মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
রাষ্ট্রের পুনর্গঠন : তাত্ত্বিক আলোচনা বনাম বাস্তবতা সৈয়দ শামছুল হুদা ১৮ ভোট কেন্দ্রে কচুয়ার ২ ইউনিয়নের উপ-নির্বাচন কাল উত্তাল পাকিস্তান, ‘ইমরান খানের পদত্যাগ চাই’ প্রেমিকাকে ধর্ষণ করে অন্যকে ফাঁসাতে গিয়ে ফেঁসে গেলো ছাত্রলীগ নেতা মাওলানা সিরাজীর স্মরণে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস যুক্তরাজ্য শাখার ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত তাইওয়ানে হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন ইসরায়েলে অবতরণ করলো আমিরাতের প্রথম ফ্লাইট সিলেটে রায়হান হত্যাকান্ডে প্রধান অভিযুক্ত আকবরকে ধরিয়ে দিলে ১০লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা মেয়র আতিকের পরিবারের ২০ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হাতিরঝিলের সেই অজ্ঞাত লাশের রহস্য উদঘাটন হলো যেভাবে

সহজ-সরল মানুষের প্রতিচ্ছবি মুফতি মাহফুজুল হক:: নেতৃত্ব শূন্যতা পূরণে এগিয়ে চলছেন নিজ যোগ্যতায়

মুফতি এনায়েতুল্লাহ ::

কথায় আছে, ‘রাখে আল্লাহ, মারে কে?’ সত্যিই, মাঝে-মধ্যে আমাদের চারপাশে এমন কিছু ঘটনা ঘটে; যেগুলোকে বলা হয় আল্লাহতায়ালার অশেষ কৃপা। ৩-৪ বছরের এক শিশু দোতলা থেকে রাস্তায় পড়ে গিয়ে অক্ষত ফিরে এসেছে। শারীরিক কোনো ক্ষতি হয়নি ওই শিশুর। এমন অবিশ্বাস্য খবর আমরা মাঝে-মধ্যেই বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখি। কিন্তু বাস্তবে এমন ভাগ্যবান কাউকে দেখার সুযোগ হয় না। আজ এমন একজনকে নিয়ে আলোচনা করবো, যিনি দু’তলা থেকে পড়ে যেয়েও অক্ষত ছিলেন। এ এক বিরল ঘটনাও বটে।

মুফতি মাহফুজুল হক। হ্যাঁ, মুফতি মাহফুজুল হক সেই সৌভাগ্যবান শিশু, দু’তলা থেকে পড়ে যেয়েও অক্ষত ছিলেন। এখনও জীবনের নানা বাঁক, সন্ধিক্ষণ ও ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করে আলেমদের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন সামনের কাতারে থেকে। তিনি জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মোহাম্মদপুরের মুহতামিম, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। দেশের মানুষ তাকে এক নামে চেনেন ও জানেন।

উপমহাদেশের প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ, রাজপথের আপোষহীন নেতা শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক রহমাতুল্লাহি আলাইহির সুযোগ্য সন্তান। দিকপাল পিতার সান্নিধ্যে থেকে মুফতি মাহফুজুল হক নিজেকে গড়েছেন।

১৯৬৯ সালের নভেম্বর মাসের মাঝামাঝিতে ঢাকার আজিমপুরে মুফতি মাহফুজুল হকের জন্ম। তেরো ভাইবোনের সংসারে তিনি অষ্টম। বাবা শায়খুল হাদিস (রহ.)-এর কাছে প্রাথমিক শিক্ষার হাতেখড়ি, এটাও এক সৌভাগ্য। এর পর আজিমপুর চাঁনতারা মসজিদ সংলগ্ন হিফজ মাদরাসায় হাফেজ আবদুল মতিন (রহ.)-এর কাছে পবিত্র কোরআন হেফজ করেন। ঈর্ষণীয় বিষয় হলো, মুফতি মাহফুজুল হক হেফজের শেষ সবক শোনান উপমহাদেশের প্রখ্যাত বুজুর্গ হজরত মোহাম্মদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর (রহ.)-এর কাছে। এ সময় মুহাদ্দিস সাহেব হুজুরখ্যাত মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ (রহ.), মুফতি আব্দুল মুইজ (রহ.) ও মাওলানা আবদুল মজিদ ঢাকুভী হুজুর (রহ.)সহ লালবাগ মাদরাসার অন্য উস্তাদরাও উপস্থিত ছিলেন। ১১ বছর বয়সে তিন বছরের কম সময়ে তিনি হেফজ সম্পন্ন করেন।

