আফগানিস্তানে মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী অভিযান আরও জোরদার করছে ইমারাতে ইসলামিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিশেষ করে সিনথেটিক মাদকের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অবৈধ মাদকদ্রব্যের ক্রমবর্ধমান হুমকি নিয়ন্ত্রণে আনতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
রোববার (২১ জুন) অ্যারিয়ানা নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কাবুলে “যুবসমাজের মাদকাসক্তির কারণ ও প্রতিরোধের উপায়” শীর্ষক এক সেমিনারে এ বিষয়ে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাদকবিরোধী উপদপ্তরের জরিপ ও বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান আব্দুল হক মাতি।
তিনি বলেন, প্রচলিত মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তবে সিনথেটিক মাদক এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। এ ধরনের অনেক মাদক প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে আফগানিস্তানে চোরাচালানের মাধ্যমে আনা হচ্ছে।
আব্দুল হক মাতি আরও বলেন, মাদক পাচার নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের শনাক্ত, গ্রেপ্তার এবং বিচারিক কর্তৃপক্ষের কাছে সোপর্দ করার দায়িত্ব নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর ওপর দেওয়া হয়েছে। সিনথেটিক মাদক পাচার ও বিতরণ ঠেকাতে সারা দেশে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
সেমিনারে শিক্ষার্থী, মাদকবিরোধী বিভাগের কর্মকর্তা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরা অংশ নেন। তারা যুবসমাজের মাদকাসক্তির কারণ এবং তা প্রতিরোধের কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন।
কর্মকর্তারা সিনথেটিক (রাসায়নিকভাবে তৈরি মাদক) মাদককে দেশের অন্যতম গুরুতর উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন। তারা জানান, এ সমস্যা মোকাবিলায় লক্ষ্যভিত্তিক কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এসব কর্মসূচি প্রচলিত মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে আগে নেওয়া পদক্ষেপগুলোর অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা হয়েছে।
মাদকবিরোধী প্রচেষ্টায় অগ্রগতি হয়েছে বলে স্বীকার করলেও কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক বলেন, শুধু নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা দিয়ে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। মাদকাসক্তির মূল কারণ মোকাবিলায় কর্মসংস্থানের সুযোগ, শিক্ষা এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক উদ্যোগে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানান তারা।
অংশগ্রহণকারীরা বলেন, মাদক অপব্যবহারের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব কমাতে হলে পুরো মাদক সরবরাহ ব্যবস্থা কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ ও বিচ্ছিন্ন করে দিতে হবে। খুচরা পর্যায়ের বিতরণ থেকে শুরু করে বড় মাদক পাচার নেটওয়ার্ক পর্যন্ত সব স্তরেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
সেমিনারে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, মাদক প্রতিরোধে সচেতনতামূলক প্রচারণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে বেকারত্ব এবং শিক্ষায় সীমিত প্রবেশাধিকার এখনো বড় সমস্যা। এসব কারণে তরুণরা সহজেই মাদক ব্যবহারের ঝুঁকিতে পড়ে।
মাদকবিরোধী বিভাগের সহযোগিতায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় এই সেমিনারের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে তরুণদের কেন্দ্র করে আরও শক্তিশালী কর্মসূচি গ্রহণ, মাদকবিরোধী আইন অব্যাহতভাবে কার্যকর করা এবং মাদকাসক্তির অন্তর্নিহিত কারণ মোকাবিলায় আরও বেশি উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
অংশগ্রহণকারীরা একমত হন, তরুণদের মাদকাসক্তি থেকে রক্ষা করা এবং সারা দেশে মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, জনসচেতনতা, কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং আইন প্রয়োগের সমন্বয় অপরিহার্য।
সূত্র: আরিয়ানা নিউজ