শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১, ০৮:৩০ অপরাহ্ন

শিরোনাম:

কালুখালী উপজেলায় জোয়ার নেই নৌকা-লাঙ্গলের । লড়াই হবে স্বতন্ত্রের সাথে স্বতন্ত্রের

বিশেষ প্রতিবেদক – পদ্মা এবং গড়াই নদীর স্নেহবাহুতে জড়িয়ে থাকা উপজেলার নাম কালুখালী । রাজবাড়ী জেলার ৭ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই উপজেলা । সাম্প্রতি ঘোষিত হওয়া উপজেলাগুলোর মধ্যে অন্যতম এইটি । এক সময়ের সন্ত্রাসের জনপদটির জনগণ এখন ঘুড়ে দাড়িয়েছে নিয়মতান্তিক জীবন যাপনের মধ্যে । আগামী ১৮ জুন এই উপজেলার চেয়ারম্যান নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে । প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণা চলছে হরদম । বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের নৌকা,স্বতন্ত্র আনারস এবং মটরবাইক । জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতিদ্বন্ধিতা করছে এই উপজেলায় ।
স্থানীয়রা জানান , মূলত লড়াই হবে আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে আওয়ামীলীগের । নৌকার প্রার্থী কাজী সাইফুল ইসলাম , আনারস প্রতীকের আলীমুজ্জামান টিটো এবং মটর সাইকেল প্রতীকের নূরে আলম সিদ্দিকী হক । এরা তিনজনই আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত । যদিও সাইফুল ইসলাম এবং টিটো স্থানীয় আওয়ামীলীগের সাথে জড়িত হলেও নূরে আলম হক কেন্দ্রীয় রাজনীতির সাথে জড়িত । অপদিকে আনিসুর জামান লাঙ্গলের প্রার্থী উপজেলার রাজনীতিতে একেবারেই অপরিচিত । তিনি প্রতিদ্বন্ধিতায় কোন ভূমিকা রাখবেন বলে অনেকেই মনে করেন না ।

এলাকার নানান মতের ভোটার এবং পেশাজীবী মানুষের সাথে কথা বলেছেন আমাদের প্রতিনিধি । তাদের সবার কাছেই দুইটি প্রশ্ন করা হয় । একই দলের তিন প্রার্থী ভিন্ন প্রতীকে নির্বাচণ করছেন । তাদের নিয়ে মূল্যায়ন কি এবং নৌকা শাসক দলের প্রতীক , কেমন প্রতিদ্বন্ধিতা হবে মনে করেন ।

আওয়ামী বিরোধী রাজনীতি করেন এমন একজন শিক্ষক মনে করেন ,” নির্বাচন ত্রিমূখী মনে করলেও আসলে তা হবে দ্বীমূখী । লড়বে স্বতন্ত্রের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র”। সরকারী দলের প্রার্থীর অবস্থান এখানে আঞ্চলিক রাজনীতির কাছে হার মানবে ।

অন্যদিকে এই দুইটি প্রশ্ন করা হয় অন্যদেরও । একই দলের তিন প্রার্থী ভিন্ন প্রতীকে নির্বাচণ করছেন । তাদের নিয়ে মূল্যায়ন কি এবং নৌকা শাসক দলের প্রতীক , কেমন প্রতিদ্বন্ধিতা হবে মনে করেন ।

তারা যা মনে করেন তা সংক্ষিপ্ত আকারে তুলে ধরা হলো – তাদের মতে ,যিনি নৌকা পেয়েছেন তার পেছনে নৌকার নামেমাত্র নেতা কর্মীরা কাজ করছে । সিংহভাগ কাজ করছে স্বতন্ত্র আনারসের পক্ষে এবং অল্প সংখ্যক নেমেছে মোটরবাইকের দিকে । ফলে যেহেতু অন্যদলের অধিকাংশ ভোটার কেন্দ্রে যাবে না বলে তারা তারা অনুমান করছেন ।

