রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল ও কার্যক্রম বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্তকে ‘অবিবেচনাপ্রসূত’ ও ‘অ্যাকশন নয়, বরং রিঅ্যাকশন’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ছয় নবজাতকের মৃত্যুর মতো ঘটনা এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এর যথাযথ বিচার হওয়া উচিত। একইসঙ্গে সাংবাদিকদের সঙ্গে হাসপাতাল স্টাফদের আচরণেরও শাস্তি হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে একটি বৃহৎ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স এক নোটিশে বাতিল করা কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
ভিডিও বার্তায় সারজিস আলম আদ-দ্বীন হাসপাতালের দীর্ঘ কার্যক্রমের পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, ‘২০০০ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ মানুষ এখানে চিকিৎসা নিয়েছেন। প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার মানুষ বহির্বিভাগে সেবা নেন এবং ১৫০ থেকে ২০০ জন রোগী ভর্তি হন। প্রায় ৩ লাখ মা এখানে সন্তান প্রসব করেছেন, যার মধ্যে ১ লাখ নরমাল ডেলিভারি হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখানে সিজারের ক্ষেত্রে ডাক্তার, খাবার ও ওষুধসহ পুরো প্যাকেজ মাত্র ১১,০০০ টাকা, নরমাল ডেলিভারি ৪,৫০০ টাকা এবং অতি দরিদ্রদের ক্ষেত্রে ১ থেকে দেড় হাজার টাকায় সেবা দেওয়া হয়। এছাড়া ৩৮০ টাকায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা দেওয়া হচ্ছে।’
সারজিস আলম দাবি করেন, হাসপাতালটিতে প্রায় ৭০০ বেড রয়েছে এবং শতাধিক আইসিইউ ও এনআইসিইউ বেড চালু রয়েছে। পাশাপাশি উইমেন্স মেডিকেল কলেজে প্রায় ৫৫০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত, যার মধ্যে ২০০ জন বিদেশি শিক্ষার্থী। নার্সিং কলেজে আরও ৪৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে ১,৮০০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করছেন, যার মধ্যে ১,৫০০ জন নারী।
তিনি বলেন,‘হাসপাতাল বন্ধ হওয়ায় এসব শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম এবং হাজারো কর্মীর জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।’
দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন,‘উপজেলা ও জেলা হাসপাতালগুলো এখন অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর সেবা দিতে পারছে না। রোগীরা সেখানে গেলে প্রায়ই ঢাকায় রেফার করা হয়। সরকারি ব্যবস্থার দুর্বলতা থাকলেও একই ধরনের অব্যবস্থাপনার দায়ে পুরো প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা সমাধান নয়।’
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন,‘এভাবে যদি বিচার করতে হয়, তাহলে স্বাস্থ্য, স্বরাষ্ট বা আইন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তদের পদত্যাগের প্রশ্নও আসে কি না?’
সারজিস আলম অভিযোগ করে বলেন,‘সরকার বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে দেখছে এবং কিছু প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয় টেনে এনে পুরো প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
ভিডিও বার্তার শেষাংশে তিনি বলেন, ‘অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে, কিন্তু প্রতিষ্ঠান বন্ধ সমাধান নয়। মাথা ব্যথা হলে মাথা কেটে ফেলা সমাধান হতে পারে না। আইনানুগ প্রক্রিয়ায় শাস্তি নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত সঠিক পথ।’