শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০, ০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
ফ্রান্স : অসভ্যতার পৃষ্ঠপোষক আজকের বিক্ষোভ : কিছু পর্যবেক্ষণ সৈয়দ শামছুল হুদা অপরাধীর কাছে গিয়ে নরম সুরে বুঝাতে হব, সন্ত্রাসী প্রদ্ধতিতে প্রতিবাদ নয় : ফরীদুদ্দীন মাসউদ ফ্রান্স সারাবিশ্বের সামনে প্রকাশিত ক্ষমা চাইতে হবে না হয় জিহাদ ঘোষনা করলাম। মাওলানা আনিসুল হক। নিউইয়র্কে সংবর্ধিত হলেন হাফেজ কারী নাজমুল হাসান ফ্রান্সের দূতাবাস বন্ধ ও কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে-আল্লামা নূর হোছাইন কাসেমী হেফাজতের বিক্ষোভ সমাবেশ সফল করায় দেশবাসীর প্রতি আল্লামা বাবুনগরীর অভিনন্দন ভারতের ম্যাপ থেকে কাশ্মীর বাদ দিল সৌদি আরব ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোকে মুসলিম বিশ্বের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে -জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ বিক্ষোভে উত্তাল ঢাকা: ফ্রান্সের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্নের দাবি

ধর্ষণ প্রতিরোধে পর্দার গুরুত্ব : বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ি

