বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০, ০২:৪২ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস যুক্তরাজ্য শাখার ভার্চুয়াল নির্বাহী সভা অনুষ্ঠিত.. অবশেষে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে নিন্দা জানিয়েছে সৌদি আরব ইসলামী আন্দোলনের দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা বিশ্বজুড়ে পণ্য বর্জনের ডাকে প্রবল ঝুঁকিতে ফ্রান্সের অর্থনীতি বয়কট ফ্রান্স আন্দোলন: রেচেপ তায়েপ এর্দোয়ান ফরাসী পণ্য বর্জনের ডাক দিলেন ফ্রান্সের তাগুতী শক্তি অচিরেই ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে। আবার জেগেছে হেফাজত: শুক্রবার দেশব্যাপী বিক্ষোভের ডাক মুসলমানদের কটাক্ষ করে রীতিমতো খলনায়ক বনে গেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট পাকিস্তানের একটি মাদরাসায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, ৭ তালিবুল ইলম শহীদ ৬০ মিনিটের সাক্ষাৎকারে ১৬টি মিথ্যা বলেছেন ট্রাম্প

বৃহস্পতিবারের আছরের নামাজ ও নতুন মশালের শাহবাগ যেন একটি শেকলভাঙ্গার হুড়মুড় শব্দ: হাসিব আর রহমান

[শাহবাগে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ইশার সমাবেশের বিস্তারিত রিভিউ]

●- বৃহস্পতিবারের আছরের নামাজ ও নতুন মশালের শাহবাগ যেন একটি শেকলভাঙ্গার হুড়মুড় শব্দ

শেষ কথা :

কী হয়েছে… কিভাবে হয়েছে… অনেকেই বুঝতে উঠতে পারেনি। হঠাত করে কিছু ছবি চলে এলো আর মুহুর্তেই হুড়মুড় করে একটা শেকলভাঙ্গার শব্দ শোনা গেলো। ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন নামের ইসলামপন্থী একটি ছাত্র সংগঠনের রুকু সেজদারত কিছু পাক্কা সহাবাওয়ালারা হুট করেই একটি সফেদ শুভ্র আবেশ ছড়িয়ে দিলো দেশের প্রাকটিসিং, নন-প্রাকটিসিং সকল ইসলামপন্থীদের হৃদয়তটে।

নতুন মশালের শাহবাগ :

এই শাহবাগ ছিলো এমন একটি স্থান যা বাংলাদেশের অনেক হিসেব নিকেশ পাল্টে দিতে শুরু করেছিলো। দেশের ইসলামপন্থীদের হৃদয়ে একের পর এক খঞ্জর বসিয়েছিলো এই শাহবাগের চতুর্মূখ। শাহবাগ জড়িয়ে হেফাজত এলো আবার তা মিইয়ে গেলো। ১৩ থেকে ২০ পর্যন্ত ইসলামপন্থীদের একটু ব্যাকদৌড় ছিলো শাহবাগ নিয়ে। হুট করেই ২০২০ সালের ১৫ অক্টোবর সেই ব্যকদৌড় যেন এক লম্বা রানার দৌড়ে রূপ নিয়ে প্রবল বেগে সামনের দিকে এগিয়ে নিলো সবকিছু। শাহবাগের সেই উগ্র বামপন্থা আর ইসলাম ও মুসলমানদের হৃদয়ের খঞ্জরাঘাত মূহুর্তেই উপশম হয়ে সেখানে একটি মায়ার আবেশ তৈরি করলো। শাহবাগে জ্বেলে দিলো এক নতুন মশাল। যে মশালের আলোতে এখানে এখন অনেকেই পথ চলবে। খুঁজে পাবে তাদের নতুন অস্তিত্বের ঠিকানা।

এ ঘটনার প্রথম ফলাফলের সামারি টানবো এভাবে – “১৩ সালের যেই হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ থেকে সতিনের আচরণ পেয়েছিলো ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তারাই যেন প্রবল আপন হয়ে হেফাজতের আধুরা অপূর্ণ কাজটা ২০২০ সালে এসে পূর্ণাঙ্গতায় নিয়ে গেলো”।

বৃহস্পতিবারের আছরের নামাজ :

