বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ০১:১৮ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
ধর্মের দোহাই দিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য বরদাস্ত করা হবে না: এমপি শিবলী ফটিকছড়িতে আমীরে হেফাজত আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীকে গণ সংবর্ধনা প্রদান পাকিস্তানে ধর্ষকদের পুরুষাঙ্গ অকেজোর সাজা অনুমোদন আগামী প্রজন্মকে ধর্মহীন বানানোর চক্রান্ত চলছে: ইসলামী ঐক্য আন্দোলন ওয়াজ মাহফিল: সমাজ সংস্কার ও শুদ্ধ মানুষ গড়ার অনন্য আয়োজন ‘বাজার-ঘাটে মুখে মাস্ক নেই, মসজিদে না পরে আসলি যত সমস্যা’ বিশ্বে একদিনে আবারো সর্বোচ্চ প্রাণহানি উইঘুর মুসলিমদের নির্যাতিত বলায় পোপকেও ছাড় দেয়নি চীন আমার কণ্ঠ চেপে ধরলেও মূর্তি ও ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে বলেই যাবো: মাওলানা মামুনুল হক আল্লামা আহমদ শফী রহ. পরিষদে মূসা সভাপতি ও রাজী সেক্রেটারী জেনারেল নির্বাচিত

যুব মজলিস : নতুন আশায় বুক পাতি

নোয়াখালীর ঘটনার প্রতিবাদে সারাদেশে একযোগে একই ব্যানারে একই রঙে একই কণ্ঠে ও স্লোগানে প্রতিবাদ হয়েছে। সারাদেশে ‘একযোগে একই ব্যানারে একই রঙে একই কণ্ঠে ও স্লোগানে’ প্রতিবাদ করার এই ধারা আগে কখনো চোখে পড়ে নি। হ্যাঁ, অনেক সংগঠন করেছে কিন্তু তাদের সময় ব্যানার রঙ ও স্লোগান ছিল ভিন্ন ভিন্ন। প্রতিবাদের দ্রোহ দ্রুত ছড়িয়ে দিতে ‘একই সময় একই ব্যানার একই রঙ একই কণ্ঠ ও স্লোগান’ জরুরি। এটা ওইসব সংগঠন ও নেতৃত্ববৃন্দ বাস্তবায়ন করতে পারে যাদের রয়েছে সাংগঠনিক দক্ষতা ও প্রশিক্ষিত জনশক্তি। বহুদিন পরে হলেও এমন একটা ধারা সৃষ্টির যুগ সন্ধিক্ষণে অবস্থান করছে বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস। এই ধারাকে বেগবান করতে আরো অনেকটা সময় নিবে। তবে এই ধারা প্রতিষ্ঠিত হলে দেশে প্রতিবাদের নতুন আবহ সৃষ্টি হবে। যা দ্বারা বিনা চ্যালেঞ্জে দেশ ও ধর্ম বিরোধী কোন প্রোপাগা-াকে ছাড়া হবে না।
ইসলামি সংগঠনের এই প্রান্তিক সময়টাতে এসে অল্পকদিনের ব্যবধানে যুব মজলিস একটি শক্তিশালী প্লাটফর্ম নির্মাণের দ্বারপ্রান্তে। যদিও বাস্তবায়ন অনেক কঠিন, তবে দিনদিন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হচ্ছে। ইসলামী সংগঠন সমাজ ও রাজনীতি থেকে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসা, রাজনীতি থেকে নিথর হয়ে চুপসে যাওয়া নেতৃত্ববৃন্দ নতুন করে স্লোগান তুলার স্বপ্ন দেখছে। হতাশায় নিমজ্জিত যুবসমাজ নতুন আশায় বুক বাঁধছে। ইসলামী রাজনীতি ও সংগঠন থেকে বিমুখ ছাত্রসমাজ সংগঠিত হওয়ার নতুন প্রান্ত ছুঁয়েছে। ক্ষমতা আর লোভের রাজনীতিতে দেশ যখন ছয়লাব। তখন নতুন আশায় বাঁচার স্লোগান শেখাচ্ছে যুব মজলিস। মুরুব্বিরা যুব মজলিসকে দোয়া দিচ্ছে।
