মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ১২:৪০ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ
রাষ্ট্রের পুনর্গঠন : তাত্ত্বিক আলোচনা বনাম বাস্তবতা সৈয়দ শামছুল হুদা ১৮ ভোট কেন্দ্রে কচুয়ার ২ ইউনিয়নের উপ-নির্বাচন কাল উত্তাল পাকিস্তান, ‘ইমরান খানের পদত্যাগ চাই’ প্রেমিকাকে ধর্ষণ করে অন্যকে ফাঁসাতে গিয়ে ফেঁসে গেলো ছাত্রলীগ নেতা মাওলানা সিরাজীর স্মরণে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস যুক্তরাজ্য শাখার ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত তাইওয়ানে হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন ইসরায়েলে অবতরণ করলো আমিরাতের প্রথম ফ্লাইট সিলেটে রায়হান হত্যাকান্ডে প্রধান অভিযুক্ত আকবরকে ধরিয়ে দিলে ১০লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা মেয়র আতিকের পরিবারের ২০ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হাতিরঝিলের সেই অজ্ঞাত লাশের রহস্য উদঘাটন হলো যেভাবে

কওমি মাদরাসায় জেনারেল শিক্ষার প্রচলন হলো যেভাবে

বাহাউদ্দীন জাকারিয়া:
একজন মানুষ তার মনোভাব, আদর্শ, চিন্তা-চেতনার কথা নিজ মাতৃভাষায় যেভাবে প্রকাশ করতে পারে অন্য ভাষায় সেভাবে পারে না৷ তাই আমাদের সকলকে মাতৃভাষার গুরুত্ব দিতে হবে সর্বাধিক৷
মাতৃভাষাকে অবহেলা, অবজ্ঞার কোনো সুযোগ নেই৷ মাতৃভাষাকে অবহেলা করে কোনো জাতির আদর্শিক বিপ্লব ঘটানো অসম্ভব৷ যারা নিজ ভাষাকে অবজ্ঞা করেছে তারা স্বজাতি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়৷

একসময় আমাদের দেশের কওমি মাদরাসায় বাংলা ভাষা অবহেলিত ছিল৷ কওমি মাদরাসায় অন্য ভাষায় লেকচার দেয়া হত৷ এখনো কোথাও কোথাও দেয়া হয়৷
সে পাক আমলে তবীবুল মিল্লাত শামছুল হক ফরিদপুরী রহ, বাংলার প্রতি জোর দেন৷ তিনি বাংলায় বহু কিতাব রচনা এবং অনুবাদ করেন৷ বলতে গেলে তিনিই ছিলেন এর পথিকৃৎ৷ তারপরও সে সময় লালবাগ মাদরাসায় বাংলাকে পাঠ্যসূচীর অন্তর্ভুক্ত করতে পারেননি৷ সেসময় কোনো কওমী মাদরাসায় বাংলা পাঠ্যসূচীর অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে দাবী করা দুষ্কর৷

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আমার আব্বাজী মুজাহিদে মিল্লাত শামছুদ্দীন কাসেমী রহ, আরজাবাদ মাদরাসায় বাংলা, অংক, ইংরেজী, ভূগোল, সমাজ ও পৌরনীতিকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বাধ্যতামূলক পাঠ্যসূচীর অন্তর্ভুক্ত করেন৷ পরীক্ষায় নম্বর অন্যান্য বিষয়ের সমমানের ছিল৷ কেউ আরবীতে পাশ নম্বর পেয়ে এ বিষয়গুলোতে ফেল করলে তাকে ফেল ধরা হত৷

দশম শ্রেণি পর্যন্ত জেনারেল শিক্ষাকে বাধ্যতামুলক করায় আরজাবাদকে সেমি আলিয়া বলতে অনেককে শুনেছি৷ আরজাবাদকে নিয়ে ব্যাঙ্গ করা হত৷
বর্তমানে সে দৃশ্যপট নেই৷ সর্বত্র পরিবর্তনের হাওয়া বইছে৷ যারা বাংলাকে অবহেলা করতেন তাদের পরিচালিত মাদরাসায় এখন বাংলায় দরস দেয়া হয়৷

কওমী মাদরাসার কর্ণধারগণ যদি এ ব্যাপারে আরো পুর্বে দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতেন, তাহলে এ ভূণ্ডের মুসলমানদের উপকার আরো দ্রুত হত৷

বাংলাকে অবহেলা করার ফলাফল যে শুভ হয়নি তা বলার অপেক্ষা রাখে না৷ আমাদের দেশের সর্বজন পরিচিত একজন রাজনীতিবীদ আলেম মুফতী, একটি প্রাচীন মাদরাসার প্রিন্সিপাল সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর বাংলায় ফরম পুরণ করতে ব্যর্থ হয়ে অন্যের সহায়তা নেন৷ অথচ তিনি একজন অনলবর্ষী বক্তা ছিলেন৷ আরবী, উর্দুতে তার ভাল দখল ছিল৷ আমার এ কথা হয়ত কারো কারো বিশ্বাস করতে কস্ট হবে৷ চাটগাঁয়ে এখনো এমন এক মনীষী আছেন যাকে আরবী, উর্দুর আদীব বলা হয়৷ মধ্যপ্রাচ্যে তাঁর বেশ কদর রয়েছে৷ কিন্তু তিনি বাংলায় কলম চালাতে আরবীর ন্যায় সফল নন৷ তিনি যদি আরবীর ন্যায় বাংলায় পাকা মুন্সি হতেন, তাহলে দেশ, জাতি তার দ্বারা উপকৃত হত আরো বেশী৷ এতে কোনো সন্দেহ নেই৷

এখানে একটি কথা উল্লেখ না করলে নয়৷ দারুল উলুম দেওবন্দ যে সময় প্রতিষ্ঠিত হয়, সে সময়ও উপমহাদেশে ফার্সীর প্রভাব ছিল বেশী৷ তখনো দেওবন্দে শিক্ষার মাধ্যম ভাষা হিসেবে উর্দু কে নির্ধারণ করা হয়৷ এর কারণ হল উর্দু ছিল তখন গণমানুষের মুখের ভাষা৷ গণমানুষের উপকারের কথা ভেবে উর্দুকে শিক্ষার মাধ্যম করা হয়৷

চিন্তা করুন! আমাদের আকাবিরগণ কতো দূরদর্শী ছিলেন৷ এখনো দারুল উলুম দেওবন্দে পরীক্ষার প্রশ্ন আরবীতে না করে উর্দুতে করা হয়৷ তাদের নিকট মাতৃভাষার গুরুত্ব কী পরিমাণ তা এ থেকে প্রমাণিত হয়৷
তাই আমাদেরও মাতৃভাষাকে গুরুত্ব দিতে হবে সর্বোচ্চ পর্যায়ে৷

এই পোষ্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন।

Design & developed by Masum Billah