শাহবাগ চত্ত্বরে ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবারের আছরের নামাজ আদায় করা হয়েছে। ধর্মের প্রতিটি অনুসঙ্গ সম্পূর্ণরুপে ঠিক রেখে শত শত প্রতিকূলতার মধ্যে এদেশে ইসলামী রাজনীতির দীপ্ত মশাল জ্বেলে যাওয়া ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা এই ওয়াক্তের নামাজ শাহবাগে আদায় করেছে। খুব বেশি না মাত্র ৫ কাতারের নামাজ। স্থানই এতটুকু। এই নামাজের শক্তি এতোটাই যে প্রায় সাত বছরের শাহবাগের বন্দিদশার শেকল যেন হুড়মুড় করে ভেঙ্গে দিয়েছে। নামাজের শক্তি কতোটা প্রবল সেটাও যেন একবার দেখলাম আমরা।

সারাদেশে চলমান ধর্ষণ, যেনা ব্যবিচার আর বর্তমান ক্ষমতাসীন ফ্যাসিবাদী সরকারের বৈরি আচরণের কঠোর প্রতিবাদকে কেন্দ্র করেই ইশা কর্তৃক শাহবাগ চত্ত্বরে আয়োজিত এ জনজাগরণ। এ জাগরণের দৃশ্যমান সঙ্গী ছিলাম আমি। আমি আমার পেশাগত সাংবাদিকতার দায়িত্বে গেলেও এ সংগঠনের তৃণমূল থেকে একটি বড় পদ পর্যন্ত আমার ১৩ বছরের লম্বা সফর ছিলো। আক্ষরিক অর্থে সফর শেষ হলেও এ পথের সকল মুসাফিরদের সাথে হৃদয়ের হৃদ্যতা আজও অমলিন। সে থেকেই ১৪ অক্টোবরের আগের রাতে সংবাদ মেইলে পাওয়া এ প্রোগ্রামের ঘোষণা দেখার পরই রেডি ছিলাম শাহবাগে যেতে। মনে মনে প্রহর গুনছিলাম পরদিন দুপুর ২ টার।

শেকলভাঙ্গার হুড়মুড় শব্দ ; সাক্ষির সে সময় :

দুপুর ১২ টায় কলরবের শিল্পী মুহাম্মদ বদরুজ্জামান ভাই এলেন আমার অফিসে। চললাম উনার সাথেই পল্টনে। একসাথে কিছুক্ষণ থেকে মেসেঞ্জারে নক দিলাম বিপ্লবী এ সংগঠনের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বিষয়ক সম্পাদক এম শোয়াইব ভাইকে। মেসেঞ্জারে ছিলেন না তিনি। একটু পরই কল করলেন। তখন সময় দুপুর ১ টা ২০ মিনিট। কথা হলো উনার সাথে। জোহরের নামাজ আদায় করেই শাহবাগের দিকে রওয়ানা দেবেন উনারা – এমনটাই জানালেন। এই নির্মোহ বিপ্লবীরা তখনও জানতেন কি না জানি না যে – আজকে কী রচিত হতে যাচ্ছে ঢাকায়! সবার অজান্তেই একটি নতুন দিগন্তের সূর্যোদয় তারা করে ফেলতে চলছেন একটু পরেই।

এম এম শোয়াইব ভাইর সাথে কথা বলেই বদরুজ্জামান ভাইর অফিস থেকে চললাম পল্টনের নোয়াখালী টাওয়ারের দিকে। এই নোয়াখালী টাওয়ারের তৃতীয় তলাই এই বিপ্লবের পাওয়ার হাউজ। এ পাওয়ার হাউজ থেকে নতুন নতুন সূর্যোদয়ের প্রেরণা জোগান দেওয়া হয়। নোয়াখালী টাওয়ারে প্রবেশ করেই দেখি প্রোগ্রামের জন্য ধর্ষণবিরোধী ফেস্টুনে ফেস্টুনে ভরে আছে অফিস। ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরাও প্রস্তুত হচ্ছে তাদের বিপ্লবের পানে এগোতে। ভেতরে প্রবেশ করেই নুরুল করীম আকরাম ভাই, শরিফুল ইসলাম রিয়াদ ভাই, কে এম শরিয়তুল্লাহ ভাইসহ এই ঝাঁকটির সকলকেই পেলাম। মুসাফাহ্, মুআনাকা করে উনাদের সাথেই বের হলাম শাহবাগের দিকে।

