট এর মতোই অনলাইন মিডিয়ার নাম দেখতে শুরু করি।

আফসোসের বিষয় হলো, একটি অনলাইন মিডিয়ার গুরুত্ব, কর্মপদ্ধতি, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, টিকে থাকার বিষয়, সংবাদ সংগ্রহ, সংবাদ প্রকাশ, সাংবাদিক প্রশিক্ষণ ইত্যাদির কোন কিছু নিয়েই ভাবার সুযোগ পায়নি। কোথাও একটা নিউজ পাঠালাম, সেই সংবাদটি প্রকাশ করতে দেরি, নিজেই একটি অনলাইন মিডিয়া তৈরি করতে দেরি নাই। আমার পরিচিত তরুন লেখক আলেমদের প্রায় অনেকেই এখন অনলাইন মিডিয়ার সম্পাদক। কিন্তু এর কোনটাই এখন আর চলছে না। না চলার কারণ কোনটাই পরিকল্পনা করে, বুঝে-শুনে তৈরি করা হয়নি। যে জগত সম্পর্কে ধারণা নেই, হুট করে সেই জগতে পা রাখলে পিছলে পরারই কথা। আর বাস্তবেও সেটাই হয়েছে।

মিডিয়ায় সহনশীলতার বিষয় আছে। আর আমাদের সহনশীতার খুব অভাব। মিডিয়া মানেই কিছু বক্তব্য, কিছু মন্তব্য। এটা সবসময়ই যে পক্ষে আসবে, বিষয়টি তা নয়। আজকে যদি আমি নাম ধরে বলি, তাহলেই হয়তো অনেকেই কষ্ট পাবেন। তারপরও বলতে হবে। আমাদের সহনশীলতার কতটা অভাব তার উদারহণ দিতে গিয়ে বলবো, এই যে ধরেন, আমাদের অনেকের শ্রদ্ধাভাজন আল্লামা উবায়দুর রহমান খান নদভী দা.বা. দৈনিক ইনকিলাবে চাকুরী করেন। যখনই ইনকিলাবে আমার পছন্দের বাইরে কোন লেখা আসে, নিউজ আসে, অথবা আমাদের পছন্দের কোন সংবাদ তারা এড়িয়ে যায়, তখন নদভী সাহেবের চৌদ্দগোষ্টী উদ্ধার করা শুরু করি। উনি কেন এখানে চাকুরী করেন? অথবা উনি থাকতে কেন এই পত্রিকায় আমাদের দরবারের পছন্দের বাইরের সংবাদ প্রকাশ পেলো, এজন্য নদভী সাহেব কেন এখনই চাকুরী ছেড়ে চলে আসেন না ইত্যাদি।

আরে ভাই, একবারও কি চিন্তা করেছেন, ইনকিলাব একটি দৈনিক পত্রিকা। এর মালিক নদভী সাহেব নন। উনি এখানে চাকুরী করেন মাত্র। হয়তো সিনিয়র একজন। তারপরও পত্রিকায় অনেক লোক থাকে, কার ইচ্ছায় কোন সংবাদটা প্রকাশ পায়, সেটা সবকিছু নদভী সাহেবের পক্ষে নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব না এই জ্ঞানটা আমাদের অনেকেরেই নাই। এরা মনে করে, সবকিছু নদভী সাহেবের ইচ্ছাতেই হয়। অথবা নদভী সাহেবও যদি কোন লেখা লিখেন যেটা অনেকের মনমত হয় না, ব্যাস, হয়ে গেলো, এবার উনাকে তুলোধনো করো। আচ্ছা, উনি যদি পত্রিকাটা ছেড়ে চলে আসেন, তাতে কি আমার পছন্দমতো ইনকিলাব চলবে? অর্থাৎ আমরা আমাদের একজন প্রিয়মুখ জাতীয় মিডিয়ায় কাজ করছেন, সেটাও সহ্য করতে পারি না। তাহলে অন্য মিডিয়াগুলোকে কীভাবে আপন করে নিবো?

এমনিভাবে আমাদের যে সকল অনলাইন আছে, যেমন আওয়ার ইসলাম, ইনসাফ, পাবলিকভয়েস, পাথেয়, উম্মাহ২৪ডটকম, সিগনেচার, তমদ্দুন, সিলেট রিপোর্ট ইত্যাদি অনলাইনগুলোতে কোন লেখা যদি কারো মতের বাইরে যায়, তাহলে আর রক্ষা নেই। অথচ একবারও ভাবি না যে, এগুলো যারা চালান, তাদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি আছে, এসব আমার সাথে মিলতেও পারে, নাও পারে। যখনই কোন সংবাদ আমার পছন্দের বাইরে প্রকাশ হয়, সাথে সাথে এর চৌদ্দগৌষ্টি উদ্ধার করা শুরু করি। একবারও ভাবি না, এসব অনলাইনের পাঠকই বা কয়জন, আর এর প্রভাবই বা কি? তারা একটি লেখা লিখলেই একেবারে সবশেষ হয়ে গেলো এমনটা কেন মনে করি?

সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, ইসলামপন্থীদের মিডিয়া জগতে যে সকল ছোট ছোট উদ্যোগ গ্রহন করা হয সে সকল কাজে কেউ কোন প্রকার সহযোগিতা করে না। তাদেরকে দাঁড়াবার জন্য কোন প্রকার দান-অনুদান দেয় না। কিন্তু একটি লেখা বা সংবাদ যদি মতের বাইরে যায়, তাহলে আর রক্ষা নাই। এভাবে কি মিডিয়া দাঁড়াবে? আমাদের অন্যতম একটি পবিত্র দায়িত্ব হলো, কাকে? কখন? কীভাবে বাঁশটা সুন্দরমতো দেওয়া যাবে, কারো সাথে সামান্য মতের অমিল হলে তাকে কীভাবে ঘায়েল করা যাবে, তার সুনাম-সুখ্যাতির হানি করা যাবে এর পেছনে লেগে থাকা। আমরা নিজেদের ভাইদের সামান্য ভুল সহ্য করতে পারি না। কিন্তু অন্যদের আইক্যাওয়ালা বাঁশটাও সহজে হজম করতে পারি। আমাদের কেউ খাদের কিনারে পরে গেলে তাকে টেনে তোলার কেউ নেই। পারলে আরো ধাক্কা মেরে খাদের গভীরে ফেলে দিতে চায়।

ভিন্নমতের প্রতি অশ্রদ্ধা থেকেই আমাদের মিডিয়াবিমুখ মানসিকতা তৈরি হয়েছে। ভিন্নমতকে আমরা কোনভাবেই সহ্য করতে পারি না। আমরা কারো প্রশংসা করতে জানি না। একেবারে নিজের মতো না হলে কোন মিডিয়াকে সহ্য করি না। আর এ কারণেই কওমীর বহু তরুন কোন প্রকার চিন্তা-ভাবনা ছাড়া একেকজনে একেকটা করে অনলাইন করে ফেলেছে। অত:পর দুয়েক মাস চালানোর পর এর সখ মিটে গেছে। স্বাদ বুঝে গেছে। এখন সবকিছু পানসে লাগে।

এজন্য যেটা প্রয়োজন সেটা হলো, প্রথম যারা শুরু করে, তাদেরকে সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া। তাদেরকে দাঁড়াবার জন্য আর্থিক, রাজনৈতিক সমর্থন দেওয়া। একটি একটি করে প্রতিষ্ঠানকে স্বাবলম্বি করতে সহযোগিতা করা। পাশাপাশি, জাতীয় মিডিয়াগুলো থেকে বাছাই করে যাদের মধ্যে কিছুটা হলেও ইসলামি মূল্যবোধ আছে, তাদের সাথে আসা-যাওয়ার সম্পর্ক রাখা। তাদেরকে অন্যরা যেন ব্যবহার করতে না পারে , সেজন্য ইসলামপন্থীদের পক্ষ থেকে নৈতিক সমর্থন যোগানো।

আরো একটি গুরুত্বপুর্ণ বিষয় হলো, আমি যদি কারো কোন উপকার করতে নাও পারি, আমি যেন কারো ক্ষতির কারণ না হই, সেদিকে লক্ষ্য রাখা। আমার দ্বারা যেন কোন মিডিয়ার কোন ক্ষতি না হয়, কোন সংবাদ পছন্দ না হলে, শুধূ সেই সংবাদটার প্রতিবাদ করা, গোটা হাউজকে ধরে গালিগালাজ করে নিজেদের ভাইদের মনোবল ভেঙ্গে না দিই। কারণ তারা এমনিতেই হাঁটি হাঁটি পা পা করে চলছে। তারা নিত্য-নতুন সমস্যা মোকাবেলা করে এগিযে যাচ্ছে। তাদের ক্ষুদ্র সামর্থ নিয়ে আমাদের পাশে দাঁড়াচ্ছে এই জন্য তাদের মাঝে মাঝে প্রশংসা করা। উৎসাহ দেওয়া। বারবার বিরূপ মন্তব্য করতে থাকলে মানুষের মন এমনিতেই ভেঙ্গে যায়। মনে রাখবেন, আমাদের কোন অনলাইনই ব্যবসায়িকভাবে সফল নয়। তারা খুব কষ্ট করেই চালাচ্ছে। হয়তো কেউ সখের বসে, অথবা কেউ আবেগের কারণে চালাচ্ছে।

কওমী আলেমদের মধ্যে খুবই জনপ্রিয় দুটি অনলাইন পোর্টাল শুধু অর্থের অভাবে আজ বন্ধ। ইসলামটাইমস২৪ডটকম, ফাতেহ২৪ডটকম। এদুটি অনলাইন খুব ভালো কাজ করছিল। কিন্তু আমরা সহযোগিতা দিয়ে তাদের ধরে রাখতে পারিনি। সেই সক্ষমতা আমাদের হয়নি। এটা আমাদের বড় ধরণের ব্যর্থতা। ইনসাফ২৪ডটকমও চলছে কোন রকমে। আওয়ার ইসলাম, পাবলিক ভয়েস এর রিপোর্ট নিয়ে অনেক কথা থাকতে পারে, তারপরও এগুলোই আমাদের মিডিয়া। আমরা এগুলোকে পারলে কেউ কেউ গলাটিপে মেরে ফেলে। আরে ভাই, এগুলোও যদি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে আপনার পক্ষে আর কথা বলার কে থাকলো? মুহতারাম শরীফ মুহাম্মদ সাহেব যে কোন দুর্ঘটনায় ইসলামটাইমস থেকে তাৎক্ষণিক একটি মন্তব্যধর্মী শো করতেন, এটা যে কত জরুরী ছিল তা কি এখন উপলব্দি করতে পারি? অনেকেরই অন্ত:চক্ষু নেই।

আমরা বন্ধ করে দেওয়ার পক্ষে। একটি মিডিয়া চালু রাখতে হাত বাড়িয়ে দেওয়ার পক্ষে কতজন আছে? ভুল-ত্রুটি সবারই আছে। এসব নিয়ে পড়ে থাকলে জীবনেও আমরা উন্নতি করতে পারবো না। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সঠিক বুঝ বুঝার তৌফিক দান করুন।

21.03.2021

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved ©2020 jubokantho24.com
Design & Developed BY Masum Billah