
নাম প্রকাশ না করে কওমি অঙ্গনের একজন মুহাক্কিক আলেমকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। বিষদ আলোচনা করে তিনি বলেন, ওই লোক বিভিন্ন প্রভাবশালী দেশের এজেন্সির সোর্স হিসাবে কাজ করে।
আজ সোমবার (৯ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে স্ট্যাটাসটি দেন মামুনুল হক।
যুবকণ্ঠের জন্য মামুনুল হকের সেই স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো:
কিছুদিন আগের কথা। কিছুদিন মানে বেশ কয়েক মাস। আমার এক অনুজ আমাকে একটি সতর্কবার্তা দিল। সে বাংলাদেশের খুবই নির্ভরযোগ্য একজন আলেম। আমাদের কওমি অঙ্গনের হাতে গোনা কয়েকজন মুহাক্কিক আলেমের মধ্যে অন্যতম।
আত্মীয়তা ও পরিচয়ের সূত্রে ইউরোপ আমেরিকায় তার ঘনিষ্ঠ অনেকের বসবাস। তাদের অনেকে আবার সেই সব দেশে বেশ গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানেও কাজ করে। সেই অনুজ হঠাৎ একদিন আমাকে এমন একজন ব্যক্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করল, যার ব্যাপারে প্রশ্ন করাটা তার মতো লোকের জন্য স্বাভাবিক না। আমি কিছুটা বিস্মিতই হলাম। জানতে চাইলাম এই লোকের ব্যাপারে তোমার কিউরিসিটি কেন? তখন সে এক ভয়ঙ্কর তথ্য দিল। রীতিমতো গা শিউরে ওঠার মত! যার সারকথা হল ওই লোক বিভিন্ন প্রভাবশালী দেশের এজেন্সির সোর্স হিসাবে কাজ করে।
এই একই লোক সম্পর্কে আরেকজন আমাকে চাক্ষুষ তথ্য দিল, বাংলাদেশে এমন এমন জায়গায় তার এক্সেস রয়েছে যেখানে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ ছাড়া কাছে ভেড়া সম্ভব না। অথচ সে একজন সাধারণ মামুলী পর্যায়ের ব্যক্তি হয়ে দিব্যি সেই সকল সংরক্ষিত এলাকায় ঘুরে বেড়ায়। তাকে এমন অনেক জায়গায় দেখে খোদ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের চোখ চড়ক গাছে ওঠে-এই লোক এখানে এলো কিভাবে? বাংলাদেশের সামরিক বেসামরিক সকল গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় অনায়াসে তার বিচরণ লক্ষ করা যায়।
আমি যেই লোকের বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি তার নাম বললে অনেকেই বিস্মিত হবেন যে, এই লেভেলের একজন মানুষের বিষয়কে আমি কেন এতটা গুরুত্ব দিচ্ছি! মূলত আমি গুরুত্ব দিচ্ছি তার ব্যক্তিগত অবস্থানের কারণে নয়, বরং গুরুত্ব দিচ্ছি এই কারণে যে,সে এবং তার মত আরো বেশ কিছু লোক মিলে নানা ধরনের সিন্ডিকেট তৈরি হচ্ছে। যারা আমাদের অঙ্গনে ভিন্ন মহলের ভয়ংকর সব এজেন্ডা বাস্তবায়নে তৎপর রয়েছে। এই লোকগুলো আমাদের মহলে খুব গুরুত্বপূর্ণ না হলেও বিভিন্ন এজেন্সির কাছে তাদের অনেক কদর।
সাম্প্রতিক প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে আয়োজিত আলেম ও এতিমদের নিয়ে অনুষ্ঠিত প্রোগ্রামেও এই লোকগুলোর ব্যাপক প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ লক্ষ করা গিয়েছে। এতদিন যারা বিএনপি’র সাথে রাজনৈতিক লেঁয়াজোতে থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করেছে, এখন দেখা যাচ্ছে তাদের তুলনায় এজেন্সিচালিত এই লোকগুলো সরকারি মহলে অনেক বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
আমার আশঙ্কার জায়গা হল, এভাবে প্রভাব বিস্তার করে তারা আলেম-ওলামাদের অঙ্গনে ব্যাপক বেচা-কিনি ও ষড়যন্ত্রমূলক এজেন্ডা বাস্তবায়নে তৎপর হয়ে উঠবে।
আমাদের মধ্যে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি যার যাই হোক, পারস্পরিক মতভেদ যাই থাকুক, নিজেদের মধ্যকার বিষয়গুলো আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমন্বয় করতে না পারলেও মতপার্থক্যের জায়গাগুলো জানা থাকবে। কিন্তু তৃতীয় পক্ষের চর হিসেবে এই জাতীয় লোকের ভূমিকা আমাদের অজান্তেই আমাদের মাথা বিক্রি করে দিবে। আমাদের ঐক্যের জায়গা গুলোকেও তছনছ করে দিবে।