নোয়াখালী টাওয়ারের নিচেই একটু অদূরে তখন একটি খোলা পিকআপ নিয়ে অপেক্ষমান ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মাহমুদুল হাসান ভাই। মাহমুদ ভাইকে এক লাইনে পরিচয় দেই আমি ‘পাগড়িওয়ালা’ বলে! পাগড়িওয়ালা শব্দটা প্রচন্ড ভারি। এই শব্দের বাহকরা আজ কেবল এক শাহবাগ নয় বরং সেই বদর ওহুদ থেকে শুরু করে আফগান মাটি পর্যন্ত বিশ্ব সাম্রাজ্যের তখত-তাজ ভেঙ্গে দিয়েছে। ইসলামপন্থাকে নিয়ে গেছে এক অনন্য উচ্চতায়। সদা হাস্যজ্জ্যল, দেখলেই জড়িয়ে নেওয়া এই পাগড়িওয়ালা মাহমুদের মধ্যে যেন সেই দীপ্ত শপথের প্রতিচ্ছবি পাই।

খোলা পিকআপটিতে উঠে পল্টন, প্রেসক্লাব দাপিয়ে চললাম শাহবাগের দিকে। একটু পর পিকআপ থেকে নেমে রিকশায় চড়ে রিয়াদ ভাইসহ শাহবাগে গিয়ে উপস্থিত হলাম। তখনও সবাই আসেনি। অনেকের সাথেই দেখা হচ্ছিলো। কথা হচ্ছিলো।

সময় তখন দুপুর ৩ টা! মাইক বেজে উঠলো শাহবাগে। দাড়ি টুপিওয়ালাদের উপস্থিতিতে হালকা লোকারণ্য হতে শুরু করেছে শাহবাগ চত্ত্বর। সবাইকে অবাক করে দিয়ে একটু পরই কুরআন তেলাওয়াতের আওয়াজ এলো। ইশার কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক এইচ এম সাখাওয়াত উল্লাহ কুরআন তেলাওয়াত করলেন। পবিত্র কুরআনের সুরা আল-ফুরকানের ৬৮ নং আয়াত তেলাওয়াত করলেন তিনি। আয়াতের অর্থ – “আর যারা আল্লাহ ব্যতীত অপর কোন ইলাহের ইবাদত করে না, আল্লাহর নিষিদ্ধকৃত প্রাণী যথার্থ কারণ ব্যতীত হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না। আর যে ব্যক্তি এসব কাজ করে, সে শাস্তি ভোগ করবে।”

এরপরই কেমন যেন শাহবাগের চিত্র পরিবর্তন হয়ে উঠলো। যেন শত বছরের তৃঞ্চার্ত এই শাহবাগের মরুতে মোলায়েম বৃষ্টির এত পাশলা আবরণ বয়ে গেলো। অসংখ্য অন্যায়, অনৈতকা আর ব্যবিচারের সাক্ষি এই শাহবাগের মাটি যেন তার সবটুকু সত্ত্বা দিয়ে তেলাওয়াতকারীদের দোয়া দিয়ে যাচ্ছিলো তখন।

এটুকুতেই ক্ষ্যান্ত হয়নি তারা। যেই মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহী ওয়াসাল্লামকে ভয়ানকভাবে কটুক্তি হয়েছিলো এই শাহবাগ চত্ত্বরে সেই মহানবীর বানী (হাদীস) উচ্চারণ করলেন সংগঠনের কওমী মাদরাসা বিষয়ক সম্পাদক নুরুল বশার আজিজী। তিনি হাদীসের বানী থেকে বললেন – বুখারি শরীফে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্বপ্নের বিবরণ সম্বলিত যে হাদীসটি হযরত সামুরা বিন জুনদুব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে উল্লেখ রয়েছে এতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন; “জিবরাঈল ও মীকাঈল (আলাইহি সালাম) তাঁর কাছে এলেন এবং আমি তাঁদের সাথে পথ চলতে শুরু করলাম। এক পর্যায়ে আমরা বড় একটা চুল্লির কাছে এসে পৌঁছলাম। সে চুল্লির উপরি অংশ সংকীর্ণ ও নিম্নভাগ প্রশস্ত। ভেতরে বিরাট চিৎকারও শোনা যাচ্ছিল। আমরা চুল্লিটার ভেতরে দেখতে পেলাম উলংগ নারী ও পুরুষদেরকে। তাদের নিচ থেকে কিছুক্ষণ পর পর এক একটা আগুনের হলকা আসছিল আর তার সাথে সাথে আগুনের তীব্র দহনে তারা প্রচন্ডভাবে চিৎকার করছিল। আমি জিজ্ঞেস করলাম; হে জিবরাঈল! এরা কারা ? তখন তিনি বললেনঃ এরা ব্যভিচারী নারী ও পুরুষ”।

