মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
ইসলামের দৃষ্টিতে মূর্তি ও ভাস্কর্য ভাস্কর্য না করে স্মৃতি মিনার করুন, তাতে বঙ্গবন্ধুর আত্মা শান্তি পাবে : মুফতী ফয়জুল করীম মহাখালীতে সাততলা বস্তিতে আগুন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন জামালপুর-২ আসনের এমপি ফরিদুল হক খান মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ কে অনতিবিলম্বে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে: সম্মিলিত কওমী প্রজন্ম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইসলামে মূর্তি ও ভাস্কর্য অবৈধ: ড. ইউসুফ আল-কারযাভী ভাস্কর্য ও মূর্তির অপব্যাখ্যাকারীরা হক্কানী আলেম হতে পারে না : বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন নামাজরত অবস্থায় ইমামের মৃত্যু উগ্রবাদী ও পাকিস্তানপন্থীরা এখন হেফাজতের নেতৃত্বে: মাওলানা জিয়াউল হাসান সময় এসেছে ওআইসির নেতৃত্বে সর্বভারতীয় মুসলিম দল গড়ার

আল্লামা বাবুনগরীকে নিয়ে নির্জলা মিথ্যাচারের জন্য সাইফিকে ক্ষমা চাইতে হবে

 জুনাইদ আহমেদ
এদেশের লক্ষ কোটি মুমিনের প্রাণের স্পন্দন আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী হাফিজাহুল্লাহু ও আল্লামা মামুনুল হক সাহেবকে নিয়ে নির্জলা মিথ্যাচারের জন্য মাওলানা দেলোয়ার সাইফি সাহেবকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।
সম্প্রতি দেলওয়ার হুসাইন সাইফি সাহেব তাঁর এক ভিডিও বক্তব্যে বলেছেন যে,আল্লামা আহমদ শফী সাহেবের ইন্তেকালের পর ওনার খাটিয়ার সামনে কাউকে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। আমার জানামতে একমাত্র জুনায়েদ বাবুনগরী সাহেবের হাতে মাইক,ওনি নিয়ন্ত্রণে রাখছেন। কাউকে কথা বলতে দেন নাই। এক পর্যায়ে শুনা গেলো মামুনুল হক তুমি কথা বলো। মামুনুল হক কে…….?
✍ সাইফি সাহেব বললেন- একমাত্র বাবুনগরী সাহেবের হাতে মাইক,তিনি নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন….
এ কথা নির্জলা মিথ্যা। মাদরাসা কর্তৃপক্ষের পরামর্শক্রমে জানাযায় আগত মুসল্লীদের দিকনির্দেশনা ইত্যাদির জন্য সেদিন মাইকের জিম্মাদারিতে আল্লামা বাবুনগরী সাহেব দা.বা.,মুফতী জসিমউদদীন সাহেব দা.বা.,মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী সাহেব দা. বা. এই তিনজন ছিলেন। তন্মধ্যে আল্লামা বাবুনগরী হযরত পরিচালনা করেননি। সুতরাং, মাইক একমাত্র বাবুনগরী সাহেবের নিয়ন্ত্রণে ছিলো,তিনি কাউকে কথা বলতে দেননি, এমন নির্জলা মিথ্যাচারে জাতি হতভম্ব।এমন মিথ্যাচার আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি। এতো মিথ্যা সাইফি সাহেব কেমনে বলতে পারেন?
আল্লামা বাবুনগরী হাফিজাহুল্লাহু মাইক নিয়ন্ত্রণে নেবেন তো দূরের কথা মানুষের হুজুম আর ভীরের কারণে তিনি তো সেদিন জানাযা পড়ার জন্য লাশের কাছেই যেতে পারেননি। জানাযার আগেই হযরতকে শেষবারের মতো মনভরে দীর্ঘ সময় দেখেছিলেন।
হযরতের লাশ রাখা হয়েছিলো উপজেলা পরিষদে,আর অতিরিক্ত ভীরের মধ্যে লাশের কাছে গিয়ে নামাজ পড়তে চাইলে মুসল্লিদের কষ্ট হবে ; তাই বাবুনগরী সাহেব নামায পড়েছেন মাদরাসার ভেতরে। তো মাদরাসার ভেতর থেকে লাশের কাছের মাইকের নিয়ন্ত্রণ তিনি কেমনে নিলেন ? হাটহাজারী মাদরাসার ভেতর থেকে উপজেলা পরিষদ কতদূর আপনি জানেন? জানবেন কেমনে,আপনি কি হাটহাজারী আসেন? হাটহাজারীর মুরুব্বিদের সাথে তো আপনার কোন সম্পর্কই নেই।
বিস্তারিত না জেনে অর্বাচীন বালকের মতো পাগলের প্রলাপ কেন বকলেন সাইফি সাহেব ? নাকি দালালী করার সময় মাথায় হুঁশ জ্ঞান বলতে কিছুই থাকে না?