প্রার্থীদের ধারাবাহিক নির্বাচনী মাঠের অবস্থান –

কাজী সাইফুল ইসলাম ( নৌকা , বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ) নৌকার প্রার্থী সাইফুল ইসলাম গতটার্মে উপজেলা চেয়ারম্যান থাকার সময় তার বিরুদ্ধে নানাবিধ দূর্ণীতির অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে ,স্থানীয় নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে বেড়েছে দূরত্ব ,তার পিতার বিরুদ্ধে স্বাধীনতার বিরুদ্ধাচারণের অভিযোগ রয়েছে তার ভাইয়ের মাদক সাম্রাজ্য এবং সন্ত্রাস নিয়েও অভিযোগ আছে , অনেকে তার অতীত নিয়েও ঘাটছেন ,তার বিরুদ্ধে ডাকাতি এমনকি হত্যার মত নৃশংস ঘটনার সাথেও সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলছেন স্থানীয় অনেকে । সাথে যোগ হয়েছে সাম্প্রতিক নির্বাচনী সন্ত্রাস । ফলে নির্বাচনী দৌড়ে পিছিয়ে পড়েছেন তিনি । অন্যদিকে বিরোধী ভোটাররা যেহেতু নৌকায় ভোট দেন না সচারচর , তাই দলের ভোটারদের ভোটে এই নির্বাচনে তার জয়ী হবার সম্ভবনা কমিয়ে দিয়েছে বলে অনেকের ধারণা ।

আনিসুর জামান ( লাঙ্গল , জাতীয় পার্টি ) জাতীয় পার্টির এই উপজেলা প্রার্থীকে নির্বাচনী মাঠে একেবারেই দেখা যাচ্ছে না বা তার কোন প্রচার প্রচারণা নেই বললেই চলে । উপজেলার কোথাও তার প্রতিনিধি বা প্রচারণা দৃশ্যমান নয় । তিনি রাজনীতিতেও তেমন পরিচিত নন । ফলে এই প্রার্থীকে নিয়ে কোন মন্তব্য করতে পারছেন না কেউ ।

স্বতন্ত্র প্রার্থিদের সম্ভবনা –

নূরে আলম সিদ্দিকী হক ( মোটর সাইকেল , স্বতন্ত্র ) তিনি লোক হিসেবে সহজ সরল কিন্তু স্থানীয় রাজনীতির পাঠ এখনো পুরোপুরি আত্মস্থ করতে পারেননি । গতবার তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়েছিলেন এই উপজেলায় বর্তমান আনারসের প্রার্থী আলিমুজ্জামান টিটোর সমর্থনে । হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই করতে পেরেছিলেন মূলত অন্য প্রার্থী আলিমুজ্জামান টিটোর ভোট ব্যাংকের কারণে । টিটোর পিতা,চাচা এবং তার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থাকা কালীণ সময়ে প্রায় কয়েক যুগ জনপ্রতিনিধি থাকায় একটি ভোট ব্যাংক বর্তমান যা গতবার লড়াইয়ে হক’কে সহায়তা করেছিল । বর্তমানে আলিমুজ্জামান টিটো নির্বাচন করায় নূরে আলম হক টিটোর সমর্থন পাবেন না । ফলে তার পরিচিত আত্মীয় স্বজন এবং এলাকার বিচ্ছিন্ন কিছু ভোট তার দখলে যাবে । তবে স্বতন্ত্র আনারসের সাথে লড়াই হবে তার ।

আলীমুজ্জামান টিটো ( আনারস , স্বতন্ত্র ) সকল বিতর্কের উর্দ্ধে এবং অতীতের ক্লীন ইমেজের কারণে এগিয়ে থাকবেন এবারের কালুখালী উপজেলা চেয়া্রম্যান নির্বাচনে । তার সমর্থকদের ভাষ্য , ভোট সুষ্ঠ এবং ভোটের সুযোগ পেলে অপর দুই প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের চেয়েও বেশী ভোট পেয়ে জিতে যেতে পারেন অলিমুজ্জামান টিটো আনারস প্রতীক নিয়ে । যদিও অনেকে তার পরিবারের অন্য জনপ্রতিনিধীদের এলাকার উন্নয়নের অমনোযোগীতার অভিযোগ রয়েছে । কিন্তু তিনি নির্বাচিত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থাকা কালীণ উন্নয়ন করে সে অভিযোগ পশমন করেছেন ভালভাবেই । ফলে কালুখালী উপজেলা নির্বাচনে অধিকাংশ ভোটাররা তাকে যোগ্য মনে করে চেয়ারম্যান হিসেবে এগিয়ে রাখছেন ।

( রিপোর্টটি সংশ্লিষ্ট উপজেলার নানান শ্রেনীর কিছু পেশাজীবি এবং ভোটারদের মতামতের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা )

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved ©2020 jubokantho24.com
Design & Developed BY Masum Billah