এভাবে তিনি আরও তিন চারটি হাদীস তেলাওয়াত করেছেন সেখানে।

এরপরই এলো একটি সংগীত। দরদ আর আবেগের মোহে জড়ানো আইনুদ্দীন আল আজাদ রহ. লিখিত একটি মায়াবী সংগীত গাইলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় প্রচার ও আন্তর্জাতিক সম্পাদক কে এম শরিয়তুল্লাহ। (Soriatullah) সংগীতের কয়েকটি লাইনটি ছিলো এমন – ‘কতো দিন কতো রাত চলে যায় যেন_পোহায় না রাত আমার… যেন পোহায় না রাত আমার। জালিমের অত্যাচারে ধরণীটা হয়েছে আধার_যেন পোহায় না রাত আমার” “…. যেদিকে কান ফিরাই, হাহাকার শুনিতে পাই_আহাজারী ভেসে আসে ইজ্জত হারাবার_পোহায় না রাত আমার_যেন পোহায় না রাত আমার”

এরপর একে একে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

সভাপতি এম. হাছিবুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন – বর্তমানে আওয়ামী সরকার বিগত ১ যুগ ধরে ক্ষমতায় রয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় ধর্ষণ আজ মহামারি আকার ধারণ করেছে। সরকারের নজিরবিহীন দূর্বৃত্তায়নের রাজনীতি, অঙ্গ সংগঠন বিশেষ করে ছাত্রলীগ, যুবলীগের আধিপত্যবাদ ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের ধারাবাহিক অধ্যায়। এভাবে ভোটবিহীন অবৈধ সরকার দেশের মধ্যে এক এক ক্ষমতা দানব সৃষ্টি করে রেখেছে।

একই সাথে তিনি বাংলাদেশের দন্ডবিধি থেকে যেসব আইনের ধরার মাধ্যমে ধর্ষকরা পার পেয়ে যাচ্ছে সে আইন ও ধারা পরিবর্তন করার জোর দাবি জানিয়েছেন।

সহ-সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল জলিল বলেন – ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার মাধ্যমে আমরা এদেশ স্বাধীন করেছিলাম। আমরা চেয়েছিলাম বাংলার বুকে একটি সুস্থ সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে। কিন্তু আমাদের দেশে সুস্থ সংস্কৃতির সেই বিকাশ হয়নি। এ দেশে ধর্ষণের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। আমার প্রশ্ন সেই ধর্ষকদের কারা প্রশ্রয় দিচ্ছে! যারা প্রশ্রয় দিয়ে ধর্ষকদের উৎপাদন করছে তাদেরও ধর্ষকদের সমানভাবে বিচার হওয়া উচিত।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল নূরুল করীম আকরাম সমাবেশের মূল আকর্ষণ একটি ‘চরমপত্র’ পাঠ করেছেন। দীর্ঘ সে চরমপত্র যেন ধর্ষণ রুখে দেওয়ার একটি কার্যকর সংবিধান। চরমপত্রে বাংলাদেশে ধর্ষণের করুণ চিত্র ও প্রতিটি সময়ে ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে ধর্ষকদের রক্ষার পায়তারার বিষয়টি তুলে আনা হয়েছে। বলা হয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা ধর্ষণ সেঞ্চুরিয়ান মানিকের কথা ও একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নেতা ধর্ষক সিমান্ত ও তার সহযোগীদের কথা। তোলা হয়েছে আইন সংস্কারের দাবি। কোন কোন ধারায় ধর্ষকরা পার পেয়ে যাচ্ছে বিচার থেকে সে বিষয়টিও আনা হয়েছে চরমপত্রে। বলা হয়েছে ধর্ষণের প্রতিকারের করণীয় সম্পর্কে।