এখানে একটি তথ্য জানিয়ে রাখতে চাই, শায়খুল হাদিস (রহ.)-এর পরিবারের রীতি হলো, ছেলে হোক কিংবা মেয়ে; তাকে আগে কোরআনের হাফেজ হতে হবে। এর পর অন্য শিক্ষা। বর্তমানে শায়খুল হাদিস (রহ.)-এর পরিবারে শতাধিক হাফেজ রয়েছে।

সময়ের প্রতিভাবান ও প্রতিনিধিত্বশীল আলেম মুফতি মাহফুজুল হক হাফেজ হওয়ার পর লালবাগ মাদরাসার কিতাব বিভাগে ভর্তি হন। নাহবেমীর জামাতে পড়ার সময় ১৯৮৫ সালে হাফেজ্জী হুজুর (রহ.)-এর আহ্বানে জেনারেল এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে যোগ দেন এবং গ্রেফতার হয়ে কারাবরণ করেন। এই কারাবরণ তাকে দৃঢ় মানসিক শক্তির অধিকারী করে তোলে। যার বর্হিপ্রকাশ আমরা এখনও দেখি। বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম কিংবা কঠিন থেকে কঠিনতর কোনো বিপর্যয়ের সময়ও তিনি লক্ষে অবিচল থাকেন। কোনো ধরনের অস্থিরতা, হতাশা, অধৈর্য তার অভিধানে নেই। চূড়ান্ত আশাবাদী এই মানুষটি ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর পক্ষে প্রসংশনীয় ভূমিকা রেখে চলছেন অবিরাম। শিক্ষা-আন্দোলন থেকে শুরু করে সামাজিক, রাজনৈতিক প্রতিটি অঙ্গনে রয়েছে তার সরব পদচারণা।

কারামুক্তির পর তিনি ভর্তি হন বড়কাটারা মাদরাসায়। কিন্তু সেখানে আনুষ্ঠানিক দরসে অংশ নেওয়ার আগেই চলে আসেন মোহাম্মদপুর হাউজিংয়ে অবস্থিত জামিয়া মোহাম্মদিয়ায়। এখানে ২ বছর পড়াশোনা করেন। এ সময় শায়খুল হাদিস (রহ.) জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া প্রতিষ্ঠা করেন। মুফতি মাহফুজুল হকও রাহমানিয়ায় চলে আসেন। রাহমানিয়া থেকে ১৯৯১ সালে দাওরায়ে হাদিস শেষ করে ‘মাওলানা’ সনদ লাভ করেন। ১৯৯২ সালে ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দে পুনরায় দাওরায়ে হাদিস ভর্তি হন।

১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর ভারতের উগ্রবাগী হিন্দুদের হাতে ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংস হয়। এর প্রতিবাদে শায়খুল হাদিস (রহ.) ভারত অভিমুখে লংমার্চের ডাক দেন। তার এ কর্মসূচি বিশ্বে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এ কারণে শায়খুল হাদিস (রহ.)-এর সন্তান হিসেবে মুফতি মাহফুজুল হকের নিরাপত্তা নিয়ে দেওবন্দের উস্তাদগণ বিশেষ করে ওয়াকফ দেওবন্দের মাওলানা আনজার শাহ কাশ্মিরী (রহ.) উদ্বেগ প্রকাশ করে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে আগলে রাখেন। ১৯৯২ সালে দেওবন্দ থেকে দ্বিতীয়বারের মতো দাওরায়ে হাদিস শেষ করে ‘কাসেমী’ সনদ লাভ করেন।

