মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ০৩:৩৩ পূর্বাহ্ন

নাজমার জন্য সবচে বেশি কষ্ট লাগছে:মাওলানা গাজী ইয়াকুব

যুবকণ্ঠ ডেস্ক;

আমার কোলে থাকা এই মেয়েটিকে আমি জলদস্যুদের হাত থেকে তিন হাজার টাকা দিয়ে ক্রয় করেছিলাম। সেদিন রহমত ভাইকে বললাম, এই বাচ্চাটিকে নিয়ে আমি কোথায় রাখবো? তখন রহমত ভাই সাথে সাথে বাচ্চাটিকে আমার হাত থেকে নিয়ে গিয়ে বললেন, আজ থেকে আমি তার বাবা আমার ওয়াইফ তার মা। রহমত ভাই খুব শখ করে দুধের বাচ্চাটির নাম রেখেছিলেন ‘নাজমা’। রহমত ভাইয়ের বুকের মধ্যে না ঘুমালে নাজমার ঘুম আসতো না রহমত ভাই যতক্ষণ পর্যন্ত বাড়িতে না আসতেন ততক্ষণ পর্যন্ত এই মেয়েটি দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতো। আলহামদুলিল্লাহ! আমি অনেক এতিম অসহায়ের বাবা কিন্তু নাজমাকে না দেখলে বুঝতাম না কোনো বাচ্চা এতটা অসহায় হতে পারে। রহমত ভাইয়ের ঘরটাকে আমিই করে দিয়েছিলাম। দীর্ঘ পাঁচ বছরে আমি রহমত ভাইকে নতুন একটা জামা লুঙ্গি গেঞ্জি কিনতে দেখি নাই। ঢাকায় আসলে আমি তার হাতে নতুন কোন কিছু তুলে দিতাম। তার প্রথম আবদার থাকতো, ভাইজান! নাজমার জন্য কিছু দিলে ভালো হয়। বাপ মাকে কেটে সমুদ্রে ভাসিয়ে দেওয়া নাজমা যখন তার মামার সাথে টেকনাফে আসতেছিল মামা নৌকা ভাড়া দিতে পারবে না বলে তিন হাজার টাকা পরিশোধ করে নাজমাকে আমি ক্রয় করে নিয়েছিলাম। আজ নাজমার জন্য সবচে বেশি কষ্ট লাগছে।

লেখক: চেয়ারম্যান, তাকওয়া ফাউন্ডেশন

এই পোষ্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন।

Design & developed by Masum Billah