চরমপত্রটি এতই সমৃদ্ধ ছিলো যে – তৎক্ষনাত আমি কয়েকজনকে বলতে শুনেছি, “ধর্ষণ প্রতিকারে এতো অসাধারণ কোন বয়ান আমি এর আগে কখনওই শুনিনি”।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল একে এম আব্দুজ্জাহের আরেফী বলেন – আমরা যদি একটু পিছনে ফিরে তাকিয়ে দেখি তাহলে বলতে পারবো – “অবৈধ ব্যক্তিদের দিয়ে কখনো বৈধ কাজ করা সম্ভব নয়। এ সরকার জনগণের সরকার নয় বরং অবৈধ সরকার। তিনি বলেন – যতদিন পর্যন্ত রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলামকে প্রতিষ্ঠা করা না যাবে ততদিন পর্যন্ত এই অন্যায় রুখে দেওয়া সম্ভব নয়।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম রিয়াদ বলেন – আজ বাংলাদেশে একটি ধর্ষণের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত দীর্ঘ ৫০ বছর বিভিন্ন সময়ে জনগণ ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য ঘটনার প্রতিবাদ করেছে। সরকার এ মুহূর্তে এসে একটি আইন পাশ করলেও ছাত্রজনতাকে শুধু আইন পাশের বিষয় দিয়ে রুখে যাওয়া যাবে না বরং আমরা বলতে চাই ধর্ষণের বিচার করতে হলে, ধর্ষণ বন্ধ করতে হলে দেশের ফ্যাসিবাদী এ রাষ্ট্রব্যবস্থাকে ভেঙে দিতে হবে।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ইউসুফ আহমাদ মানসুর বাংলাদেশে চলমান ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে একটি জরিপ পাঠ করে শুনিয়েছেন। বিভিন্ন পত্রিকার উদ্বৃতি দিয়ে তিনি জরিপটি তুলে ধরেছেন। বিগত দশ বছরে ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ হওয়ার চিত্র তুলে ধরেছেন তিনি।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সম্পাদক এম এম শোয়াইব বলেন – এ দেশে সংঘটিত প্রতিটি অন্যায় অবিচার এর বিপক্ষে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন ধারাবাহিকভাবে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের চেষ্টা করে এসেছে। তিনি বলেন – আপনারা জানেন, কিছুদিন পূর্বে বেগমগঞ্জে যে ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটেছে এটা কোন সুস্থ পৃথিবীর ঘটনা হতে পারে না। কোন সরকার থাকা অবস্থায় এমন ঘটনা ঘটতে পারে না। এদেশে যারা রয়েছে তারা কোন সরকার নয় বরং তারা দানব। তারা প্রতিটি ধর্ষিতা বোন ও মায়ের ইজ্জত নিয়ে তামাশা করছে। এদেরকে আর ক্ষমতায় থাকতে দেয়া হতে পারে না। এরা ভোটাধিকার চুরি করেছে এবং প্রতিটি অধিকারের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেছে।

সংগঠনের প্রকাশনা সম্পাদক এইচ এম সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন – দুঃখজনকভাবে এ দেশে ধর্ষকদের আড়াল করার জন্য যেভাবে ক্ষমতাসীনরা উঠে পড়ে লেগেছে তাতে আমার সন্দেহ হয় দশটি ধর্ষণের ঘটনায় সম্ভবত দুইটি ঘটনা চোখের সামনে আসে না। তিনি বলেন দুই একটা ঘটনা যে সামনে আসে তাতে ধর্ষকদের বিচার মাঝে মাঝে হয় বা বিচারের দাবি তোলা হয় কিন্তু যেনাকারী ও ব্যবিচারকারীদের বিচার এ দেশে হয় না তাই তাদের বিচারও সমানভাবে নিশ্চিত করতে হবে।

সংগঠনের কলেজ সম্পাদক এম হাসিব গোলদার বলেন – প্রিয় এই দেশ আমার। এই দেশকে আমি ধারণ করি। আমার এই দেশে কোন ধর্ষক থাকতে পারবে না। যে দেশে আমরা থাকবো সে দেশে কোন ধর্ষক থাকতে পারবে না। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি যদি ধর্ষকের অভায়ারণ্য হয় তাহলে সে দেশে বেঁচে থেকে আমাদের লাভ কি।

