মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ০৯:১৮ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ
ধর্ষনের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ঘোষিত হওয়ায় ধর্ষনপন্হিদের গায়ে আগুন লেগে গেছে। আল্লামা আব্দুর রব ইউসূফী শিশুর লাশ ময়লার বালতিতে! ইসির মামলায় নিক্সন চৌধুরীর ৮ সপ্তাহের জামিন এবার সরকারই বাড়াল আলুর দাম কারওয়ানবাজারে তিনদিন ধরে আলু আসছে না, বিক্রি বন্ধ বছরে ৯ লাখ কোটি টাকার খাবার অপচয় হয় সৌদি আরবে হাজীগঞ্জে একই বাড়ির পুকুরের পানিতে ডুবে আপন চাচাতো-জেঠাতো ভাইয়ের করুণ মৃত্যু হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও ক্রমবর্ধমান ধর্ষণ সরকারের গোমর খুলে দিয়েছে। –ইসলামী যুব আন্দোলন দশ বছরের মাদরাসা ছাত্রকে ২৫ বছর দেখিয়ে ধর্ষণ মামলা তরুণীর বেতনে সংসার চলে না, পদত্যাগ করতে চান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন!

মায়ের দুআর বরকতে সত্যের নির্ভীক সৈনিক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী

ক্বায়েদে মিল্লাত আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী হাফিজাহুল্লাহু। হকের পক্ষে বাতিলের বিরুদ্ধে আপোষহীন অকুতোভয় সৈনিক তিনি। ইসলাম বিরোধী অপশক্তির রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ইসলাম, মুসলমান, দেশ ও জাতীর কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। অন্যায় ও জুলুমের সামনে ব্যাঘ্র হুংকার ছুড়ে ন্যায়নীতি ও আদর্শের কথা বলে যাচ্ছেন সদা ।

সত্যের পক্ষে বলিষ্ঠ কণ্ঠে কথা বলায় নির্ভীক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। মায়ের দুআর বরকতে নির্ভীকতার এ মহান দৌলত পেয়েছেন তিনি।

গত ৩ ই অক্টোবর শনিবার থেকে ৭ ই অক্টোবর রাজধানীর বারডেম জেনারেল হসপিটালে চিকিৎসাধীন ছিলেন আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। সাথে আমি অধম (জুনাইদ ) ও ইন’আমুল হাসান ছিলাম। একদিন আসরের ওজুর সময় কথা প্রসঙ্গে আল্লামা বাবুনগরী হাফিজাহুল্লাহু বলতেছিলেন,আমি জামিয়া আজিজুল বাবুনগর মাদরাসায় পাঠদান কালে ফটিকছড়ি বাঁধেরপাড়ে একটি মাহফিল করেছিলাম। মাহফিলটি না করার জন্য প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে বহুমুখী চাপ এসেছিলো কিন্তু সমস্ত বাধা ডিঙিয়ে মাহফিলটি আমি করেছিলাম। সেদিন আমার মামা, বাবুনগর মাদরাসার মোহতামীম আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও ভূমিকা ছিলো অসাধারণ।

মাহফিল শুরুর পর পর মাহফিলকে পণ্ড করে দেওয়ার জন্য প্রতিপক্ষরা গুলি বর্ষণ শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি নাজুক হয়ে যায়। মাহফিলে গুলাগুলি হচ্ছে এই খবর শুনে আমার মুহতারামাহ আম্মাজান কান্নাকাটি শুরু করলেন। তখন আমার আমার একজন মামাত ভাই জনাব মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আমার আম্মাজানকে শান্তনা দেওয়ার জন্য বললেন,মাহফিলে গুলাগুলি হচ্ছে সে জন্য আপনি ভয় পাবেন না। আপনার ছেলে জুনাইদের কিছু হবে না। আল্লাহ তায়া’লা তাঁকে হেফাজত করবেন, ইত্যাদি। এসব কথা শুনে প্রতি উত্তরে আমার আম্মাজান বললেন- আমি তো আমার ছেলে জুনায়েদের জন্য কাঁদছিনা। বরং গুলির ভয়ে আমার ছেলে যেন ময়দান ছেড়ে চলে না আসে সে জন্য মহান প্রভুর দরবারে কাঁদছি। আল্লাহ তায়া’লা যেন আমার ছেলে জুনায়েদের মনোবল বৃদ্ধি করে দেন এবং হকের জন্য বন্দুকের গুলির সামনেও যেন সে নিজেকে উৎসর্গ করতে পারে।

আল্লাহু আকবার…! কেমন নেককার মা হলে হক্বের জন্য বন্দুকের গুলির সামনে নিজের কলিজার টুকরা সন্তানের অটল অবিচলতার জন্য কেঁদে কেঁদে দুআ করতে পারেন!

