বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ১০:২৯ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ
‘বাজার-ঘাটে মুখে মাস্ক নেই, মসজিদে না পরে আসলি যত সমস্যা’ বিশ্বে একদিনে আবারো সর্বোচ্চ প্রাণহানি উইঘুর মুসলিমদের নির্যাতিত বলায় পোপকেও ছাড় দেয়নি চীন আমার কণ্ঠ চেপে ধরলেও মূর্তি ও ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে বলেই যাবো: মাওলানা মামুনুল হক আল্লামা আহমদ শফী রহ. পরিষদে মূসা সভাপতি ও রাজী সেক্রেটারী জেনারেল নির্বাচিত করোনায় আক্রান্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র সচিব চরমোনাই পীর ও মামুনুল হকের কিছু হলে তৌহিদী জনতা বসে থাকবে না মাওলানা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে গাজীপুরে যুব মজলিসের বিক্ষোভ ময়মনসিংহে যুব মজলিসের বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত!! মামুনুল হক যে বক্তব্য দেন তা রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল: রাব্বানী

ইতিহাসের সাক্ষী ঐ কাচারি ঘর!! ঐ ঈমানি কেল্লা!!!

মুহতারাম হারুন ইজহার

মুফতিয়ে আ’জম ফয়জুল্লাহ রাহ.এর সাদামাটা কাচারি ঘরটি স্মৃতি হিসেবে এখনো রেখে দেয়া হয়েছে চতুর্পাশের দালান-কোঠার মাঝে।
বাংলাদেশে ও তদানিন্তন পূর্বপাকিস্তানের অবিসংবাদিত গ্র্যান্ড মুফতি এখানে বসে তাঁর সংস্কারবাদী আজান দিয়েছিলেন আলেমদের দারস দিয়েছেন, তাবলীগের পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন, ইসলামি রাজনীতিকে নসীহা দিয়েছেন, স্বৈরাচারী শাসক আইয়ুব খানেক পত্র লিখেছেন, ইসলামচর্চার প্রচলিত কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের কথা বলেছেন, ব্যক্তিকে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ইস্যুতে ফাতাওয়া প্রদান করেছেন,কালজয়ী পুস্তক সমূহ রচনা করেছেন।

আমার জন্ম ৭৪ সালে, হজরত আমার নাম রেখেছিলেন। ৭৬সালে তিনি ইনতিকাল করেন। তাঁর কোন ছবি ও স্মৃতির কথা মনে থাকার প্রশ্নই আসেনা। তবে সম্পূর্ণ অপ্রাতিষ্ঠানিক আবহে তিনি তাঁর দুই মেয়ে রহীমা এবং জয়নবকে ইসলামি উচ্চশিক্ষায় গড়ে তুলেছিলেন। আমার নানি রাহিমা খাতুন মহিলা জগতের হজরত আয়েশা রা. (এর মত) ছিলেন। নানির কাছে বড় আব্বার চিন্তাধারা আর জীবনধারা সম্পর্কে বিস্তারিত অবগত হয়েছি। নানি আমাকে তাঁর বাবা মুফতি ফয়জুল্লাহ-রচিত সবগুলো বই হাদিয়া দিয়েছেন, তিনি আমার অধ্যবসায় আর খেলাধুলাবিমুখ চরিত্রের কারণে ভীষণ ভালোবাসতেন, অন্য পৌত্র ও দৌহিত্রদের থেকে লুকিয়ে লুকিয়ে আমাকে টাকা দিতেন। আমার নওজোয়ান মামার মৃত্যুর বেদনাদায়ক রাতেও তিনি তাহাজ্জুদ কাজা করেননি। তিনি মহিলাদের অন্যতম মুফতি ছিলেন।
এই সেই কাচারি ঘর যার পাশের কামরাতে থেকে দারুল উলুম হাটহাজারী মাদরাসায় ৯৪সালে দাওরা হাদীসের পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে ছিলাম। মুফতি ফয়জুল্লাহর উস্তাদ ছিলেন ইমাম আনওয়ার শাহ কাশ্মীরি রহমাতুল্লাহ আলাইহি। এখানে বসেই আল্লামা কাশ্মীরির স্মৃতিবিজড়িত আল্লাম বিন্নুরী রচিত মাআরিফুস সুনান পুরোটা অধ্যয়ন করে শেষ করি।