সাহসের কথা হলো- যুব মজলিসের সকল স্তরের জনশক্তির মাঝেই প্রতিবাদ করার ও প্রতিবাদী হওয়ার একটা শুদ্ধ মেজায গড়ে ওঠেছে। অন্যান্য সংগঠন যা বহুদিনেও পারেনি। এর বাস্তবায়ন দেখা যায়, গতবছর মুদি ঠেকাও আন্দোলন, কাশ্মিরে মুসলিম গণহত্যার আন্দোলন ও সম্প্রতি সময়ে ধর্ষণের বিচারের দাবিতে আন্দোলনে অঁজপাড়া গায়ের ইউনিয়ন শাখাও প্রতিবাদী মিছিল করেছে। অর্থাৎ যখনই অন্যায় তখনই প্রতিবাদ, যেখানেই অন্যায় সেখানেই প্রতিবাদ’ এই স্লোগানের বাস্তবতা সকল জনশক্তির মাঝে সমানতালে বিদ্যমান, আলহামদুলিল্লাহ।
যুব মজলিস ও খেলাফত ছাত্র মজলিসের কর্মীদের প্রতি জরুরি কয়েকটি কথা
যুব মজলিস/ যুব মজলিসের দায়িত্বশীল! পত্রের শুরুতেই আপনাদেরকে অশান্ত সময়ের শান্ত শুভেচ্ছা। যুব মজলিস/ যুব মজলিসের দায়িত্বশীলদের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা। আপনাদের এই সময়টা নীরবতার সময়। ধৈর্যের সময়। নিজকে দমিয়ে রাখার সময়। চতুর্দিক থেকে যুব মজলিসকে যুব মজলিসের মূলনেতৃত্বকে যুব মজলিসের দায়িত্বশীলকে আক্রমণ করা হবে। আক্রমণ হবে কলমের, আক্রমণ হবে গীবত ও শেকায়েতের, আক্রমণ হবে মিথ্যা বানোয়াটি ও জাল বিষয়ের, আক্রমণ হবে সাংগঠনিক সিস্টেমসহ আরো বহুকিছুর। কেউ আবার হাত তুলবে, কেউ চোখ রাঙ্গাবে, কেউ পথ আগলে দিবে, কেউ পথে কাঁটা বিছাবে। সবকিছুতে দিতে হবে ধৈর্যের শক্তিশালী পরীক্ষা। এই ভূখ-ের রাজনীতির ইতিহাস এখানেই হোঁচট খেয়েছে। ছাড় দেওয়ার মানসিকতা আমাদের অঙ্গনে নেই। কাউকে ছেড়ে কথার বলার সংস্কৃতির চর্চা এখানে অপ্রতুল। এখানে ঐক্যের আহ্বানকে বাতুলতা বলার লোকের অভাব নেই। এখানে মিছিলে মুখ শো করার নেতা আছে অগণিত। মুখ লুকিয়ে সামনে না এসে তিলে তিলে গড়ার লোক নেই। ঠিক এ পয়েন্টাতেই যুব মজলিসের কাজ করতে হবে। মানুষের গালিকে, উপহাসের হাসিকে, বিদ্রƒপকারীর তাচ্ছিল্যকে নিজের ভাগ্য মনে করে নিতে হবে। তীর্যক ও অসহ্য মন্তব্যকে এই কাজের প্রাপ্তি ভেবে নিতে হবে। কেউ রাস্তা আগলে দাঁড়ালে পথ বদলাবো আঘাত কিংবা মুখোমুখি অবস্থানে কখনো যাবো না। কেউ বাঁধা দিলে আমরা বন্ধুত্বের বুক পেতে দিবো। কেউ মারতে আসলে আমরা ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে জড়িয়ে নিবো। এই কথা আমাদের ধরেই নিতে হবে বা ধরেই নিয়েছি যে, যুব মজলিসের কোন ফল আমরা ঘরে তুলতে পারবো না। এই পথে চলতে চলতে আমাদের জীবনসন্ধ্যা নেমে আসবে। আগামী প্রজন্ম কিংবা তার পরের প্রজন্ম যুব মজলিসের ফলাফল সারাদেশে ছড়িয়ে দিবে। যুব মজলিসের কর্মীরা তখন বুক ফুলিয়ে হাসবে আনন্দ করে। আমরা ইতিহাসের গহীনে, আরো গহীনে হারিয়ে যাবো।
সম্পাদনা

মুহাম্মাদ মামুনুল হক Mamunul Haque
রচনা :

হাবীবুল্লাহ সিরাজ

এই পোষ্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন।

Design & developed by Masum Billah