একদিকে কোটি কোটি ক্ষুধার্ত মানুষ, অন্যদিকে অনর্থক এক খেলার পেছনে গোটা পৃথিবীর সম্মিলিত উন্মাদনা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় ইসলামী আলোচক ও আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা শায়খ আহমাদুল্লাহ।
তার ভাষ্য, এই উন্মাদনা প্রমাণ করে, মনুষ্যত্বের মর্যাদা আমরা অনেক আগেই হারিয়ে ফেলেছি। পৃথিবী জুড়ে এখন কেবলই মনুষ্যত্ব-বিবর্জিত ‘খোলস-মানুষের’ বসবাস।
সোমবার (১৫ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজ ভ্যারিফায়েড অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
ফেসবুক পোস্টে শায়খ আহমাদুল্লাহ লেখেন, ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে ব্যয় হয়েছিল ২২০ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বিসলি বলেছেন, মাত্র ৪০ বিলিয়ন ডলার হলেই প্রতি বছর পৃথিবীর ৮২ কোটি ৮০ লাখ ক্ষুধার্ত মানুষের খাদ্যচাহিদা পূরণ করা সম্ভব।
জনপ্রিয় এ ইসলামী আলোচক বলেন, একদিকে কোটি কোটি ক্ষুধার্ত মানুষ, অন্যদিকে অনর্থক এক খেলার পেছনে চলছে গোটা পৃথিবীর সম্মিলিত উন্মাদনা। এই উন্মাদনা প্রমাণ করে, মনুষ্যত্বের মর্যাদা আমরা অনেক আগেই হারিয়ে ফেলেছি। পৃথিবী জুড়ে এখন কেবলই মনুষ্যত্ব-বিবর্জিত ‘খোলস-মানুষের’ বসবাস।
পোস্টটির কমেন্ট বক্সে আহমাদুল্লাহ লেখেন, চলমান ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে পৃথিবী কী পরিমাণ কর্পোরেট ক্ষতির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে, সে বিষয়ে একটি জরিপ চালিয়েছে মানবসম্পদ, বেতন ও কর্মী ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক এআই প্ল্যাটফর্ম ‘ইউকেজি’।
একটি জরিপের তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, চলতি বিশ্বকাপে কর্পোরেট দুনিয়ায় দুই লাখ কোটি টাকা ক্ষতি হতে পারে বলে তাদের জরিপে উঠে এসেছে। জরিপের তথ্য বলছে, বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোর সময়সূচির সঙ্গে মিলিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩৭ শতাংশ কর্মী তাদের কাজের রুটিন পরিবর্তন করার পরিকল্পনা করছেন। এছাড়া ২৭ শতাংশ কর্মী সরাসরি জানিয়েছেন, তারা দেরিতে অফিসে এসে আগেভাগে চলে গিয়ে কিংবা পুরোপুরি অনুপস্থিত থেকে কর্মদিবস ফাঁকি দিতে পারেন।