✍ সাইফি সাহেব বলেছেন- বিভিন্ন জনের জানাযার বক্তব্য দিতে দেওয়া হয় কিন্তু আল্লামা আহমদ শফী সাহেব এর
জানাযার আগে কাউকে বক্তব্য দিতে দেওয়া হয়নি…..
সাইফী সাহেবের এ কথা ডাহামিথ্যে,ভূয়া ও কল্পনাপ্রসূত। জানাযার আগে কাউকে বক্তব্য দিতে দেওয়া হয়েছে কিনা সেটা সাইফি সাহেব কেমনে জানবেন! তিনি তো জানাযায় না গিয়ে বদ্ধ ঘরে বসে ছিলেন।
জানাযার আগে লম্বাচওড়া বক্তব্য দিয়ে জানাযায় বিলম্ব করা হাদীস শরীফে নিষেধ করা হয়েছে। সাইফি সাহেব নিজেকে আলেম দাবী করেও কি এ বিষয়টা জানেন না ? আসলে হিংসার বশিভূত হয়ে সমালোচনা করতে গেলে এসব মাথায় থাকে না ।
হযরত আলী ইবনু আবূ তালিব (রাদি.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বলেনঃ হে আলী! তিনটি কাজে দেরি করবে না। নামায- যখন ওয়াক্ত হয়ে যায়; জানাযা- যখন উপস্থিত হয় এবং বিধবা- যখন তার যোগ্য পাত্র পাওয়া যায়।
আকাবীরীনে হাটহাজারীর উসুল আর নীতিও এটাই। তাঁরা জানাযার পূর্বে লম্বাচওড়া বক্তব্য দিয়ে জানাযায় বিলম্বিত করেন না।
✍ সাইফি সাহেব বললেন- একপর্যায়ে শুনা গেলো (বাবুনগরী সাহেব বললেন-)
মামুনুল হক তুমি কথা বলো….
একথাও পূর্বেরগুলোর ন্যায় ডাহামিথ্যে। আল্লামা বাবুনগরী হাফিজাহুল্লাহু এমন কোন কথাই বলেননি। সব অডিও ভিডিও আছে। অনেকেই সরাসরি লাইভ সম্প্রচার করেছেন। সেদিন মামুনুল হক সাহেব কোন বক্তব্যও দেননি। সাইফি সাহেব কি পারবেন তার দাবীর পক্ষে প্রমাণ দিতে? কস্মিনকালেও পারবেন না। মিথ্যা কথার আবার প্রমাণ কেমনে দেবেন। এই বুড়ো বয়সেও এতো মিথ্যা সাইফি সাহেব কেমনে বলেন আমার বুঝে আসে না।
✍ সাইফি সাহেব বললেন- সেদিন জানাযার আগে কাউকে কথা বলতে দেওয়া হয়নি…
এটাও সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। আল্লামা আহমদ শফী সাহেব হুজুরের পরিবার ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেদিন জানাযার পূর্বে সংক্ষিপ্ত আকারে
আল্লামা বাবুনগরী হাফিজাহুল্লাহু,আল্লামা শেখ আহমদ দা.বা., আল্লামা নোমান ফয়জী দা.বা., মুফতী জসিমউদদীন দা.বা.,মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী দা.বা.,হুজুরের সাহেবযাদা মাওলানা ইউসুফ দা.বা. আলোচনা করেছিলেন। এবং ইউসুফ সাহেব নিজের সময় থেকে স্থানীয় এমপি মহোদয়ের সম্মানার্থে তাঁকে দুই মিনিট আলোচনার সুযোগ দিয়েছিলেন।
এই সাতজন বক্তব্য দেওয়ার পরও সাইফি সাহেব বললেন,কাউকে বক্তব্য দিতে দেওয়া হয়নি! কাউকে বলে তিনি কাকে বুঝাতে চাচ্ছেন? কাকে বক্তব্য দিতে দিলে তিনি খুশী হতেন? আর এটা বক্তব্যের মাঠ ছিলো যে,সবাইকে বক্তব্যের সুযোগ দিতে হবে?
হেফাজত আন্দোলনের সময় আল্লামা আহমদ শফী রহ. এর বিরোধিতাকারী
সাইফি সাহেব আজ কেন এতো মায়াকান্না দেখাচ্ছেন? এর পেছনে রহস্য আর ষড়যন্ত্র কি? কার দালালী করার জন্য,কাকে খুশী করার জন্য তিনি এই বুড়ো বয়সে ভিডিও বক্তব্যে এতোগুলো মিথ্যা কথা বললেন? লা’নাতুল্লাহি আলাল কা-জিবীন…।
দালালীর দিন শেষ। তরুণরা জেগে উঠেছে। এখন আর সাতপাঁচ তেরো বলে ধোঁকা দেওয়া যাবে না।লক্ষ কোটি মুমিনের প্রাণের স্পন্দন আল্লামা বাবুনগরী হাফিজাহুল্লাহু এবং তারণ্যের অহংকার আল্লামা মামুনুল হক সাহেবকে নিয়ে এমন নির্জলা মিথ্যাচার ও কল্পনাপ্রসূত এসব কথা বলার জন্য দেলোয়ার হুসাইন সাইফি সাহেবকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।

এই পোষ্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন।

Design & developed by Masum Billah