মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ১০:৫১ পূর্বাহ্ন

হেফাজতে ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

তারেক জামিল

আজ বেলা ১২টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া ১৬ খুনের মূল হোতা সদর সংসদ র.আ.ম উবাইদুল মোকতাদির চৌধুরীর বিচার দাবীতে জামিয়া ইউনুছিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য রাখেন জেলা হেফাজতের মহাসচিব আল্লামা মুফতি মুবারকুল্লাহ।তিনি তার লিখিত বক্তব্যতে বলেন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা হেফাজতের সাংবাদিক সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা!

আসসালামু আলাইকুম,
আমাদের ডাকে সাড়া দিয়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য আপনাদের সকলের প্রতি রইলো আন্তরিক মোবারকবাদ।

আজ ৩১/০৩/২০২১ ইং রোজ বুধবার সম্প্রতি ব্রা‏হ্মণবাড়িয়ায় পরিকল্পিতভাবে ১৫ জনকে নারকীয় হত্যাকান্ডের ব্যাপারে আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীকে অবগত করানো এবং এই নারকীয় হত্যাকান্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার আজকের এই সংবাদ সম্মেলন।

প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা!
আপনারা অবগত আছেন যে গত ২৬ শে মার্চ শুক্রবার ২০২১ ইং বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সুবর্ণজয়ন্তীর আনন্দঘন অনুষ্ঠান উদযাপন করার কথা ছিল। এ উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় আমন্ত্রণে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানগণ বাংলাদেশে আমন্ত্রিত হয়েছিল, তাতে দেশের জনগণ, তৌহিদী জনতার কোন আপত্তি ছিল না, কিন্তু শতকরা ৯০% মুসলমানের এই দেশে পাশের দেশ ভারতের সাম্প্রদায়িক প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি! যার নেতৃত্বে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি করে হাজার হাজার মুসলমানকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। মুসলমানদের ঐতিহ্য বাবরি মসজিদ ধ্বংস করে সেখানে রাম মন্দির নির্মাণকারী এই মোদিকে রাষ্ট্রীয় আমন্ত্রণে সম্মানিত করার বিষয়টি বাংলাদেশের মুসলমানরা মেনে নিতে পারেনি। মোদির আগমনের প্রতিবাদে অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশসহ অন্যান্য ইসলামী দলগুলোর কোন রকম কর্মসূচি ছাড়াই জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দেশ প্রেমিক তৌহিদী জনতা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে নেমে আসে। ২৬ শে মার্চ শুক্রবার বাদ জুমা বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে মুসল্লিদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে পুলিশের বর্বরোচিত গুলিবর্ষণ করে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষুব্ধ জনতা রাস্তায় নেমে আসে। উম্মুল মাদারিস হাটহাজারী মাদ্রাসার ছাত্ররাও রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করতে থাকে, কোন রকম উস্কানি ছাড়া দেশের প্রাচীনতম এই মাদ্রাসার ছাত্রদের উপর পুলিশ গুলি বর্ষণ করে করে ৪ জনকে শহীদ করা হয়।
৪ জন মাদ্রাসার ছাত্রের শহীদ হবার খবর আসার পর স্বাভাবিক কারণেই ব্রাক্ষণবাড়িয়াতে মাদ্রাসার ছাত্রদের মনে ক্ষোভের সঞ্চার হয় এবং তারা শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশ ও প্রতিবাদ মিছিল করে। মাদ্রাসার ছাত্রদেরকে হত্যার প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে পরদিন (শনিবার) দেশব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল ও রবিবার দেশব্যাপী শান্তিপূর্ণ হরতাল আহবান করে।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর আল্লামা সাজিদুর রহমান এবং ব্রাক্ষণবাড়ীয়া জেলা সাধারণ সম্পাদক মুফতী মুবারকুল্লাহর নেতৃত্বে শনিবার বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচী কোন বিশৃঙ্খলা ছাড়াই অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সমাপ্ত হয়।

প্রিয় সাংবাদিক ভায়েরা!
সেই বিক্ষোভ মিছিল যোহরের আগেই শান্তিপূর্ণভাবে সমাপ্ত হয়। কিন্তু বাদ আসর ব্রাক্ষণবাড়ীয়া সদর আসনের সাংসদ র, আ, ম, উবায়দুল মুক্তাদির চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি লাঠিয়াল মিছিল টি.এ.রোড অতিক্রম করার সময় এমপির নির্দেশে মিছিলটি জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুসিয়া মাদ্রাসায় হামলা করার জন্য মাদ্রাসার দিকে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটাতে ঘটাতে মারমুখী হয়ে জঙ্গী স্টাইলে এগিয়ে আসে। এবং সেই মিছিলে ছাত্রলীগের কতিপয় উশৃঙ্খল নেতাকর্মী ককটেল, পিস্তল, রামদা সহ দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুসিয়া মাদ্রাসার মূল ফটকের সামনে প্রায় ২০ থেকে ২৫ টি হাতবোমা, ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এবং মাদ্রাসার দরজা জানালার কাচ ভাংচুর করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে।
সাধারণ তাওহিদী জনতা যখন জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুসিয়া মাদ্রাসায় আক্রমণের সংবাদ পায় তখন তারা তাৎক্ষনিক প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে। ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী বাহিনী সাধারণ মানুষদের উপর ককটেল ও গুলি ছুড়ে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
বাদ মাগরিব শহর জুড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে পুলিশ, বিজিবি, ছাত্রলীগ, যুবলীগ নির্বিচারে যৌথ গুলিবর্ষণ করতে থাকে, যার ফলে তখন দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হয়।
দুইজন শহীদ হবার খবর আসার পর সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে আসে, তখন তাদের উপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করতে থাকে ছাত্রলীগ, পুলিশ ও বিজিবি।

প্রিয় সাংবাদিক ভায়েরা
ব্রাক্ষণবাড়ীয়ার পরিবেশ অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ছিল। কারা এই শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে অশান্ত করলো তা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট।
এমপি মুক্তাদির চৌধুরী যদি সেদিন ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুসিয়া মাদ্রাসায় হামলা করার নির্দেশ ও উপস্থিত থেকে সহযোগিতা না করতো তাহলে ব্রাক্ষণবাড়ীয়ার পরিবেশ অশান্ত হতো না। এবং ১৫ জনকে শাহাদাত বরণ করতে হতো না।
তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুসিয়া মাদ্রাসায় সন্ত্রাসী হামলা চালানোর কারণেই সাধারন মুসলমানদের কলিজায় আঘাত লাগে। মানুষ জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়ার ভালবাসায় ও তার হেফাজতে রাস্তায় নেমে আসে। কিন্তু পুলিশ বিজিবি ও ছাত্রলীগের নির্বিচারে গুলিবর্ষণে জেলার বিভিন্নস্থানে ১৫ জন নিহত হয় ও প্রায় ৫০০ জন আহত হয়। এর সম্পূর্ণ দায়দায়িত্ব এমপি মুক্তাদির চৌধুরীকেই নিতে হবে। এই হামলার কিছু ভিডিওক্লিপ্স ও স্টিল ছবি আমাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে যা প্রশাসন তদন্তের স্বার্থে আমাদের কাছে চাইলে আমরা দিতে প্রস্তুত।

সংবাদ সম্মেলন শেষে দোয়া পরিচালনা করেন জেলা হেফাজতের আমীর আল্লামা সাজিদুর রহমান।এতে জেলা হেফাজতের নেতৃবৃনদ উপস্থিত ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved ©2020 jubokantho24.com
Website maintained by Masum Billah