মেধাবী ছাত্র হিসেবে সুশৃংখল জীবন-যাপন, কাজেকর্মে নিয়মানুবর্তিতা, আমল-আখলাক, আচার-আচরণ ও ভদ্রতার কারণে বাংলাদেশ ও ভারতের উস্তাদদের প্রিয়পাত্র ছিলেন মুফতি মাহফুজুল হক। তার এই গুণগুলো এখনও আলো ছড়াচ্ছে।

শিক্ষাজীবন শেষে ১৯৯৩ সালে জামিয়া রাহমানিয়ায় শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি দারুল ইফতায় ভর্তি হন এবং সফলতার সঙ্গে ‘মুফতি’ সনদ লাভ করেন। রাহমানিয়ায় শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের অল্পদিনেই সুখ্যাতি অর্জন করতে সক্ষম হন। ২০০০ সাল পর্যন্ত ছাত্রদের বুনিয়াদি কিতাবগুলো দক্ষতার সঙ্গে পাঠ দেন।

২০০০ সালে শায়খুল হাদিস (রহ.) জামিয়া রাহমানিয়া থেকে চলে আসেন। তার চলে আসার পেছনে অনেকগুলো কারণের মাঝে তৎকালীন সরকারের ভূমিকাও ছিলো। রাজনৈতিক কারণে সরকারের প্রচ্ছন্ন সহায়তা ও প্রশাসনের মদদে সৃষ্ট পরিবেশের কারণে তিনি রাহমানিয়া ছেড়ে মোহাম্মদপুরের কুবা মসজিদকে কেন্দ্র করে হাদিসের দরস অব্যাহত রাখেন এবং জামিয়া রাহমানিয়া হাকিকিয়া নামে নতুন মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। নতুন মাদরাসার মুহতামিম হিসেবে নিযুক্ত হন মুফতি মাহফুজুল হক।

২০০১ সালের শেষের দিকে শায়খুল হাদিস (রহ.) পুনরায় জামিয়া রাহমানিয়া ফিরে আসেন। তখন মুফতি মাহফুজুল হক প্রথমে ভাইস প্রিন্সিপাল ও ২০০২ সাল থেকে প্রিন্সিপালের দায়িত্ব পান। সেই থেকে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে প্রিন্সিপালের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। পাশাপাশি বোখারি শরীফের কিছু অংশ এবং অন্য কিতাব নিয়মিত দরস দিয়ে আসছেন। ছাত্রদের পড়াশোনা, পরীক্ষার ফলাফল এবং তালিম-তরবিয়তের পাশাপাশি রাহমানিয়ার ঐতিহ্যবাহী ধারা তিনি সমুন্নত রেখেছেন।

কওমি মাদরাসাগুলোর নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান ও উলামায়ে কেরামের সর্ববৃহৎ ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার যুগ্ম-মহাসচিব হিসেবে নির্বাচিত হন ২০০৫ সালের কাউন্সিলে। যুগ্ম-মহাসচিব হিসেবে চৌদ্দ বছরের বেশি সময় বেফাকে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখেন। কওমি মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতি, নেসাব সংস্কার, কওমি সনদের স্বীকৃতি, কওমি কমিশন থেকে শুরু করে বেফাকের অগ্রযাত্রার প্রতিটি ধাপেই রয়েছে তার সরব অংশগ্রহণ। শায়খুল হাদিস (রহ.)-এর সঙ্গে কওমি সনদের সরকারি স্বীকৃতির আন্দোলনে যেভাবে সক্রিয় ছিলেন, পরবর্তীতে কওমি সনদের স্বীকৃতি অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করেন। তিনি কওমি মাদরাসার সবোর্চ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আল হাইআতুল উলয়ার একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

বাংলাদেশের আলেম-উলামা বিশেষ করে কওমি মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকদের আশা-আকাঙ্খার প্রতীক বেফাক যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ওপর ভর করে আজকের এই অবস্থানে পৌঁছেছে তাদের মধ্যে মুফতি মাহফুজুল হক একজন। সর্বশেষ ২০২০ সালের ৩ অক্টোবর তিনি বেফাকের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নির্বাচিত হন।

বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া আলেমদের আস্থা ও বিশ্বাসের এক বিশ্বস্ত প্ল্যাটফর্ম। বেফাকের ত্যাগী মহাসচিব মাওলানা আবদুল জাব্বার জাহানাবাদী (রহ.)-এর ইন্তেকালের পর বেফাক তার পথ চলায় হোঁচট খায়। এমতাবস্থায় নানামহল থেকে দাবি ওঠে, বেফাক মহাসচিবের দায়িত্ব দক্ষ, যোগ্য, কর্মঠ ও তরুণ কোনো আলেমকে দেওয়ার। উদাহরণ হিসেবে পাকিস্তান বেফাকের মহাসচিব মাওলানা হানিফ জলন্ধরীকে দায়িত্ব প্রদান এবং বেফাকের বর্তমান অবস্থান নিয়ে আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে মুখে মুখে। এমন বাস্তবতায় ২০২০ সালের ৩ অক্টোবর বেফাকের নির্বাহী কমিটির বৈঠকে মুফতি মাহফুজুল হককে বেফাকের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সাধারণ আলেমদের প্রত্যাশা, মুফতি মাহফুজুল হক সহকারী মহাসচিবের অভিজ্ঞতাসমৃদ্ধ কর্ম তৎপরতা, নিষ্ঠা, সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করে বেফাককে তার কাঙ্খিত স্থানে নিতে সক্ষম হবেন। আলেমদের আস্থার প্রতিদান তিনি দেবেন। বেফাককে একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলবেন।

১৯৭৮ সালে বেফাক প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন শায়খুল হাদিস আল্লামা আজীজুল হক (রহ.)।

মোহাম্মদপুর এলাকায় অবস্থিত মাদরাসাগুলোর পরস্পরে সম্পর্ক উন্নয়ন, প্রতিষ্ঠানের উন্নতি ও ঐক্যবদ্ধ অবস্থান সৃষ্টির লক্ষে প্রতিষ্ঠিত ‘ইত্তেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া মোহাম্মদপুর’ গঠন ও পথচলায় মুফতি মাহফুজুল হকের অবদান অপরিসীম। গত এক দশকে ইত্তেফাক সফলতার পথে অনেক পথ এগিয়েছে।

মুফতি মাহফুজুল হকের কর্মতৎপরতা শুধু মাদরাসা, বেফাক ও মোহাম্মদপুর এলাকায় সীমাবদ্ধ নয়, রাজনীতির মাঠেও রয়েছে তার সক্রিয় উপস্থিতি। তরুণ বয়সে কারাবরণ আর শায়খুল হাদিস (রহ.)-এর সন্তান হিসেবে বলা চলে তিনি আন্দোলন-সংগ্রামের মাঝেই বেড়ে উঠেছেন। রাহমানিয়ায় শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের পর বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রাজনীতিতে যুক্ত হন। ২০০৫ সালে দলটির শুরা সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১২ সানে সহ-সভাপতির দায়িত্ব পান। ২০১৩ সাল থেকে ২০২০ সালের ১০ অক্টোবর পর্যন্ত তিনি দলের মহাসচিব হিসেবে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।

সাম্প্রতিককালের আলোড়ন সৃষ্টিকারী অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের ঢাকা মহানগর কমিটির সহ-সভাপতি মুফতি মাহফুজুল হক চলমান তাবলিগ ইস্যুতেও কার্যকর ভূমিকা রাখেন। তাবলিগের সংকট নিরসনে ভারত সফর থেকে শুরু করে সরকারের সঙ্গে আলোচনা ও রাজপথে বিশাল ভূমিকা রাখেন।

বিভিন্ন ইস্যুভিত্তিক আন্দোলন তিনি সক্রিয়। বিভিন্ন সামাজিক ও মানসেবামূলক সংগঠনের সঙ্গেও তিনি জড়িত। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অসংখ্য মসজিদ ও মাদরাসা তার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। দেশের যেকোনো প্রান্তে আলেম-উলামাদের সংকট, নেতৃস্থানীয় আলেমদের জানাজায় মুফতি মাহফুজুল হকের উপস্থিতি অনেকটা রুটিন করা।

