মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১, ০৬:৩১ অপরাহ্ন

শিরোনাম:
রাবেতাতুল ওয়ায়েজীন বাংলাদেশ মাওলানা মামুনুল হকের পাশে থাকবে। গ্রেফতার ঝুঁকিতে হেফাজত নেতৃবৃন্দ : করণীয় কি? সৈয়দ শামছুল হুদা মসজিদে তারাবির নামাজে ২০ জনের বেশি নয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে কুরআন নাজিলের মাসে হিফজুল কুরআন ও ক্বেরাত বিভাগ খুলে দিন -আল্লামা মুফতি রুহুল আমীন ২৯শে মে জাতীয় ওলামা মাশায়েখ সম্মেলন গণগ্রেফতার ও হয়রানী বন্ধ করুন: মামুনুল হক মানহানী ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করতে পারবেন: সুপ্রিমকোর্ট আইনজী ৩১৭ বছরের পুরনো মসজিদ উদ্বোধন করলেন আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী পাথরের ট্রাকে ২কোটি টাকার হেরোইন উদ্ধার – আটক২ সাংসদ বেনজীর আহমেদ করোনায় আক্রান্ত সাভারে জোর করে বের করে দেয়া ভাড়াটিয়াদের রক্ষা করলো পুলিশ

আলেম রাজনীতিবিদদের জবাবদিহিতাবিহীন রাজনীতি সৈয়দ শামছুল হুদা

বাংলাদেশের ইসলামী রাজনীতি দৃশ্যমান জায়গায় না আসার অন্যতম একটি কারণ জবাবদিহিতার অভাব। পশ্চিমবঙ্গের ৩৪বছর বয়সী একজন তরুন আলেম রাজনীতিক আব্বাস সিদ্দিকী সাহেবকে প্রতিটি বিষয়, প্রতিটি বক্তব্য, প্রতিটি কর্মসূচী নিয়ে যেভাবে মিডিয়ার সামনে জবাবদিহি করতে হচ্ছে, যেভাবে প্রতিটি বিষয় পরিস্কার করতে হচ্ছে, ব্যাখ্যা করতে হচ্ছে এর কোনকিছুই বাংলাদেশে নেই। এদেশের আলেম রাজনীতিবিদগণ কোন সাংবাদিকের কাছে তাদের কর্মসূচী সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করার কোন সুযোগই নেই। মাদ্রাসার চার দেওয়ালের নিরাপত্তা বেষ্টনীর ভেতরে এক ধরণের আয়েশী মেজাজে উনারা রাজনীতি করেন। এদেশের কোন মাদ্রাসায় মহিলা সাংবাদিকের প্রবেশাধিকার কল্পনাও করা যায় না। কোন বাম ধারার সাংবাদিক অথবা ভিন্নমতের সাংবাদিকের পক্ষে এটা আদৌ সম্ভব নয় যে, কোন আলেম রাজনীতিবিদকে তাদের কর্মসূচী নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে বিব্রত করবে।

এদেশের আলেম রাজনীতিবিদগণ এবং তাদের অন্ধ অনুসারীরা মনে করেন, তাদের হুজুরগণ সকল প্রকার জবাবদিহিতার উর্ধ্বে। কেউ তাদেরকে তাদের কর্মসূচী সম্পর্কে উল্টা-পাল্টা প্রশ্ন করবে, আর তারা সাংবাদিকদের সুন্দর মেজাজে জবাব দিবে এটা কল্পনাও করা যায় না। একজন তরুন আলেম রাজনীতিবিদ আব্বাস সিদ্দিকী কত শত সাংবাদিককে সাক্ষাতকার দিতে দেখলাম। কত কঠিন কঠিন বিব্রতকর প্রশ্ন। অথচ কী সুন্দর ভাষায় সব বিষয়ে সাংবাদিকদের খুব গুরুত্ব সহকারে উত্তর দিয়ে যাচ্ছে। ফলে তার জনপ্রিয়তা হুরহুর করে বেড়েই যাচ্ছে। বাংলাদেশে ঠিক উল্টো চিত্র। এদেশে রাজনীতিতে আলেম সমাজের গ্রহনযোগ্যতা বর্তমানে শুন্যের কোটায়। সমমনা সব দল মিইলাও এখন একটা বড় কর্মসূচী পালন করার ক্ষমতা রাখে না।

রিপোর্টাস ইউনিটে আলেমদের দুয়েকটি সাংবাদিক সম্মেলন দেখেছি।সাংবাদিকদেরকে ফেস করার মতো কাউকে দেখি না। সবাই এড়িয়ে চলে। ধামাচাপা দিয়ে সবাই কেটে পড়ে। সাংবাদিকরা উল্টাপাল্টা প্রশ্ন করবে দেখে আগেই সটকে পড়ে। অথচ উচিত ছিল সাংবাদিকদেরকে সবকিছু চ্যালেঞ্জ করা। তাদের কাছে সবকিছু খোলাসা করা। নিজের সিদ্ধান্তের ওপর সুদৃঢ় থাকা। কর্মসূচীর সফলতা-ব্যর্থতার দায় নেওয়া। এদেশে কেউই কোন দায় নিতে চায় না।