সংগঠনের কওমি মাদরাসা সম্পাদক নূরুল বশর আজিজী বলেন – বর্তমানে আমাদের দেশে যে অন্যায় অবিচার অনৈতিকতা চলছে তাতে খুব শীঘ্রই হয়তো করোনার চেয়েও আরো ভয়াবহ মহামারী আমাদেরকে গ্রাস করে ফেলবে। তাই অতি শীঘ্রই এই অচলাবস্থা দূর করতে আমাদের জোড়ালো ভূমিকা রাখা উচিত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় স্কুল সম্পাদক মাহমুদুল হাসান বলেন – নেপোলিয়ান বলেছিলেন, ‘আমাদের একটি শিক্ষিত মা দাও, আমি একটি শিক্ষিত জাতি দিব’ কিন্তু আজ বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে বলতে হয় – যে জাতির মায়ের নিরাপত্তা নেই। যে জাতি তার মায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না, সে জাতির আসলে কি হবে। তিনি বলেন – আজ দেশের প্রধানমন্ত্রী মহিলা, বিরোধী দলীয় নেত্রী মহিলা, রাজপথে যিনি রয়েছেন তিনিও মহিলা, তারপরও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। ক্ষমতাসীনরা ধর্ষকের বিচার করে না। তাদের কানে যেন কোন কথাই যায় না মনে হয় তারা কানে ক্ষমতার তুলা দিয়ে রয়েছেন।

সংগঠনের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় সম্পাদক মশিউর রহমান বলেন – আমরা আমাদের দেহের সর্ব শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে রাজপথে থাকবো ইনশাআল্লাহ।

কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুলাইমান দেওয়ান সাকিব বলেন – বাংলাদেশ ধর্ষক, চোর আর টেন্ডারবাজদের একটি স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। এই রাষ্ট্র যে চেতনা নিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছিলো সেই স্বাধীনতার চেতনা আজ ভূলুন্ঠিত।

এছাড়াও আলোচনা করেছেন বিশিষ্ট বক্তা মাওলানা হেদায়াতুল্লাহ আজাদী। তিনি বলেন – আজকে এখানে যারা উপস্থিত হয়েছে – কথা ছিল তারা বই, খাতা, কলম নিয়ে থাকবে কিন্তু আমাদের দেশে বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতা না থাকায় দেশে ধর্ষণ যেনা-ব্যভিচার মারাত্মক আকার ধারণ করায় এখানে আজ এই ছাত্র-জনতা প্রতিবাদে উপস্থিত হয়েছে।

সর্বশেষ বক্তব্য রেখেছেন সমাবেশের প্রধান অতিথি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর যুগ্ম মহাসচিব, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান। তিনি তার বক্তব্যে বলেন – যার আজ ক্ষমতা আছে সে এক ধরনের বিচারহীনতার সুবিধা ভোগ করে সেই সুবিধা তাকে নানা অপকর্মে প্ররোচিত করে। এর মধ্যে ধর্ষণ একটি। এর জন্য বর্তমান অবক্ষয়গ্রস্ত দলীয় রাজনীতি সবচেয়ে বেশি দায়ী। ক্ষমতার সুবিধা নিতে দলে দুর্বৃত্ত-অপরাধীরা নেতৃত্বের আসন পর্যন্ত বাগিয়ে নেয়। যখনই কারো অপরাধের খবর ফাঁস হয়ে হয়ে যায়, তখন বলা হয়, সে আসলে আমাদের দলের কেউ নয় অথবা অনুপ্রবেশকারী। এটা রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব। যে রাজনীতি মানুষকে স্বপ্ন দেখাবে, সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাবে, মানুষের পাশে থাকবে— তাদের মধ্যে কেউ কেউ এখন দুর্বৃত্ত হয়ে উঠছে, খুন-ধর্ষণ-চাঁদাবাজির মতো অপরাধ করছে। আসলে পুরো রাজনীতিই বর্তমানে দুর্বৃত্তকবলিত হয়ে পড়েছে। অপরাধীদের প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন। যেকারণে মাদক ব্যবসা, অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসা, চাঁদাবাজি, অর্থপাচার, খুন, রাহাজানির অভিযোগে তারা গ্রেফতার হন, ধর্ষণের ঘটনায় আসামি হন।

