পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের (বিকেএম) আমির মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক এবং মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমাদ।
সোমবার (২৫ মে) এক যৌথ বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহা ত্যাগ, আনুগত্য ও তাকওয়ার শিক্ষা নিয়ে সমাগত হয়েছে। হযরত ইবরাহিম (আ.) ও হযরত ইসমাঈল (আ.)-এর মহান কুরবানীর আদর্শ ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে ন্যায়বিচার, মানবিকতা ও আল্লাহভীতির চর্চা জোরদার করার প্রেরণা জোগায়।
তারা বলেন, দেশের মানুষ যেন নির্বিঘ্নে ঈদ উদযাপন ও কুরবানী পালন করতে পারে, সে পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। ঈদযাত্রাকে নিরাপদ ও দুর্ভোগমুক্ত করতে সড়ক, মহাসড়ক, রেল ও নৌপথে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি তারা আহ্বান জানান।
নেতৃদ্বয় আজ ২৫ মে (সোমবার) ভোরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিহাতী উপজেলার সারতৈল এলাকায় সংঘটিত ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ১৫ জন শ্রমজীবী মানুষের প্রাণহানিতে গভীর শোক প্রকাশ করেন। তারা নিহতদের রূহের মাগফিরাত, আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন, সড়ক নিরাপত্তার দুর্বলতা ও তদারকির ঘাটতির কারণে বারবার এমন দুর্ঘটনা ঘটছে উল্লেখ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ এবং কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
তারা আরও বলেন, ঈদের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায় যখন অসহায়, দরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষের মুখেও হাসি ফোটে। তাই সামর্থ্যবানদের প্রতি কুরবানীর গোশত আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও অভাবগ্রস্তদের মাঝে বণ্টনের আহ্বান জানান।
নেতৃদ্বয় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ফিলিস্তিনে চলমান গণহত্যা, ইরানসহ বিভিন্ন দেশে মুসলমানদের ওপর নির্যাতন এবং বিশ্বের নানা প্রান্তে মুসলিম উম্মাহর ওপর আগ্রাসন মানবতার জন্য লজ্জাজনক। তারা মজলুম মুসলমানদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
একইসঙ্গে তারা ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলমানদের কুরবানী আদায়ে বাধা, হয়রানি ও সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানান।
নেতৃদ্বয় সৌদি আরবে হজ পালনরত বাংলাদেশিসহ বিশ্বের সকল হাজীর জন্য হজ্বে মাবরুর, সুস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা কামনা করেন এবং মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করেন, তিনি যেন ঈদুল আজহার ত্যাগের শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে বাস্তবায়নের তাওফিক দান করেন, দেশকে শান্তি ও সমৃদ্ধিতে ভরিয়ে দেন এবং বিশ্বব্যাপী নির্যাতিত মুসলমানদের সাহায্য ও মুক্তির ব্যবস্থা করেন।