বিপুল অর্থের উৎস নিয়ে ওঠায় গাইবান্ধায় লাশবাড়ীতে বিতর্কিত ‘বৃহত্তম রামমূর্তি’ স্থাপন ও নির্মাণের কাজ আপাতত স্থগিত ঘোষণা করেছে শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির কমিটি। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সন্ধ্যায় মন্দিরের উপদেষ্টা শ্রী শ্যামল কুমার মহন্ত মন্দির মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন।
এসময় তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ বাংলাদেশ। শুধুমাত্র সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার স্বার্থেই রাম মূর্তি নির্মাণের কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। তবে শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দিরের সার্বিক কার্যক্রম স্বাভাবিক নিয়মে চলবে বলেও জানান তিনি।
সম্প্রতি মন্দিরটির প্রতিষ্ঠাতা শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরনী দাসের অতীত কর্মকাণ্ড ও অর্থের উৎস নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এছাড়াও ওই এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্দির কর্তৃপক্ষ বলে জানা গেছে। তবে প্রশাসন, রাজনৈতিক দল কিংবা কোনও পক্ষের চাপের মুখে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানান স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ।
এদিকে, পলাশবাড়ীতে নির্মাণাধীন ‘এশিয়ার সর্ববৃহৎ রামমূর্তি’ অপসারণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ইমাম-উলামা পরিষদ। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা মূর্তি নির্মাণ কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ এবং সংশ্লিষ্ট সকল উদ্যোগ বাতিলের দাবি জানান।
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে মন্দিরের বাইরে নির্মিত ৩০ ফুট উচ্চতার বিতর্কিত শিবমূর্তি অবিলম্বে অপসারণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বাদ আসর রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াযী বলেন, বিগত ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে ভারতের ইন্ধনে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দিরের বাইরের চত্বরে ৩০ ফুট উঁচু এবং ৩ টন ওজনের দেশের সর্বোচ্চ আদি যুগের বিশাল শিবমূর্তি তৈরি করা হয়েছে। এটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশের জন্য অপমানজনক ও আশঙ্কাজনক।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, সেখানে ৫৩ ফুট উচ্চতার আরেকটি কৃষ্ণমূর্তি নির্মাণের কাজ চলছে। এ ছাড়া টাঙ্গাইলেও আরেকটি দানবীয় বিষ্ণুমূর্তি নির্মাণাধীন রয়েছে।
হিন্দু ধর্মীয় স্থাপনার আড়ালে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার আস্তানা তৈরির পাঁয়তারা চলছে দাবি করে তিনি বলেন, এর নিরাপত্তা ও পাহারার অজুহাতে ভবিষ্যতে ভারতীয় সেনাবাহিনী মোতায়েন হতে পারে, যা স্বাধীন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি।
মাওলানা মিয়াযী বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে অমুসলিমদের উপাসনালয় বা মন্দিরের ভেতরে মূর্তি স্থাপনে কোনো বাধা নেই। কিন্তু ফ্যাসিবাদের পতনের পরপরই ৯২ ভাগ মুসলিম অধ্যুষিত দেশে মন্দিরের বাইরে দৃশ্যমান স্থানে এমন বিশাল মূর্তি নির্মাণের পেছনে কার ইন্ধন ও অর্থায়ন রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে হবে। ২৪-এর আন্দোলন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে হলেও এবারের আন্দোলন বাংলাদেশকে মূর্তিমুক্ত করার আন্দোলন হবে বলে তিনি ঘোষণা দেন।