উলামায়ে কেরাম যখনই কোন বড় ধরণের কর্মসূচী দেয়, সে সব কর্মসূচী নিয়ে কর্মীদের মধ্যেও বিষয়গুলো খোলাসা করে না, সাংবাদিকদেরতো জানানোর প্রশ্নই আসে না। এখনো দেখছি, অনেক বিষয়ে সাংবাদিকদেরকে ভয়ের দৃষ্টিতে দেখা হয়।আর একজন তরুন আব্বাস সিদ্দিকীকে দেখি, সে সাংবাদিকদের জটিল জটিল প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে, মহিলা সাংবাদিকদের প্যাচগি মারা প্রশ্নগুলো খুব দৃঢ়তার সাথে কাউন্টার করছে। দেখছি, শিখছি। আর ভাবছি, হায়, আমাদের দেশে এমন একজন আলেম রাজনীতিবিদকেও তো দেখি না, যে এভাবে নিজের চিন্তা-চেতনা, কর্মসূচী সম্পর্কে সাংবাদিকদের কাছে খোলাসা করবে।

একজন আলেম কেন রাজনীতি করেন? কাদের জন্য রাজনীতি করেন? রাজনীতির লক্ষ্য-উদ্দেশ্য কী এর সবকিছুই কওমী ঘরানার নিজস্ব মেজাজে মাঝে মাঝে খোলাসা করেন, জাতীয় মিডিয়ার সামনে, জনগণের সামনে পরিস্কার করার কোন সাহস রাখেন বলে মনে হয় না। মিডিয়ার সামনে কী ভাষায় কথা বলতে হবে, কীভাবে সাংবাদিকদের ঘায়েল করতে হবে, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার ২০/৩০বছরেও এসব শিখেন নাই। দলীয় প্রধান এমন লোকই হন, যিনি মিডিয়ার সামনে কথা বলার কোন যোগ্যতাই রাখেন না। এভাবেই চলছে দেশের ইসলামী ধারার রাজনীতি। আর কওমী অঙ্গনে এসব বিষয়ে কথা বলাটাকে মনে করা হয় চরম বেআদবী। অথচ রাজনীতিতে এসব পরিস্কার না করলে জনগণ তাদের রাজনীতিকে কখনোই যে গ্রহন করবে না, সেটা তারা স্বাধীনতার ৫০বছরেও অনুভব করতে পারছেন না।

এভাবে গোজামিলের রাজনীতি আর কতদিন চলবে? মুরুব্বিগণতো প্রায় সবাই চলে গেছেন। দুয়েকজন আছেন। এখনতো নেতৃত্ব প্রায় তরুনদের হাতে চলেই এসেছে। এখনো কি সেই পূরণো ধারায়ই চলতে থাকবে? এখনো কি মূল ধারার সাংবাদিক, মূল ধারার রাজনীতিবিদদের সাথে চ্যালেঞ্জ দিয়ে চলার সময় আসেনি? আর কতকাল নিজেদেরকে আলাদা প্রজাতির মনে করতে থাকবে? সাধারণ মানুষের কাতারে কবে এদেশের আলেম রাজনীতিবিদরা নেমে আসবে? আর কবে নিজেদের প্রতিটি কর্মসূচী নিয়ে মিডিয়াকে ফেস করার সাহস অর্জন করবে? এভাবে চলতে পারে না।

তরুন আলেমদের প্রতি আহবান, আপনারা মূল ধারার রাজনীতির নেতৃত্ব গ্রহন করুন। সকল বিষয়ে চ্যালেঞ্জ করতে শিখুন। একজন আব্বাস সিদ্দিকী, আসাদউদ্দিন ওয়াইসি, মাওলানা আজমলদের থেকে রাজনীতি করা শিখুন। বাংলাদেশে এমন একজন আলেম রাজনীতিবিদও আমার চোখে পড়ে না, জাতীয় জীবনে যাকে অনুসরণ করা যায়। দুর্ভাগ্য আমাদের। আমরা আজ চরমভাবে নেতৃত্বশুন্য মনে করছি। মুফতি ফজলুল হক আমিনী রহ, শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রহ. পর্যন্ত কিছুটা গণমুখি রাজনীতি ছিল। বর্তমানে আলেমদের নেতৃত্বে একেবারেই কোন প্রকার গণমুখি রাজনীতি নেই। নেতৃত্ব নেই। সরকারের পলিসি বুঝে এসব কাউন্টার করার মতো বিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব একজনও নেই।

আমার এসব লেখায় হয়তো অনেকেই নাখোশ হবেন। গালিগালাজ করবেন। আমার চোখ অন্ধ বলে কেউ কেউ লিখবেন। তারপরও আমার কথাগুলো বলে গেলাম। কেউ কষ্ট পেলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

22.03.2021

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved ©2020 jubokantho24.com
Design & Developed BY Masum Billah