মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ০৩:৩৫ পূর্বাহ্ন

৩০ বছর পর জানা গেল গৃহবধূটি পুরুষ

যুবকণ্ঠ ডেস্ক;

হাঁটা-চলা, কথা-বার্তা, আচারে-ব্যবহার বা শারীরিক গঠন সব কিছুতেই তিনি ছিলেন নারী। জীবনের ৩০ বছর নারী বেশেই কাটিয়েছেন তিনি। ৯ বছর আগে বিয়েও হয়েছে তার। স্বামী-সংসার করছেন ঠিকমতোই। কিন্তু হঠাৎ করেই দেখা দিলো পেটে ব্যথা। এর পরই জানা গেল তিনি আসলে পুরুষ! সম্প্রতি ভারতের বীরভূমে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো খবর দিয়েছে।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি’র এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, সম্প্রতি ওই নারীর হঠাৎ করে পেটে অসহ্য যন্ত্রণা শুরু হয়। লকডাউনের মধ্যে অনেক কষ্ট করে তাকে কলকাতার নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু ক্যান্সার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষার পর জানা যায়, ওই নারী আসলে একজন পুরুষ।
হাসপাতালের ডাক্তার তাকে বেশকিছু পরীক্ষার পর জানান, তিনি টেস্টিকুলার ক্যান্সারে ভুগছেন। আসলে তিনি জিনগতভাবে পুরুষ। কারণ পুরুষের যৌনাঙ্গের ক্যান্সারের একটি প্রকার হলো টেস্টিকুলার ক্যান্সার। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এ ধরণের ক্যান্সার শারীরিক গঠনের কারণে কোনো নারীর হওয়া সম্ভব না। এছাড়াও জন্ম থেকেই ‘অ্যান্ড্রোজেন সেনসিটিভিটি সিন্ড্রোম’ নামে একটি বিরল রোগের শিকার তিনি।
ডা. অনুপম দত্ত বলেন, তাকে দেখলে বা কণ্ঠস্বর শুনলে কোনোভাবেই মনে হবে না যে উনি জেনেটিক্যালি পুরুষ। স্তন থেকে শুরু করে জননেন্দ্রিয়, একজন নারীর মতো সব কিছুই রয়েছে তার শরীরে। কিন্তু জন্মের সময় থেকেই তার জরায়ু এবং ডিম্বাশয় কোনোটাই ছিল না। এমনকি জীবনে কখনো ঋতুস্রাবও হয়নি তার।
প্রতি ২২ হাজার মানুষর মধ্যে এক জনের শরীরে এমন রোগ থাকে। এর ফলে একটি শিশু জেনেটিক্যালি পুরুষ হিসাবেই জন্ম নেয়, কিন্তু তার মধ্যে একজন নারীর সব শারীরিক বৈশিষ্ট্য থাকে।
জানা গেছে, ওই দম্পতি গত কয়েকবছর ধরে বেশ কয়েকবার গর্ভধারণের চেষ্টা করলেও সফল হচ্ছিলেন না। তবে সম্প্রতি জানা গেল এর কারণ।
ডাক্তাররা তার স্বামীকে পরামর্শ দিয়েছেন, প্রায় এক দশক ধরে যেভাবে বিবাহিত জীবন কাটিয়েছেন ঠিক সেভাবেই বাকি জীবনটা যেন কাটান তারা।

এই পোষ্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন।

Design & developed by Masum Billah