আশরাফ মাহদি:একজন মেধাবী তরুনের গল্প

মুসা আল হাফিজ
·
আশরাফ মাহদি তখন লালবাগে ইফতা পড়ছেন। ইফতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আবেদন করা হলো, যেন ইস্তেশরাক নিয়ে লালবাগে আমি প্রতিমাসে মুহাযারা পেশ করি। এটা উন্মুক্ত হবে এবং বিভিন্ন মাদরাসার মুতাখাসসিস আলেমরা এতে অংশ নেবেন।
তাদের আন্তরিকতা ছিলো প্রগাঢ় । আমি লালবাগ যেতে শুরু করলাম। তিন মাসে তিনটি মুহাযারা অনুষ্ঠিত হলো। যথেষ্ট পরিমাণে তরুণ আলেমরা অংশ গ্রহণ করলেন।
পরের মাসে আশরাফ অত্যন্ত ব্যথিত কণ্ঠে জানালেন,উস্তাদ, ইস্তেশরাকের মতো বিষয় নিয়ে লালবাগে এভাবে আয়োজন হবে, এটা মেনে নিচ্ছেন না অনেকেই। জটিল সমস্যা দেখা দিয়েছে।
বললাম, তাহলে স্থগিত রাখো। পরিস্থিতি যেহেতু খারাপ।
আমার লালবাগে যাওয়া বন্ধ হলো। কিন্তু আশরাফ মাহদির সাথে যোগাযোগ ছিলো নিয়মিতই। আমি মাহদির নিয়মিত উস্তাদ নই। কিন্তু মাহদি উস্তাদ বলেই সম্বোধন করতেন। কিছু দিন পরপরই দীর্ঘ আলাপ হতো। মিসরে যাওয়ার পরে সেখানকার ইখওয়ান এবং ইসলামী বুদ্ধিবৃত্তির ধারাবাহিকতা ও ক্রিয়াশীলতা নিয়ে ব্যাপক পড়াশোনা করছিলেন মাহদি। আমি তাকে বলেছিলাম, নেপোলিয়নের মিসর জয় থেকে সিসি অবধি একটি বিশেষ গবেষণার জন্য। এখানে ইস্তেশরাক কীভাবে কাজ করছে? মাহদি প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন।
আমি তাঁর মতো মেধাবী ও বিনয়ী তরুণ আলেম কমই দেখেছি। মাহদির সাথে আমার আলাপগুলো আমাকে শুধু আশাবাদী করতো না, উদ্দীপ্ত করতো। বিগত কয়েক মাস ধরে যোগাযোগ হচ্ছিলো না। সেদিন ম্যাসেজ দিয়েও সাড়া মিলেনি।
মাহদি এখন বদনজরের সম্মুখীন। রাষ্ট্রিয় নিপীড়নও নেমে অাসতে পারে। মাহদিকে আমি যতটা জানি, জেনে বুঝেই মাহদি এ আগুনে ঝাপ দিয়েছেন। কারণ বিক্রিতি ও বিকৃতির এ মচ্ছবে কাউকে না কাউকে তো রুখে দাঁড়াতে হবেই।
এটি সাহসিকতা। কিন্তু মাহদি বিবেচনাবর্জিত নন। তার বিশেষ এক দিক হচ্ছে রাজনৈতিক সচেতনতা ও দৃষ্টি এবং নেতৃত্বগুণ।
মাহদি হয়তো জেলে যাবেন। নিপীড়ন বয়ে যাবে তার উপর দিয়ে। কিন্তু সমুদ্রে যে বিছানা পাতে, শিশিরে তার ভয়ের কী আছে? কওমির তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বের একটি জায়গায় মাহদির প্রতিষ্ঠা হয়তো সামনে দেখতে পাবো। এটা হতে হবে রাজনৈতিকভাবে।
প্রতিবাদগুলোকে সংগঠিত করতে হবে। এর মধ্য দিয়ে যদি বিবেচনাসম্পন্ন তারুণ্যের নতুন শক্তি মাথা তুলে,এটা হবে বিপর্যয় থেকে পাওনা।