জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে ভাড়া বৃদ্ধির পর পাঁচদিন পেরিয়ে গেলেও বাস চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে দেশে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দেওয়ার পর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন রুটে বাসের সংখ্যা আগের থেকে অনেক কম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এতে যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তবে অধিকাংশ পরিবহনে এখনো আগের ভাড়াই নেওয়া হচ্ছে।
সোমবার রাজধানীর কয়েকটি রুট ঘুরে এবং বিভিন্ন কোম্পানির বাস কন্ডাক্টর ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্রই দেখা গেছে।
গুলিস্তান থেকে মিরপুর, রামপুরা, সাতরাস্তা রুটে দেখা যায়, তেল সংকটের আগে এ তিন রুটে যে পরিমাণ বাস চলাচল করত, এখন সেই তুলনায় বাসের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ফলে প্রতিটি বাসই যাত্রীবোঝাই। সড়কে বাস কম হওয়ায় পাল্লা দেওয়ার দৃশ্য খুব একটা চোখে পড়েনি। তবে বিভিন্ন স্টপেজে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে বাসের জন্য অক্ষো করতে দেখা গেছে।
যাত্রীরা জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের সংকট শুরু হওয়ার পর থেকেই রাস্তায় বাসের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। সেই ধারা এখনো অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে, ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু বাসের সংখ্যা আগের মতো বাড়ছে না। এতে প্রতিটি বাসেই অতিরিক্ত যাত্রী উঠছে। অনেক ক্ষেত্রে যাত্রীবোঝাই থাকায় সব স্টপেজে বাস থামছেও না। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে যাত্রীদের। বিশেষ করে অফিস খোলা ও বন্ধের সময় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বাসনির্ভর লোকজনের।
বাসের কন্ডাক্টররা জানান, সংকটের কারণে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে হয়। এতে প্রতিদিন বাসের ট্রিপ সংখ্যা কমেছে। রাস্তায় বাস নামানোও কমে গেছে। আবার নতুন সরকার আসায় যেসব বাসের কাগজপত্র ঠিক নেই, ফিটনেস নেই— সেসব রাস্তায় নামানোর ঝুঁকি এড়িয়ে চলছেন মালিকরা।
যাত্রীরা জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার তেলের দামের সঙ্গে সমন্বয় করে ভাড়া বাড়ানো হলেও এখন পর্যন্ত নতুন ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না। তারা মনে করছেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে হয়তো পরিবহন মালিকরা বেশি বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। নাহলে ভাড়া বাড়ানোর পর তা কার্যকর না করার এমন ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যায়নি।
অন্যদিকে বাস কন্ডাক্টররা বলছেন, ভাড়া বাড়ানো হলেও যাত্রীদের কাছ থেকে আগের ভাড়াই নেওয়া হচ্ছে। নতুন ভাড়ার চার্ট এখনো তারা হাতে পায়নি। যে হারে নতুন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে, তা নিয়ে তাদের মাঝে ক্ষোভও রয়েছে। মালিক পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। সে কারণে নতুন ভাড়া কার্যকর হয়নি।
এদিকে, দূরপাল্লার বিভিন্ন রুটে নতুন ভাড়া কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। তবে যাত্রীদের কাছ থেকে বর্ধিত নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত আদায়ের অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।
ইমরান হোসেন নামে একজন যাত্রী জানান, ঢাকা বরগুনার আমতলীতে আগে যেতাম ৭৪০ টাকায়। শুক্রবার ৭৬০ টাকায় টিকিট সংগ্রহ করেছি। এটা খুব একটা বেশি না। তবে একাধিক যাত্রীর অভিযোগ, নতুন ভাড়ার চেয়ে বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। ভাড়া বৃদ্ধির পর প্রথমে দূরত্বভেদে ২০ থেকে ৫০ টাকা বেশি নেওয়া হলেও এখন ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী জানান, দূরপাল্লার বিভিন্ন রুটের বেশ কিছু কোম্পানির বিরুদ্ধে নতুন নির্ধারিত ভাড়া হতে ৫০ থেকে ১৫০ টাকা বেশি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ধরনের অভিযোগ ক্রমশ বাড়ছে।