বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ০১:৫৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
ধর্মের দোহাই দিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য বরদাস্ত করা হবে না: এমপি শিবলী ফটিকছড়িতে আমীরে হেফাজত আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীকে গণ সংবর্ধনা প্রদান পাকিস্তানে ধর্ষকদের পুরুষাঙ্গ অকেজোর সাজা অনুমোদন আগামী প্রজন্মকে ধর্মহীন বানানোর চক্রান্ত চলছে: ইসলামী ঐক্য আন্দোলন ওয়াজ মাহফিল: সমাজ সংস্কার ও শুদ্ধ মানুষ গড়ার অনন্য আয়োজন ‘বাজার-ঘাটে মুখে মাস্ক নেই, মসজিদে না পরে আসলি যত সমস্যা’ বিশ্বে একদিনে আবারো সর্বোচ্চ প্রাণহানি উইঘুর মুসলিমদের নির্যাতিত বলায় পোপকেও ছাড় দেয়নি চীন আমার কণ্ঠ চেপে ধরলেও মূর্তি ও ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে বলেই যাবো: মাওলানা মামুনুল হক আল্লামা আহমদ শফী রহ. পরিষদে মূসা সভাপতি ও রাজী সেক্রেটারী জেনারেল নির্বাচিত

ইরান পরমাণু সমঝোতা মানছে না: নেতানিয়াহুর আবিষ্কার

ইহুদিবাদী ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের মোকাবেলায় মার্কিন সরকারের সঙ্গে একজোট হতে ও ইসলামী এই দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা জোরদার করতে বিশ্ব-সমাজের কাছে দাবি জানিয়েছে।

নেতানিয়াহু বরাবরের মতই ইরানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন ও বানোয়াট অভিযোগ তুলে বলেছে, ইরান তার কয়েকটি স্থাপনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার পরিদর্শকদের ঢুকতে দেয়নি এবং পরিকল্পিতভাবে পরমাণু সমঝোতার ব্যাপারে অঙ্গীকারগুলো পদদলন করছে!

বর্ণবাদী ইসরাইল এমন সময় এ দাবি করল যখন সম্প্রতি গ্লোবাল রিসার্চ সংস্থার রিপোর্টে বলা হয়েছে যে ইসরাইল পরমাণু ও বিপজ্জনক অস্ত্রে সজ্জিত এবং বিশ্বের জন্য একটি হুমকি; আর এ বাস্তবতা অনস্বীকার্য।

বিশ্ব সমাজ ও গণমাধ্যম ইসরাইলের হুমকির ব্যাপারে নীরব রয়েছে। অথচ ইরানের বৈধ ও শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচীকে বিশ্বের কঠোরতম পরিদর্শন ও তল্লাশির আওতায় রাখা হয়েছে।

আষাঢ়ে গল্প বানাতে অভ্যস্ত নেতানিয়াহু ২০১২ সালে জাতিসংঘে বলেছিল, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির দ্বারপ্রান্তে রয়েছে! ২০১৮ সালের মে মাসে ট্রাম্প যখন ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যান তখন নেতানিয়াহু দাবি করে যে ইরানের গোপন পরমাণু কর্মসূচি রয়েছে!

মিথ্যাবাদী নেতানিয়াহু এর আগে বলেছিল ইরানের একটি গোপন পারমাণবিক গুদাম রয়েছে এবং বিস্ফোরক দ্রব্য উৎপাদন ও পরীক্ষার জন্য তা তৈরি করেছে! এইসব অপবাদের পক্ষে আজও কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ দেখানো হয়নি।

অথচ নির্ভরযোগ্য নানা রিপোর্ট অনুযায়ী ইসরাইলের কাছে কম করে হলেও ২০০’রও বেশি পরমাণু বোমা রয়েছে। আর তাই এসবের দিক থেকে বিশ্ব সমাজের দৃষ্টি দূরে রাখার জন্য ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ব্যাপারে গালগল্প বানানো ছাড়া ইসরাইল অন্য কোনো পথ খোলা পাচ্ছে না।

মার্কিন সরকার ২০১৮ সালের ৮ মে অবৈধভাবে ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যায়। এরপরও ইরান এক বছর পর্যন্ত এ সমঝোতার সব শর্ত মেনে বাড়তি কিছু শর্তও মেনে চলেছে। কিন্তু ইউরোপ এ সমঝোতার ব্যাপারে তাদের কোনো অঙ্গীকারই বাস্তবায়ন করেনি। ফলে ইরান এ সমঝোতার কয়েকটি ধারার আলোকে ভারসাম্য সৃষ্টির জন্য তার অঙ্গীকারগুলো পর্যায়ক্রমে কমিয়ে আনে। ২০২০ সালের ৫ জানুয়ারি ইরান এ সমঝোতার ব্যাপারে তার অঙ্গীকার কমিয়ে আনার পঞ্চম পর্যায় শুরু করে।

ইরানের পরমাণু সমঝোতার ২৬ ও ৩৬ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে প্রতিপক্ষ যদি এ সমঝোতার অঙ্গীকারগুলো পালন না করে তাহলে ইরান আংশিকভাবে বা পুরোপুরি এ সমঝোতায় উল্লেখিত অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়ন বন্ধ রাখতে পারবে।

ইরান গোটা বিশ্ব থেকেই পরমাণু অস্ত্র নির্মূলের দাবি জানিয়ে আসছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী ২০১১ সালের এপ্রিল মাসে তেহরানে নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ক সম্মেলনে বলেছিলেন, আমরা পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারকে হারাম বা নিষিদ্ধ এবং মানব-প্রজন্মকে এই মহাবিপদ থেকে নিরাপদ রাখার জন্য চেষ্টা চালানোকে সবারই দায়িত্ব বলে মনে করি।

এই পোষ্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন।

Design & developed by Masum Billah