যুবকণ্ঠ ডেস্ক;
ধর্ষণ আসলে ঠিক কী? মোটাদাগে ধর্ষণ মানে ক) জোরপূর্বক খ) অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক। অর্থাৎ ধর্ষণ হচ্ছে একই সঙ্গে সন্ত্রাস ও যিনা-ব্যভিচার। এ দুটি বিষয় একসাথে না আনলে ধর্ষণের প্রকৃতি বুঝা যাবে না এবং খন্ডিত বক্তব্যের মাধ্যমে বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ির পরিবেশ তৈরি হবে।
১) সেকুলারদের ভুল ও প্রান্তিকতা
সেকুলাররা প্রথম অংশে বেশী জোর দেয়। তাদের মতে এখানে সন্ত্রাসটাই মূল বিষয় ; একপাক্ষিক ব্যভিচার কিংবা উভয়পক্ষের সম্মতিতে ব্যভিচার প্রতিপাদ্য নয়। বলতে গেলে ব্যভিচারের অস্তিত্বই স্বীকার করে না তারা। নিঃসন্দেহে এই চিন্তা ভুল ও প্রান্তিকতার শিকার।
কেননা মানুষ সামাজিক জীব। একজনের যৌনজীবনের সাথে অনেক কিছুই জড়িত। ফলে এটা কোনভাবেই ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিষয় নয়। অবাধ যৌনতা বৈবাহিক জীবনে ধ্বস নামিয়ে আনতে পারে, খুলে দিতে পারে ধর্ষণের পদ। এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হচ্ছে ‘বিবাহের প্রলোভনে ধর্ষণ’। ‘বিবাহের প্রলোভনে ধর্ষণ’ স্বেচ্ছায় যৌনসম্পর্ক হলেও সেটা একসময় ধর্ষণে রুপান্তরিত হয়ে যায়। মজার বিষয় হচ্ছে সেকুলারদের কাছে ব্যভিচার বলে কিছু না থাকলেও ‘ম্যারিটাল রেপ’ এর অস্তিত্ব আছে। সে অন্য আলাপ, তবে এর সাথে সংশ্লিষ্ট।
পাশাপাশি ইসলামপন্থীদের কেউ কেউ ধর্ষণকাণ্ডে শুধু ব্যভিচারকেই মূল হিসেবে উল্লেখ করে থাকেন। সন্ত্রাসের বিষয়টি আলোচনায় আনেন না। মূলত ক্লেদযুক্ত দৃষ্টি ও সংকীর্ণ কল্পনা থেকে এর সূচনা হয়।
ইসলাম বড় গুনাহের ডালপালাগুলোকেও হারাম আখ্যা দিয়েছে, যাতে কোনভাবেই বড় গুনাহ সংঘটিত না হয়। তাই ব্যাভিচারের মতো কুদৃষ্টি-কুকল্পনাও হারাম। আপনি যদি বাড়ির দরজা বন্ধ করে রাখেন, তবে বাড়িতে ঢুকে চুরি করার আশঙ্কা অনেক কমে যায়। ধর্ষণের প্রেক্ষিতে পর্দার প্রসঙ্গটা দরজা বন্ধ রেখে চুরি বন্ধ করার চেষ্টার মতো।
চোর যদি অস্ত্র ব্যবহার করে, যদি দরজা ভেঙ্গে ফেলে, তবে আপনি দরজা বন্ধ করেও তো চুরি আটকাতে পারবেন না। একটু কঠিন করতে পারবেন বড়জোর। ধর্ষণের ক্ষেত্রেও একইকথা। ধর্ষণ রোধে পর্দা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যেমন চুরিরোধে দরজা বন্ধ রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তবে দরজা বন্ধ রাখলেই চুরি বন্ধ করতে পারবেন না। একইভাবে পর্দা করলেও ধর্ষণ সম্পূর্ণ বন্ধ হবে না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও অবাধ যৌনতা চর্চার পথ বন্ধ করতে হবে।
২) সেকুলারদের ভুলবুঝাবুঝি : ছাড়াছাড়ি
এই দুই প্রান্তিকতা কেন তৈরি হল, সেটা একটু ব্যাখ্যা করা যাক। সেকুলাররা ইসলাম ও ইসলামি বিধিবিধান সহ্য করতে পারে না। সেকুলারিজমে সমস্যা আছে, সেটা তারা ভাবতেই পারে না। ধর্ষণকে নিছক সন্ত্রাস আখ্যা দেওয়া, পর্দাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা—এটা সেকুলারদের দার্শনিক অবস্থান। সেকুলারদের ফ্রি-উইলের ধারণা থেকে এর জন্ম হয়েছে। আপনি অন্যকে ক্ষতি না করলে সেটা অপরাধ নয়—এই হচ্ছে সেকুলারদের মতামত।
কিন্তু যাদের মনে ইনসাফ আছে তারা একটু ভেবে দেখুন তো—যদি অবাধে কুদৃষ্টি-কুকল্পনা করতে দেওয়া হয়, নারী-পুরুষকে অবাধে নির্জনে যেতে দেওয়া হয়, তবে সন্ত্রাসের হার কি বেড়ে যাবে না? মানুষ ফেরেশতা নয়। প্ররোচিত হতে থাকলে ভালোমানুষও অপরাধ করে ফেলে। যদি দেশে চলতে থাকে দুর্ভিক্ষ, আর টিভিতে সারাদিন চলতে থাকে খাবারের শো, পাশের বাড়ির ধনীব্যক্তি রাতে দরজা খুলে রাখলে ভালো মানুষেরাও ধনীব্যক্তির খাবার লুট করতে যাবে। এটা কি কমনসেন্স নয় ? ঠিক পর্দাও একইভাবে কমনসেন্স।
৩) ইসলামপন্থীদের ছাড়াছাড়ি
তবে পর্দা যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক, মনে রাখতে হবে ধর্ষণ একইভাবে সন্ত্রাস। জোর-জবরদস্তি ছাড়া ধর্ষণ সম্পাদিত হতে পারে না। এ কারণেই ধর্ষণের ব্যাখ্যায় সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসী ক্ষমতার কথা উল্লেখ করা অত্যন্ত জরুরী। ইসলামে এক্ষেত্রে একটি বিশেষ পরিভাষা ব্যবহার করা হয়, সেটি হচ্ছে হিরাবাহ। যদি তাই হয়, তবে ধর্ষণের ক্ষেত্রে সন্ত্রাস, অবৈধ ক্ষমতাচক্র ও অবিচারের সংস্কৃতির কথা তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরী বিষয়। আইন অবিচারব্যবস্থা ছাড়া কোন নৈতিকতা-ধার্মিকতা টিকিয়ে রাখা যায় না।
সেকুলার ক্ষমতাকাঠামোর চাপে ইসলাম বলতে এখন শুধুই কিছু নৈতিক শিক্ষা টিকে আছে। ইসলামি আইন ও শরিয়ার দিকগুলো চাঁপা পড়ে গেছে। আলেমরা এখন হয়ে গেছেন নিছক নৈতিকতার প্রচারক—ইসলাম মানে একইভাবে আইন ও রাষ্ট্র, তারা এটা বলতে বারবার ভুলে যাচ্ছেন। ধর্ষণকে নিছক পর্দার মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেওয়া এটা ইসলামের দিক থেকেও সমস্যাজনক বক্তব্য, এটা ভালোভাবে বুঝা দরকার। রাষ্ট্র ও আইন ছাড়া পরিপূর্ণভাবে ইসলাম বাস্তবায়ন সম্ভব নয়, ধর্ষণের বিচার করা সম্ভব নয়।
পর্দা যেমন ইসলাম। তেমনি একইভাবে ধর্ষণ প্রতিরোধী আইন, বিচারব্যবস্থা ও রাষ্ট্রও ইসলাম। শুধু পর্দাতে সীমাবদ্ধ হয়ে যাবার মানে ইসলামকেও ছোট করে ফেলা। প্রশ্ন হচ্ছে, যে দুর্বল মুসলমানরা পর্দার প্রসঙ্গ টেনে আনছেন, তারা কি ইসলামি আইন ও রাষ্ট্র কায়েমে আগ্রহ বোধ করেন, সেটাকে ধর্মীয় দায়িত্ব মনে করে তারা কি সেজন্য পার্থিব সুবিধা ছাড়তে প্রস্তুত? অধিকাংশই প্রস্তুত। যদি প্রস্তুত না হন, তবে তাদের ভাগ্যে এমন দুর্বলচিত্তের আলেমরাই আসবেন বারবার। জাতি যেমন, আলেমও তেমন।
কুদরত কোন জাতির সম্মিলিত পাপ সম্মিলিত তাওবা ছাড়া ক্ষমা করেন না।
Iftekhar Jamil (ঈষৎ সম্পাদিত)

এই পোষ্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন।

Design & developed by Masum Billah