ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন এলাকা।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৫ জুন) সন্ধ্যায় আঘাত হানা এই দুর্যোগের পর দেশটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)।
সংস্থাটির প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার থেকে শুরু করে ১ লাখ পর্যন্ত ছাড়িয়ে যেতে পারে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ইউএসজিএসের তথ্যমতে, স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় হঠাৎ পুরো দেশ তীব্র কম্পনে কেঁপে ওঠে। প্রথমে ৭.২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার উৎপত্তিস্থল ছিল দেশটির ক্যারিবীয় উপকূলবর্তী মোরন এলাকার পশ্চিমাংশে।
এই প্রথম ধাক্কার রেশ কাটতে না কাটতেই, মাত্র এক মিনিটের মাথায় আঘাত হানে আরও বিধ্বংসী ৭.৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি। পরপর দুটি তীব্র কম্পনে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় চারপাশ।
ভূমিকম্পের তীব্রতায় রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন শহরের বহু বহুতল ভবন, ঘরবাড়ি এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধসে পড়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কম্পন শুরু হতেই চারদিকে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং লাখ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা রাস্তায় আশ্রয় নেয়।
দুর্যোগের পরপরই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি উদ্ধারকারী দল কাজ শুরু করেছে। তবে রাস্তাঘাট ফেটে যাওয়া, বিদ্যুৎ বিপর্যয় এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় উদ্ধারকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
ভেনেজুয়েলা কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সুনির্দিষ্ট কোনো হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি। বর্তমানে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।