বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০, ০৭:২৮ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ
ফ্রান্সের পণ্য বর্জন ও কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে -আল্লামা মাহফুজুল হক সিএমএইচে এমপি আবু জাহির বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস যুক্তরাজ্য শাখার ভার্চুয়াল নির্বাহী সভা অনুষ্ঠিত.. অবশেষে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে নিন্দা জানিয়েছে সৌদি আরব ইসলামী আন্দোলনের দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা বিশ্বজুড়ে পণ্য বর্জনের ডাকে প্রবল ঝুঁকিতে ফ্রান্সের অর্থনীতি বয়কট ফ্রান্স আন্দোলন: রেচেপ তায়েপ এর্দোয়ান ফরাসী পণ্য বর্জনের ডাক দিলেন ফ্রান্সের তাগুতী শক্তি অচিরেই ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে। আবার জেগেছে হেফাজত: শুক্রবার দেশব্যাপী বিক্ষোভের ডাক মুসলমানদের কটাক্ষ করে রীতিমতো খলনায়ক বনে গেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট

আল্লাহর রাস্তায় কাটানো মুহূর্তটি ছিলো জীবনের সেরা মুহূর্ত :ড. আসিফ নজরুল

আমি প্রথম তবলীগে যাই ১৯৯৮ সালে। তখন লন্ডনে ছিলাম। পিএইচডির দুশ্চিন্তায় মাথা খারাপ অবস্থা আমার। পিএইচডি না হলে দেশে ফিরবো না কখনো – এটা ভেবে কান্না আসতো। আত্নহত্যা করবো কিনা এমনকি এই চিন্তাও আসতো মাথায়।
এমন ছিন্নভিন্ন মানসিক অবস্থায় আমার প্রতিবেশী হয়ে আসেন আমার একজন কলিগ। তিনি আইন বিভাগে আমার সিনিয়র শিক্ষক লিয়াকত আলী সিদ্দিকী। ছাত্রজীবনে একসময় বিতার্কিত হিসেবে নাম করেছিলেন। প্রথমদিকে পড়তেন জিনস, টি-শার্ট আর কেডস। অল্পদিন পর থেকে পুরো ইসলামী পোষাক।
তিনি আমার মানসিক অবস্থা বুঝতে পেরেছিলেন। প্রায় প্রতিদিন ডেকে খাওয়াতে নিয়ে যেতেন, পড়াশোনা নিয়ে বেশী চিন্তা করতে মানা করতেন। তিনি নিজে লন্ডনে মাষ্টার্স শেষ করার একমাস আগে দীর্ঘদিনের জন্য তবলীগে চলে গিয়েছিলেন, ডিগ্রীটা শেষ করেছিলেন ছয় বছর পর। এ দুনিয়ার সাফল্য, খ্যাতি, অর্জন সত্যি তুচ্ছ তার কাছে। কাজেই তিনি এসব বললে মন দিয়ে শুনতাম।
কিছুদিন পর জানা গেল তিনি আবার তবলীগে যাচ্ছেন লীডস্-এ। আমিও যেতে রাজী হলাম। চারদিনের পড়া শিকেয় তুলে রাখার এই সাহস কিভাবে পেলাম জানিনা। ফোনে স্বজনদের জানিয়ে দিলাম কোন যোগাযোগও করতে পারবো না কয়েকদিন।
মক্কার হজযাত্রীদের মতো পবিত্র মনে রওয়ানা দিলাম লীডসের পথে। বাসে সবাই দোয়া দরুদ পড়ছে, আমিও যোগ দিলাম। সেখানে গিয়ে দেখি বিভিন্ন দেশের ছাত্রদের মেলা। কাউকে চিনিনা, কিন্তু কয়েক মূহূর্তে এমন আপন হয়ে গেল সবাই। চোখাচোখি হলে হাসে, সালাম দেয়, খাবার নিতে গেলে এ ওকে ঠেলে দেয় আগে, কোন একটা সাহায্য করার জন্য মুখিয়ে থাকে সবাই।
দিনরাত গোল হয়ে বসি। একজনের পর একজন সুরা পড়ি। কেউ কেউ ধর্মের বয়ান দেন। দোযোখ- বেহেস্তের বিবরণ না, সেখানে শুধু ভালো, নি:স্বার্থ আর সৎ হওয়ার শান্ত আহবান আর সৃষ্টি রহস্যের আকুল অনুসন্ধান।
তাড়া নেই, অপেক্ষা নেই, চিন্তা নেই- আশ্চর্য এক প্রশান্তিময় সময়। ঘুমাতে গেলে ঘুম আসে, গভীর ঘুম অনায়াসে ভাঙ্গে আজানের শব্দে। যেটা খাই অমৃতের মতো লাগে, যতোটুকু খাই মন ভরে থাকে। বুকের ভেতর আচড় নেই, নেই দাহ, হাহাকার! কিসের পিএইচডি, কিসের ঘর-সংসার। মনে হলো যাবো না এজায়গা ছেড়ে কোনদিন আর।
আমার জীবনে তীব্রতম, অবিশ্বাস্য, দু:সাহসী আর অপার আনন্দের বহু স্মৃতি আছে। কিন্তু সবচেয়ে প্রশান্তিময় দিন কেটেছে লীডস্-এর মসজিদে। যে সৃষ্টিকর্তাকে আমি ছোটবেলা থেকে খুজি গাছের নবীন পাতা, আকাশের অবিরাম বদলে যাওয়া, দুর নক্ষত্রের নিশ্চল আলোয় আর মাঝরাতে অবিশ্রান্ত বৃষ্টির ঘোর লাগানো বর্ষণে, লীডস্-এ আমি তাকে অতি সামান্য হলেও অনুভব করতে পেরেছিলাম। যে শান্তি আমি পেয়েছি সেই চারদিন তা আর পাইনি আগে পরে কখনো।
জীবনের সব দায় শোধ হলে আমি একদিন আবার চলে যাবে তার খোঁজে। অনন্তকালের জন্য। জানিনা তিনি আমাকে সে সুযোগ দিবেন কিনা।
লেখক : ঔপন্যাসিক, রাজনীতি-বিশ্লেষক, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, কলামিস্ট, ও অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

এই পোষ্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন।

Design & developed by Masum Billah