কাজের ক্ষেত্রে মুফতি মাহফুজুল হক অলৌকিকভাবে কিছু জিনিস লাভ করেছেন। বয়সে তরুণ হওয়ায় একদিকে যেমন বড়দের সান্নিধ্য ও অবারিত ভালোবাসা পান, তেমনি নতুন প্রজন্মের তরুণদের সঙ্গেও মেশার সুযোগ পান। দুই মহলেই তার ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। কাজেই পদের মোহমুক্ত হয়ে কোনো আড়ষ্টতা ছাড়া বড় বড় দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায় তাকে। চাল-চলনে তার কোনো অহমিকা নেই। মুখের ওপর ন্যায়টা বলে দেন স্পষ্টভাবে। ঢাকায় বাড়ি, ঢাকায় কর্ম অথচ তার কোনো গাড়ি নেই, এমনই সাদাসিধা জীবন-যাপনে অভ্যস্থ তিনি।

কাজ আর মুফতি মাহফুজুল হক। এই দু’টোকে আলাদা করা মুশকিল। মিটিং পরিচালনা, অফিসের কাজ তদারকি, সংগঠন দেখভাল, সংসার দেখাশোনা এমনকি দস্তরখানে কার কি লাগবে- সেটাও তিনি নিজ হাতে পরিবেশন করতে পছন্দ করেন। হোক সেটা নিজের বাসা কিংবা অন্যের বাসা। তিনি যে কাজই করেন, সেটা বেশ গুছিয়ে; পরিকল্পনা করে আন্তরিকতার সঙ্গে করেন। দায়সারাগোছের কোনো কাজ তার অভিধানে নেই। জটিল ও কঠিন পাহাড়সম কাজ ঠাণ্ডা মাথায় সূচারুরূপে সম্পন্ন করার এক অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী তিনি।

দ্বীনের দাওয়াত, আলোচনা সভা, ওয়াজ মাহফিল কিংবা কওমি মাদরাসার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়সহ নানা কাজে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়মিত সফর করেন। বিভিন্ন সেমিনার ও শিক্ষা প্রোগ্রামে অংশ নিতে সফর করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকা, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, কাতার, ভারত ও পাকিস্তানসহ বেশ কিছু দেশ।

মুফতি মাহফুজুল হক চার সন্তানের জনক। তার স্ত্রীও কোরআনে কারিমের হাফেজ। তিন মেয়েও কোরআনের হাফেজ। ছেলেও হাফেজ হওয়ার পথে। বড় মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি নানা হয়েছেন।

শায়খুল হাদিস (রহ.)-এর সন্তান হিসেবে তিনি যেমন জাতির কাছে দায়বদ্ধ, তেমনি স্বয়ং মুফতি মাহফুজুল হক হিসেবেও জাতির কাছে দায়বদ্ধ। এই দায়বদ্ধতা তাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সম্মুখপানে। আমিত্ব, প্রচার আর স্বার্থান্ধ এই সময়ে এমন দায়বদ্ধ মানুষ সমাজে বেশি প্রয়োজন। কাছাকাছি সময়ে শীর্ষ আলেমদের ইন্তেকালে সৃষ্ট শূন্যতা পূরণে আলোকবর্তিকা হয়ে যারা এগিয়ে আসছেন- মুফতি মাহফুজুল হক তাদের অন্যতম। হতাশাচ্ছন্ন এই সময়ে কাজের সীমা অনুধাবন করে, বাস্তবতার নিরিখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো এক প্রতিভাবান ব্যক্তিত্ব তিনি। আমরা আশা করি, তার কাজগুলো সফল হোক। মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা নিয়ে তিনি সফল জীবনের অধিকারী হোন। আমিন।

বার্তা২৪ডটকম এর সৌজন্যে

এই পোষ্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন।

Design & developed by Masum Billah