আজকের দিনটি আমার জন্য স্মরনীয়। আমার মেয়ে আয়েশা ইজহারকে তার দাদা বুখারী শরীফের সবক দিয়েছেন সনদ উল্লেখ করে, যে সনদে রয়েছেন মুফতি ফয়জুল্লাহ এবং তাঁর উস্তাদ ইমাম আনওয়ার শাহ্ কাশ্মীরি রাহিমাহুমাল্লাহ।
আজকের দিনটি স্মরণীয়, পুলিশ আর গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন এসে আমাদের সাবধান করে গেছেন, হাটহাজারী মাদরাসার নাকি আগামীকাল শূরার বৈঠক আছে, তাই এ ব্যাপারে আমরা যেন কোন বিরোধিতামূলক কর্মসূচী না দেই।
আদর্শচ্যুত গুটিকয়েক লোভী অর্বাচীনের মিথ্যা প্ররোচনার বিষয়টি তারাও জানেন ও বুঝেন।
বুখারী শরীফের কিতাবুল ফিতানে একটি অধ্যায় আছে باب هلاك أمتي علي أيدي أغيلمة سفهاء
এ উম্মাহ্’র ধ্বংস কিছু নির্বোধ বালকের হাতে।

কাচারি ঘরটি আজ আমার কাছে বড়ই প্রাসঙ্গিক। ভাগ্যিস আমি তার ছবি পুরনো ফাইলে সংরক্ষণ করে রেখেছিলাম,যদিও সেটি এখনো বাস্তব জগতেও দাঁড়িয়ে আছে অতীতের গৌরব নিয়ে।
মুফতি ফয়জুল্লাহ কেন হাটহাজারী মাদরাসা ত্যাগ করলেন? এ কারণ গুলোর অনুসন্ধানের গুরু কাজটি কওমীরা এড়িয়ে গেছেন। যার মাশুল তাদের দিতে হচ্ছে এবং হবে।
আফসোস! কওমীরা টের পাচ্ছেনা তাদের অফিসিয়াল দিগন্ত থেকে আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী নামক নক্ষত্রের প্রস্থান এবং সে প্রস্থানের খেসারত কওমীদের জন্য কত বড় গায়েবি কুদরতের অভিশাপ নিয়ে আসবে ভবিষ্যতে!

মুফতিয়ে আজম ফয়জুল্লাহ মূলধারার সংশ্রব ত্যাগ করে ই’তিজালের পথ ধরেছিলেন, তখনকার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দ্বীনি আবহের এত অবনতি ছিলোনা, না হয় হজরত ই’তিজাল/পৃথক না হয়ে সরাসরি হিজরতের পথই বেঁচে নিতেন।
তিনি সরে পড়েছেন দুই কারণে
১.বিদআতে হাসানার প্রচলিত ইসলামি কাঠামোতে ইসলামের টেকসই কল্যাণ নেই।
তিনি বিপ্লব ঘটাননি তবে নববী ধারা ও সালাফের তত্ত্ব পেশ করে গিয়েছেন, এবং মেখল মাদরাসার মাধ্যমে কিছুটা নমুনাও প্রদর্শন করেছেন।
২.ফিতনাহ্’কে না বলা, যখন নসীহা বোঝার মত প্রজ্ঞা বাকি থাকেনা।
ফিতনাহ্ উম্মতে মুহাম্মদীর উপর আল্লাহ্তাআলার চাপিয়ে রাখা অলঙ্ঘনীয় বিধান যার মধ্যে আল্লাহর নিপুণ কৃতিত্বের সুক্ষ্ম বার্তা আছে।

এখন আমাদের করণীয় কি? করণীয় হলো ;
ক.
করোনার ফিতনার অব্যবহিত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে একমাত্র ঠিকানা হিসেবে মনে না করে মুফতি ফয়জুল্লাহর মত নিজ নিজ ঘরে গ্রামে পাড়ায় মহল্লায় দ্বীনচর্চা ও প্রতিষ্ঠার দুর্গ গড়ে তোলা। সালফে সালেহীনের সাদামাটা ধারায় দারস চালু করা, নিজের সন্তানকে নিজে গড়ে তোলা।
খ.
ফিতনাহ্’কে শরঈ উসূল দ্বারা মোকাবেলা করা, যার নানান রূপ পদ্ধতি রয়েছে। দৃষ্টান্ত গুলো এ আছে মুফতি ফয়জুল্লাহতে, আছে মুজাদ্দিদ আলফে সানীতে আরো গভীরভাবে।

এই পোষ্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন।

Design & developed by Masum Billah