ইরানে সামরিক অভিযানের লক্ষ্য অর্জনের প্রায় শেষ প্রান্তে আছে যুক্তরাষ্ট্র এবং এই অভিযানও শেষ পর্যায়ে আছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
স্থানীয় সময় বুধবার ও বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকালে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এ সময় তিনি জানান, ইরানে হয়তো তাদের ‘কাজ শেষ করতে’ আর দুই থেকে তিন সপ্তাহ লাগবে।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, তার দেশের সেনাবাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে বিধ্বংসী আঘাত হেনেছে। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী কেবল এক মাস আগে অপারেশন এপিক ফিউরি শুরু করেছে, যার লক্ষ্য বিশ্বের প্রধান সন্ত্রাসপৃষ্ঠপোষক দেশ ইরান।’
ট্রাম্প আরও যোগ করেন, ‘গত চার সপ্তাহে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত, সিদ্ধান্তমূলক এবং অপ্রতিরোধ্য জয় অর্জন করেছে।’
এ ধরনের দাবির সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির সামঞ্জস্য বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন যে, যুদ্ধের তথ্য প্রমাণের যাচাই ছাড়া এ ধরনের ঘোষণাকে পুরোপুরি গ্রহণ করা ঝুঁকিপূর্ণ।
ট্রাম্প বলেন, ‘আজ অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে আমি জানাচ্ছি, আমাদের কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন প্রায় কাছাকাছি আছে। গত চার সপ্তাহে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত, চূড়ান্ত ও অপ্রতিরোধ্য জয় এনে দিয়েছে। এমন জয়, যা কিছু মানুষ কখনো দেখেননি।’
ট্রাম্প আবারও দাবি করেছেন, ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরির কাছাকাছি ছিল। যদিও তিনি তার দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি। যুদ্ধ শুরুর আগে ইরান একাধিকবার জানিয়েছিল, তারা কোনো ধরনের পারমাণবিক বোমা তৈরি করছে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘আমি ২০১৫ সাল থেকে বলছি ইরানকে কখনো পারমাণবিক বোমার অধিকারী হতে দেওয়া হবে না। ইরানিরা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মৃত্যকামনা করে।’
ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে হওয়া ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে যদি তিনি বের না হয়ে আসতেন তাহলে আজ ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না।
২০১৫ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ইরানের সঙ্গে ওই চুক্তিটি করেন। যারমাধ্যমে ইরান ইউরেনিয়াম মজুদকরণের পরিমাণ কমিয়ে দিতে রাজি হয়েছিল। এর বদলে তাদের ওপর দেওয়া অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা হয়। কিন্তু ২০১৮ সালে ট্রাম্প ওই চুক্তি থেকে বের হয়ে যান।
ইরানের নৌ–বিমান বাহিনী শেষ, হামলার সক্ষমতা কমছে
ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতির উদ্দেশে ভাষণে এক মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প বলেন, আজ ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ধ্বংস হয়ে গেছে। ইরানের বেশির ভাগ নেতারা মারা গেছে। তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ও ড্রোন হামলার সক্ষমতা নাটকীয়ভাবে খর্ব হয়েছে।
ট্রাম্প এরপরে ইরান যুদ্ধে অংশ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশ বিশেষ করে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, তারা অসাধারণ কাজ করেছে। আমরা কোনোভাবেই তাদের ব্যর্থ হতে দেব না।
ট্রাম্প আরও বলেন, ইরান এসব অনেক দেশের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে স্পষ্ট হয় যে ইরানের কখনই পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত না। আগামী ২–৩ সপ্তাহে ইরানকে ‘চরমভাবে আঘাত’ করা হবে, লক্ষ্যবস্তু পাওয়ার প্ল্যান্ট
ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ‘আমরা আমাদের লক্ষ্য পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে যাব। এখন পর্যন্ত অগ্রগতির কারণে বলতে পারি, আমরা খুব শীঘ্রই যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত লক্ষ্য অর্জনে সঠিক পথে আছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে আমরা তাদের ওপর চরমভাবে আঘাত করব। আমরা তাদেরকে সেই প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে দেব, যেখানে তারা ছিল এবং তাদের থাকা উচিত।’
ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য হিসেবে বলেছেন, ‘শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন কখনো আমাদের লক্ষ্য ছিল না, তবে তাদের মূল নেতার মৃত্যুর কারণে শাসন পরিবর্তন হয়ে গেছে।’
তিনি ইরানকে সতর্কও করেছেন, যদি কোনো চুক্তি না হয়, তবে দেশের বৈদ্যুতিক উৎপাদন কেন্দ্রগুলোও আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘এই সময়ের মধ্যে যদি কোনো চুক্তি না হয়, আমরা গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যগুলোর দিকে নজর রাখব। কোনো চুক্তি না হলে আমরা তাদের প্রতিটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রকে একেবারে শক্তভাবে আঘাত করব, সম্ভবত একসাথে।’
ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ‘তার দেশের সেনাবাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে বিধ্বংসী আঘাত হেনেছে।যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী কেবল এক মাস আগে অপারেশন এপিক ফিউরি শুরু করেছে, যার লক্ষ্য বিশ্বের প্রধান সন্ত্রাসপৃষ্ঠপোষক দেশ ইরান।’
ট্রাম্প আরও যোগ করেন, ‘গত চার সপ্তাহে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত, সিদ্ধান্তমূলক এবং অপ্রতিরোধ্য জয় অর্জন করেছে।’
এ ধরনের দাবির সাথে বাস্তব পরিস্থিতির সামঞ্জস্য বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন যে, যুদ্ধের তথ্য প্রমাণের যাচাই ছাড়া এই ধরনের ঘোষণাকে পুরোপুরি গ্রহণ করা ঝুঁকিপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রে মানুষ ‘জ্বালানি মূল্যের’ বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বিগ্ন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দেশটিতে জ্বালানি মূল্য ২৫ শতাংশের বেশি বেড়ে যাওয়ায় অনেক মানুষ অর্থনৈতিক চাপ অনুভব করছেন। তিনি দাবি করেন, এই মূল্যবৃদ্ধি কেবল অস্থায়ী।
ট্রাম্প বলেন, ‘অনেক আমেরিকান সম্প্রতি দেশীয় জ্বালানি মূল্যের উর্ধ্বগতি দেখে উদ্বিগ্ন হয়েছেন। এই স্বল্পমেয়াদি বৃদ্ধি সম্পূর্ণরূপে ইরান সরকার দ্বারা প্রতিবেশী দেশে বাণিজ্যিক তেল ট্যাংকারের ওপর অযৌক্তিক সন্ত্রাসী হামলার ফল। এটি আরও একটি প্রমাণ যে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রের সঙ্গে কখনও বিশ্বাস করা যায় না।’
মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের প্রতি ট্রাম্পের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা কাজটি শেষ করব। আমরা এখন খুব কাছাকাছি।’ তিনি মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আমাদের মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের ধন্যবাদ জানাই বিশেষ করে ইসরাইল, সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইনকে। তারা অসাধারণ ভূমিকা রেখেছে, এবং আমরা কোনোভাবেই তাদের ব্যর্থ হতে দেব না।’
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমরা তাদের পাশে আছি এবং যে কোনো পরিস্থিতিতে তাদের ব্যর্থ হতে দেব না।’