শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০, ১১:১৫ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
বৃহত্তর মিরপুর-ইত্তেফাকুল মাদারিসিল এর উদ্যোগে সর্বস্তরের তৌহিদী জনতার অংশগ্রহণে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল ফ্রান্স : অসভ্যতার পৃষ্ঠপোষক আজকের বিক্ষোভ : কিছু পর্যবেক্ষণ সৈয়দ শামছুল হুদা অপরাধীর কাছে গিয়ে নরম সুরে বুঝাতে হব, সন্ত্রাসী প্রদ্ধতিতে প্রতিবাদ নয় : ফরীদুদ্দীন মাসউদ ফ্রান্স সারাবিশ্বের সামনে প্রকাশিত ক্ষমা চাইতে হবে না হয় জিহাদ ঘোষনা করলাম। মাওলানা আনিসুল হক। নিউইয়র্কে সংবর্ধিত হলেন হাফেজ কারী নাজমুল হাসান ফ্রান্সের দূতাবাস বন্ধ ও কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে-আল্লামা নূর হোছাইন কাসেমী হেফাজতের বিক্ষোভ সমাবেশ সফল করায় দেশবাসীর প্রতি আল্লামা বাবুনগরীর অভিনন্দন ভারতের ম্যাপ থেকে কাশ্মীর বাদ দিল সৌদি আরব ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোকে মুসলিম বিশ্বের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে -জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ

চকবাজারের চন্দনপুরা জামে মসজিদ : ১৫০ বছরের ঐতিহ্য ও নান্দনিকতার স্মারক

ইশতিয়াক সিদ্দিকী

ইসলামের প্রবেশদ্বার খ্যাত চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার ওয়ার্ডের সিরাজ-উদ-দৌলা সড়কে অবস্থিত চন্দনপুরা জামে মসজিদ। পূর্ণ নাম হামিদিয়া তাজ মসজিদ। এর আরও অনেক নাম আছে। এর মধ্যে মসজিদই সিরাজ-উদ-দৌলা, চন্দনপুরা বড় মসজিদ, তারা মসজিদ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। মসজিদের সুউচ্চ মিনার, দেয়াল, দরজা-জানালা থেকে শুরু করে সব কিছুতে দৃষ্টিনন্দন সূক্ষ্ম কারুকাজ। মোগল স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত মসজিদের সবচেয়ে বড় গম্বুজ তৈরি করা হয়েছে ১৩ মণ রুপা আর পিতলে। গম্বুজের চারপাশে আহলে বাইতে রাসূল সহ দুনিয়ায় জান্নাতের সুসংবাদ পাওয়া ১০ সাহাবির নাম লেখা। আইকনিক মসজিদটির ব্যাপক পরিচিতির কারণে দেশ-বিদেশের পর্যটকরা দেখতে আসেন এ মসজিদ। তারা বিস্মিত হন নির্মাণশৈলী দেখে। মসজিদের চারদিকে যেন রঙের মেলা। হরেক রঙ ব্যবহার করা হয়েছে স্থাপনার প্রতিটি অংশে। লতা-পাতার নকশা আর নানান কারুকাজে সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে সুনিপুণ হাতে। অনেক দূর থেকে দেখা যায় মসজিদটির বাহ্যিক সৌন্দর্য। সিরাজ-উদ-দৌলা সড়কের পশ্চিম পাশে মোগল স্থাপনা শিল্পের আদলে ১৮৭০ সালে মাটি ও চুন সুরকির দেয়াল আর টিনের ছাদের মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন আব্দুল হামিদ মাস্টার। তখনও মাটির দেয়ালে কারুকাজে ভরপুর ছিল। তার বংশধর ব্রিটিশ সরকারের ঠিকাদার আবু সৈয়দ দোভাষ ১৯৪৬ সালে এই মসজিদের সংস্কার কাজে হাত দেন। মসজিদের কারিগর ও নির্মাণ সামগ্রী ভারত থেকে আনা হয়। এতে সেই সময়ে প্রায় পাঁচ লাখ টাকারও অধিক খরচ হয়। চারপাশের দেয়ালগুলো ভেন্টিলেশন সিস্টেমের। দেয়ালের ফাঁক গলে ঢুকছে আলো। আলোর ঝরণাধারায় ভেতরটা করছে ঝলমল, আছে বাতাসের কোমল পরশ। আবু সৈয়দ দোভাষ একই নকশায় নগরীর কোতোয়ালীর মোড় এলাকায় শ্বশুর বাড়িতেও ১টি মসজিদ তৈরি করেছিলেন। তবে সেটি এই মসজিদ থেকে আকারে ছোট ছিল। অনেকের কাছে এ মসজিদ চন্দনপুরা বড় মসজিদ বা তাজ মসজিদ নামেও পরিচিত। এখন মসজিদটির বয়স ১৫০ বছর। চট্টগ্রামের পর্যটন শিল্পের পরিচয় তুলে ধরতে মসজিদটির ছবি ব্যবহার করা হয় দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রকাশনায়। প্রকাশনাগুলোতে এ মসজিদের ছবি থাকায় বিদেশ থেকে পর্যটকরাও আসেন এখানে। আবু সৈয়দ দোভাষ সেই সময়ে কলকাতা থেকে কারিগর ও দিল্লীসহ বিভিন্ন স্থান থেকে উপকরণ এনে প্রায় ১৩ শতক জায়গার ওপর দোতলা মসজিদটি গড়ে তুলেন। মসজিদে রয়েছে ছোট-বড় ১৫টি গম্বুজ। প্রতিটি গম্বুজে যাওয়ার জন্য আছে সিঁড়ি। গম্বুজ ও সিঁড়িতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মোগল স্থাপত্য নিদর্শনের প্রতিচ্ছবি। গম্বুজের চারপাশে রয়েছে জান্নাতের সুসংবাদ পাওয়া ১০ সাহাবীর নাম। যখন মাইকের ব্যবহার ছিল না, তখন ৪তলা সমান উঁচু মিনারে উঠে আজান দেয়া হতো। এরকম ২টি মিনার এখনও আছে। আপনি কি কখনো ঐতিহ্যবাহি এ মসজিদে নামাজ পড়েছেন?

এই পোষ্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন।

Design & developed by Masum Billah