বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০, ০৩:২৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস যুক্তরাজ্য শাখার ভার্চুয়াল নির্বাহী সভা অনুষ্ঠিত.. অবশেষে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে নিন্দা জানিয়েছে সৌদি আরব ইসলামী আন্দোলনের দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা বিশ্বজুড়ে পণ্য বর্জনের ডাকে প্রবল ঝুঁকিতে ফ্রান্সের অর্থনীতি বয়কট ফ্রান্স আন্দোলন: রেচেপ তায়েপ এর্দোয়ান ফরাসী পণ্য বর্জনের ডাক দিলেন ফ্রান্সের তাগুতী শক্তি অচিরেই ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে। আবার জেগেছে হেফাজত: শুক্রবার দেশব্যাপী বিক্ষোভের ডাক মুসলমানদের কটাক্ষ করে রীতিমতো খলনায়ক বনে গেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট পাকিস্তানের একটি মাদরাসায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, ৭ তালিবুল ইলম শহীদ ৬০ মিনিটের সাক্ষাৎকারে ১৬টি মিথ্যা বলেছেন ট্রাম্প

মুসলিম ভাইদের হাতে দুশমনের এক নারীও কত নিরাপদ

বৃটিশ নারী সাংবাদিক রেডলী

ইহসানুল হক:

বৃটিশ পত্রিকা “সান্ডে এক্সপ্রেস” এর প্রখ্যাত এক সাংবাদিক ইভন রেডলী। যুদ্ধ বিধ্বস্ত আফগানিস্থানে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে বন্দী হয়েছিলেন তালেবানদের হাতে।দশদিন বন্দী রেখে তালেবানরা তাঁকে মুক্তি দেয়। তালেবানদের বন্দিশালা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর বিমুগ্ধ হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন তিনি । কারণ হিসেবে তিনি যে চমৎকার ঘটনা তুলে ধরেছিলেন তা সত্যিই বিস্ময়কর।

তিনি আফগানিস্থানে প্রবেশ করেছিলেন মূলত পশ্চিমাদের ভাষায় তৎকালীন বিশ্বের সবচেয়ে ‘অসভ্য আর ইসলামী জঙ্গী” তালেবানদের সংবাদ সংগ্রহ করতে। কিন্তু দশদিন বন্দী থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি নিজেই হয়ে গিয়েছিলেন বড় সংবাদ। তালেবানদের কাছে তথাকথিত অসভ্য আর ইসলামী জঙ্গী হিসাবে যে দূর্ব্যবহার পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল, তা না পেয়ে বরং তাঁর সঙ্গে তাদের মার্জিত ও ভদ্র ব্যবহার ইভন রেডলীর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি শুধু ইসলাম গ্রহণ করেই ক্ষান্ত হননি বরং ইসলাম গ্রহণের পর তিনি হয়ে ওঠেন ইসলামের একজন অকুতোভয় দায়ি।

তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ “ইন দ্য হ্যান্ড অব তালেবান”। সেখানে তিনি টুইন টাওয়ারে হামলা থেকে শুরু করে তাঁর আফগান যাত্রা, ওয়ার অন টেরর, তালেবানের হাতে বন্দী হওয়া, মুক্তি, স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এবং ইসলামে দীক্ষিত হওয়ার চমকপ্রদ কাহিনি বর্ণনা করেছেন নিঃশঙ্কোচে।

তিনি বলেন- “আমি আফগানিস্তান হতে মুক্ত হবার পর আমার ইয়াহুদী বন্ধুরা/মেয়েরা আমাকে যে দু’একবার ধর্ষণ করা হয়নি সেটা বিশ্বাস করতেই চাইতো না। তাঁরা আমাকে বার বার জিজ্ঞেস করতো- তালেবানরা তোমাকে কত বার ধর্ষণ করেছে ?
এভাবে বছর খানেক পর আমি একদিন ট্যাক্সি করে যাচ্ছিলাম। সেই ট্যাক্সি ড্রাইভার আমাকে চিনতে পেরে জিজ্ঞেস করলো তুমি কি সেই ব্রিটিশ সাংবাদিক “রেডলী?

আমি বললাম জ্বী আমিই সেই “রেডলী” কেন ? তখন সে বললঃ “আচ্ছা কিছু মনে করবেন না আপনি তো খুব সুন্দরী, তাঁরা কি আপনাকে বার বার ধর্ষণ করেছে ?”
প্রশ্নটা শুনে আমার মেজাজ খারাপ হয়ে গিয়েছিল তবুও স্বাভাবিক ভাবেই আমি বললাম “না তাঁরা আমাকে একটি বারও স্পর্শ করেনি।

তখন, আমার জাতি ভাই ট্যাক্সি ড্রাইভার বলল- হে রেডলী” তোমার এই কথা কেউ বিশ্বাস করে না। কারণ আজ তুমি যদি ওদের জায়গায় আমার হাতে বন্দী হতে তাহলে তোমার শরীরের উষ্ণ স্পর্শে আমি নিজেকে সারাক্ষন মাতিয়ে রাখতাম এটাই স্বাভাবিক ব্যাপার।

রেডলি বলেন- আমি সেদিনই প্রথম মুসলিম এবং ইয়াহুদী পুরুষের আচরণে পার্থক্যটা লক্ষ্য করলাম এবং ইসলাম নিয়ে ভাবতে শুরু করলাম।

অতঃপর পবিত্র কোরআন নিয়ে দীর্ঘ গবেষণা শুরু করলাম।দীর্ঘ তিন বছর পর একটি পর্যায়ে এসে আমি মুসলমান হয়ে গেলাম। কারণ মুসলিম যোদ্ধারা বন্দী করে কোনোদিন আমাকে একবারের জন্যও স্পর্শ করেনি। নির্যাতন- অপমান করেনি, বরং তাঁরা এক কাফের নারী বন্দীকে যে সম্মান দিয়েছে, এতে আমি হাজার বার বলতে পারি ইসলামের যে কালেমা মোহাম্মদ (সঃ) আজ থেকে ১৪০০ বছর পূর্বে প্রচার করেছিলেন শুধু তাঁর মধ্যেই আছে শান্তি, নিরাপত্তা এবং সম্মানের শীতল ছায়া। যা আমি আফগান মুসলিম যোদ্ধাদের হাতে বন্দী অবস্থায় দেখেছি।

হে দুনিয়ার মানুষ, চেয়ে দেখো, মুসলিম ভাইদের হাতে দুশমনের এক নারীও কত নিরাপদ।

এই পোষ্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন।

Design & developed by Masum Billah