নোয়াখালীর চাটখিলে সরকারি জমি দখল করে গড়ে তোলা একটি কথিত মাদক আস্তানা উচ্ছেদ করেছে উপজেলা প্রশাসন। স্থানীয়দের অভিযোগ, বেদেপল্লির সাধারণ বসতির আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছিল। মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে বুলডোজার দিয়ে কয়েকটি ঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
উপজেলার পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভীমপুর এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান। প্রশাসনের সঙ্গে পুলিশ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, পৌরসভা ও আনসার সদস্যরা অংশ নেন।
স্থানীয়দের দাবি, ববিতা আক্তার সুমাইয়া নামে এক নারী বেদেপল্লির মধ্যে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন একটি আস্তানা গড়ে তুলেছিলেন। সেখানে এসি, সিসিটিভিসহ নানা সরঞ্জাম ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি পতিতাবৃত্তির সাম্রাজ্য গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে গত ১৪ জুন পুলিশ ওই স্থানে অভিযান চালিয়ে মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম, এসির রিমোট ও সিসিটিভি ক্যামেরা জব্দ করে। তবে অভিযানের খবর পেয়ে একাধিক মামলার আসামি ববিতা পালিয়ে যান। এ সময় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার মেয়ে ও এক ভাগনিকে আটক করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য, সড়ক ও জনপথ বিভাগের খাস জমি দখল করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য এসব স্থাপনা ব্যবহার করা হচ্ছিল। একই সঙ্গে ওই এলাকার ওপর দিয়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ চার লেন সড়ক নির্মাণকাজও চলমান রয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবৈধ দখল উচ্ছেদের পাশাপাশি চলমান সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ নির্বিঘ্ন রাখা এবং এলাকায় সামাজিক অপরাধ দমনের লক্ষ্যেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
ইউএনও মিজানুর রহমান বলেন, সরকারি সম্পত্তি দখল করে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না। জনস্বার্থ ও উন্নয়নকাজের স্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।