
রিকশা প্রতীকে ভোট দিলে জাহান্নামে যেতে হবে—এমন আপত্তিকর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের এক ছাত্রনেতা। নেত্রকোনা জেলা ছাত্র জমিয়তের সভাপতির দেওয়া ওই বক্তব্যের ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট ছাত্রনেতা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নির্বাচনী প্রতীক ‘রিকশা’ মার্কায় ভোট দিলে জাহান্নামে যেতে হবে—এমন বক্তব্য দিচ্ছেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক মাধ্যমে ইসলামী অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকেই এটিকে দায়িত্বজ্ঞানহীন, অসচেতন ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে অনেকে লিখেছেন, “নেতা না খেতা! কতটা অসতর্ক ও মূর্খতাপূর্ণ বক্তব্য!” আবার কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা দলীয় বিরোধ যেন কোনোভাবেই ইসলামী রাজনীতির পরিসরে প্রবেশ না করে।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও নির্বাচন মনিটরিং সেলের সদস্য সচিব মাওলানা বাহাউদদীন যাকারিয়া এক জরুরি বার্তায় বলেন, “জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ একটি ঐতিহ্যবাহী ও আদর্শিক রাজনৈতিক দল। দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের কথাবার্তা, বক্তব্য ও আচরণ অবশ্যই সংযত হতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “কারো সম্পর্কে আপত্তিকর, বিভ্রান্তিকর বা উসকানিমূলক বক্তব্য থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকতে হবে। এমন কোনো বক্তব্য কোনো অবস্থাতেই দেওয়া যাবে না, যা জমিয়তের নীতি, আদর্শ ও ঐতিহ্যের পরিপন্থী।”
মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যারা এ ধরনের আপত্তিকর বক্তব্য দেবেন, তাদের বিরুদ্ধে জমিয়তের পক্ষ থেকে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে এমন বক্তব্য শুধু বিভ্রান্তিই নয়, বরং সমাজে বিভাজনও তৈরি করতে পারে। এ ঘটনায় দলীয়ভাবে দ্রুত অবস্থান নেওয়ায় জমিয়তের নেতৃত্বের ভূমিকা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অনেকে।