মায়ের দুআর বরকতেই আজ হকের নির্ভীক সৈনিক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। মায়ের দুআ যেন অক্ষরে অক্ষরে কবুল হয়েছে। বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে আল্লামা বাবুনগরীর নির্ভীকতা আমরা দেখেছি। বিশ্বনবী (সা.) এর ইজ্জত রক্ষার আন্দোলনে গভীর রাতে শাপলা চত্বরে মুহুর্মুহু গুলির মধ্যেও সীসা ঢালা প্রাচীরের মতো মজবুত ছিলেন আল্লামা বাবুনগরী। সামান্যও পিছপা হননি। নিজের জানকে বাজি রেখে গুলির সামনে নিজেকে পেশ করেছিলেন তিনি। নবীপ্রেমিক হেফাজতের কর্মীদের ছেড়ে নিজের আত্মরক্ষার কোন চিন্তা করেননি তিনি। মায়ের মকবুল দুআর বদৌলতেই সেদিন মুহুর্মুহু গুলির মধ্যেও দৃঢ়তার সঙ্গে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি।

প্রশ্নবিদ্ধ শোকরিয়া মাহফিলের বিশাল সমাবেশে যখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব তাঁর বক্তব্যে বলেছিলেন যে, ৫ ই মে শাপলা চত্বরে কেহ মারা যায়নি,কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি ইত্যাদি। তখন উপস্থিত সবাই নিশ্চুপ ছিলেন। কেহ-ই এই ডাহামিথ্যের প্রতিবাদ করার সাহস বা হিম্মত করেননি। আল্লামা বাবুনগরী শোকরিয়া মাহফিলে যাননি।তিনি যখন সামরিক সচিবের সেই বক্তব্য সম্পর্কে অবগত হলেন, সাথে সাথে প্রত্রিকায় বিবৃতি প্রেরণ করে এর প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছিলেন,শাপলা চত্বরে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি সামরিক সচিবের এ কথা নির্জলা মিথ্যাচার। হক্ব বলার ব্যাপারে আল্লামা বাবুনগরীর নির্ভীকতার এমন বহু ঘটনা আমাদের সামনেই আছে।

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী হাফিজাহুল্লাহুর আম্মাজান হযরত ফাতেমা রহিমাহাল্লাহু ছিলেন একজন দ্বীনদার আল্লাহ ওয়ালা মহিলা। তাঁর বংশ উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন প্রসিদ্ধ ইলমি বংশ।

বাবুনগরী সাহেব হুজুরের আম্মা হযরত ফাতেমা রহ. এর মায়ের দাদা যুগশ্রেষ্ঠ বুজুর্গ আল্লামা সুফী আজিজুর রহমান রহ.( মৃত্যু:১৩৩৯ হি.) ছিলেন হাটহাজারী মাদরাসার চারজন প্রতিষ্ঠাতের অন্যতম একজন। মরহুমার নানার খালু শায়খুল কুল আল্লামা আব্দুল ওয়াহেদ হাওলভী রহ. (মৃত্যু:১৩২৩ হি.)। তিনিও হাটহাজারী মাদরাসার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। যিনি ছিলেন তাসাওউফের সিদ্ধপুরুষ আল্লামা ফজলুর রহমান গঞ্জে মুরাদাবাদী রহ. ও হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজেরে মক্কী রহ. এর বিশিষ্ট খলিফা। হযরত ফাতেমা রহ. এর ফুফা ছিলেন হাটহাজারী মাদরাসার প্রথম পৃষ্ঠপোষক শায়খুল মাশায়েখ আল্লামা জমিরউদ্দীন রহ.। তাঁর বাবা ছিলেন আধ্যাত্মিক জগতের সম্রাট,বাবুনগর মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা আল্লামা শাহ হারূন বাবুনগরী রহ.। তাঁর মেজ জেঠা শায়খুল হাদীস আল্লামা আমিন বাবুনগরী রহ.(মৃত্যু:১৩৮০ হি.)। তিনি খাতামুল মুহাদ্দিসীন আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী রহ. এর সুযোগ্য শাগরেদ ছিলেন। তাঁর নানা ছিলেন,শায়খুল হিন্দ আল্লামা মাহমুদ হাসান দেওবন্দী রহ. এর শাগরিদ আল্লামা শায়খ আব্দুল আজিজ জাহাঁপুরী রহ.। মরহুমার মামা মাওলানা মাসউদ জাহাঁপুরী ছিলেন দারুল দেওবন্দের কৃতি ফাযেল।

আল্লামা বাবুনগরীর আম্মাজান হযরত ফাতেমা রহ. ছিলেন একজন রত্নগর্ভা মা। তিনি পটিয়া মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা কুতুবুল আলম আল্লামা মুফতী আযীযুল হক রহ. ও হাকিমুল উম্মত আল্লামা আশরাফ আলী থানভী রহ. এর খলিফা আল্লামা শাহ আব্দুল ওয়াহহাব রহ. এর বাইয়াত ছিলেন।

বুজুর্গ মায়ের দুআর বরকতেই সমস্ত বাতিলের সাথে আপোষহীনতা এবং সীসা ঢালা প্রাচীরের ন্যায় হক্বের উপর অটল অবিচলতার মহান দৌলত পেয়েছেন আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী হাফিজাহুল্লাহু। সন্তানের জন্য পিতামাতার দুআ আল্লাহ তায়া’লার নিকট মকবুল। হাদীস শরীফে আছে,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তিনটি দুআ আল্লাহ কখনও প্রত্যাখ্যান করেন না, ছেলেমেয়েদের জন্য তার পিতামাতার দুআ, রোজাদারের দুআ এবং মুসাফিরের দুআ’। [বায়হাকী’, তিরমিযী, হাদীসটি সহীহ সূত্রে বর্ণিত]

আল্লাহ তায়া’লা আল্লামা বাবুনগরী হাফিজাহুল্লাহুর আম্মাজানকে জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করুন এবং বাবুনগরী হাফিজাহুল্লাহুকে হকের উপর অটল অবিচল থাকার ও সুস্থতার সহিত দীর্ঘ নেক হায়াত দান করুন,আমিন।

এই পোষ্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন।

Design & developed by Masum Billah