মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ০৪:০২ পূর্বাহ্ন

জীবন খাতায় আল্লামা আযহার আলী (আনোয়ার শাহ্ রহ.)

মুফতী মনজুরুল হক নোমান:
আল্লামা আযহার আলী যিনি প্রসিদ্ধ ছিলেন আনোয়ার শাহ্ (রহ.) নামে। আনোয়ার শাহ্ একটি আলোকিত নাম, যার থেকে উদ্ভাসিত হতো হাজারো চেতনা, হতো বাতিলের প্রতিবাদ। তিনি ছিলেন উপমহাদেশের ইসলামী রাজনীতির মহাপুরুষ মুজাহিদে মিল্লাত আল্লামা আতহার আলী রহ. এর বড় ছেলে।

বংশ পরিচয়:
জন্ম ১৯৪৭ সালের ২রা জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার, সকাল ১০ ঘটিকায় কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শহীদী মসজিদ সংলগ্ন বাসায়। পিতা মুজাহিদে মিল্লাত আল্লামা আতহার আলী রহ., মাতা মুসাম্মৎ আজিজুন নিসা। তাঁরা ৫ ভাই এবং ৩ বোন।

শিক্ষা জীবন:
প্রাথমিক শিক্ষা- পূর্ণিমার চাঁদের মতো প্রোজ্জ্বল লোকটি প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন তাঁর পিতা থেকে। অতঃপর পিতার বিশিষ্ট খলিফা ক্বারী মাওলানা নেসার আলী রহ. থেকে কুরআন নাজেরা ও তাজবীদ শিক্ষা গ্রহণ করেন। বাংলা, ইংরেজি, প্রভৃতি বিষয়ে পাঠ গ্রহণ করেন সুপণ্ডিত মাস্টার আব্দুর রশিদ রহ. এর নিকট।

১৯৬০-৬১ সালে জামিয়া ইমদাদিয়ায় হাফেজ মাওলানা নূরুল ইসলাম রহ. এর তত্বাবধানে মাত্র দেড় বছরে হিফজ সম্পন্ন করেন।

মাধ্যমিক শিক্ষা- ১৯৬২-৬৪ সালে জামিয়া ইমদাদিয়ায় ইসলামী ইলমের দক্ষ আলেম, বহু গ্রন্থ প্রণেতা মাওলানা সাইয়িদ আব্দুল আহাদ কাসেমীর রহ. এর নিকট থেকে পড়া-লেখা করেন। প্রখর মেধা বিস্ময়কর প্রতিভা অধিকারী হওয়ায় এক বছরে একাধিক জামাত শেষ করতে সক্ষম হন।

উচ্চতর শিক্ষা- পিতা মরহুমের নির্দেশে ১৯৬৪ সালে পাকিস্তানের করাচিতে উচ্চতর শিক্ষা লাভে সফর করেন। সেখানকার বিখ্যাত বিদ্যাপিঠ জামিয়া আরাবিয়া ইসলামিয়া নিউটাউনে দাখেলা নেন। সেই ইলমী কানন থেকে তাফসীর, হাদীস ও ফিকহসহ বহু বিষয়ে বিশেষ পাণ্ডিত্য অর্জন করেন।
১৯৬৭ সালে পাকিস্তানের বেফাকুল মাদারিসের অধীনে অনুষ্ঠিত দাওরায়ে হাদীসের কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন।

উল্লেখ্য যে, তিনি জামিয়া নিউটাউনে আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রেরিত ৪ জন খ্যাতিমান উস্তাদ থেকে আরবী সাহিত্য ও তাজবীদুল কুরআন শিক্ষা লাভ করেন।

কর্মজীবন:
মাওলানা আনোয়ার শাহ্ রহ. ধারাবাহিক শিক্ষা সম্পন্ন করে কর্মজীবনে আত্মনিয়োগ করেন। ১৯৬৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ঐতিহাসিক শহীদী মসজিদের সহকারী ইমাম এবং ঐতিহ্যবাহি ইলমী কানন জামিয়া ইমদাদিয়ায় সিনিয়র শিক্সক হিসেবে যোগদান করেন। তখন হযরতের বয়ষ ছিলো ২১ বছর।

স্বাধীনতাউত্তর দুর্যোগকালে জামিয়া ইমদাদিয়া বন্ধ হয়ে গেলে হযরতের অধ্যাপনাও বন্ধ থাকে। অধ্যাপনা বন্ধের সুযোগে মাওলানা আনোয়ার শাহ্. সুন্নতী নববী হিসেবে কিছুদিন কাপড়ের ব্যবসা করেন।

১৯৭৫-৭৬ সালে ময়মনসিংহের ঐতিহাসিক বিদ্যাপিঠ জামিয়া ইসলামিয়া মোমেনশাহীতে সিনিয়র মুহাদ্দিস ও বাজিমে তা’লীমাতের দায়িত্ব পালন করেন।

মাওলানা আনোয়ার শাহ্ রহ. অসীম আত্মত্যাগ এবং বিশেষ প্রচেষ্ঠায় দুর্যোগউত্তর জামিয়া ইমদাদিয়া পূনরুদ্ধার হয়। ১৯৭৭ সালে পূনরায় তিনি সিনিয়র মুহাদ্দিস হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন।
১৯৭৯ সালে অত্র জামিয়ায় ভাইস প্রিন্সিপাল নিযুক্ত হন।

প্রিন্সিপাল মাওলানা আহমদ আলী খাঁন রহ. স্বাস্থ্যগত কারণে দায়িত্ব পালনে অক্ষমতা প্রকাশ করলে মজলিসে শুরার পরামর্শক্রমে ১৯৮৩ সালে জামিয়ার প্রিন্সিপাল পদে উন্নিত হন। জামিয়ার গুরুতর দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি ঐতিহাসিক শহীদী মসজিদের খতিবের দায়িত্বও পালন করেন। তিনি শহীদী মসজিদের মুতাওয়াল্লিও ছিলেন।

হযরত আনোয়ার শাহ্ রহ. তাঁর জীবনটা সাদাসিধেভাবে বাবা আতহার আলী রহ. এর মতো এক কর্মবহুল জীবন হিসেবে পার করেছিলেন।

(আল্লাহ তা’আলা হযরতের সকল খেদমত কবুল করে জান্নাতের উঁচু মাকাম দান করুন)

চলমান…….

এই পোষ্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন।

Design & developed by Masum Billah