এছাড়াও ধারাবাহিকভাবে বক্তব্য দিয়েছেন ঢাকার বিভিন্ন প্রান্তের ইশার নেতৃবৃন্দ। তারা তাদের বক্তব্যে যিনা, ব্যবিচার আর ধর্ষণের কঠোর শাস্তি প্রয়োগসহ সরকারের নিস্ক্রিয়তার কঠোর সমালোচনা করে শাহবাগ চত্ত্বরে ইসলামপন্থীদের এক নতুন সাহসিকতার দিগন্ত খুলে দিলেন। এ পর্যায়ে বক্তব্য রেখেছেন – ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইমরান হোসাইন নূর, ঢাকা দক্ষিণ জেলা ইশার সভাপতি মো. রিয়াজ উদ্দীন, ছাত্রনেতা মাহবুবসহ ঢাকাস্থ বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও নগর নেতৃবৃন্দ।

নতুন সূর্যোদয় :

শাহবাগের গতকালের ঘটনা একটি নতুন সূর্যোদয়। দীর্ঘ সময় ধরে অত্যন্ত তাৎপর্যবাহী এই শাহবাগে যেন একটি বিশেষ গোষ্ঠির নিজস্ব খেয়াল খুশি ও জনগণের চাহিদা পা দিয়ে মাড়িয়ে যা খুশি তা করে বেড়াচ্ছিলো। ইসলাম ও মুসলমানিত্বকে শাহবাগে রাখা হয়েছিলো অছ্যুৎ করে। কিন্তু সেই শাহবাগে ইশা ছাত্র আন্দোলনের এ প্রোগ্রাম ও এক ওয়াক্ত নামাজ যেন ইসলামপন্থীদের হৃদয়ে এক পাশলা ফুলেল আভা ছড়িয়ে দিয়েছিলো। পুরো সোশ্যাল মিডিয়া ভরে উঠেছে প্রশংসার বণ্যায়। খুশিতে আত্মহারা হয়েছেন সর্বমতের, সর্বপথের মুসলমানরা। শত শত নয় বরং হাজার হাজার প্রশংসামূলক ফেসবুক পোস্টে আর বিশ্লেষণে যেন ভরে উঠেছে পুরো অঙ্গন।

এই শাহবাগের তাৎপর্য কম নয় – শাহবাগ
সেই স্থান যেখান থেকে ভারতীয় মুসলিমদের রাজনীতিক পুনর্জাগরণ শুরু হয়েছিল। উপমহাদেশের প্রখ্যাত মুসলিম চিকৎসক হাকিম আজমল খান, ঐতিহাসিক স্যার আমির আলী, নবাব স্যার সলিমুল্লাহসহ অসংখ্য মনীষা এখান থেকেই মুসলিম রাজনীতিক জাগরণের ডাক দিয়েছিলেন। এখানেই মুসলমানদের স্বাধীনসত্তার বুনিয়াদ স্থাপিত হয়েছিল। কালক্রমে সেই জায়গাটা একদল সংখ্যাগরিষ্ট জনগণের চেতনা বিরোধী, উন্মাদ, বিদেশি তল্লীবাহকদের, উগ্র সেক্যুলারদের প্রবাদজায়গায় পরিণত হয়েছিলো। ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের নেতারা সেই জায়গার বীরদর্পে কদম বাড়িয়েছে। একটি নতুন ভোরের সন্ধান দিয়েছে।

এই সন্ধানের সাক্ষি হতে পেরে নিজেকে অত্যন্ত গর্বিত মনে হচ্ছে।

আক্ষেপ :

ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের এই নতুন ও বিপ্লবী, সাহসি কদম বাড়ানোর অগ্রসেনানী আমার শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার একজন মানুষ শেখ ফজলুল করীম মারুফ ভাই। এই মানুষটিকে আজকের এই স্থানে, এই দিনের অবিচ্ছেদ্য অংশ দেখলে আমার কতোটা যে ভালো লাগতো তা বুঝাতে পারবো না। তবে এটা কেবলই আমার চাহিদা।

পরিশিষ্ট :

এই রিভিউটি লিখতে বলেছেন এম এম শোয়াইব ভাই। উনি আমাকে এই প্রোগ্রামের সমালোচনা করতে বলেছিলেন। অথচ শাহবাগের এই প্রোগ্রামের সমালোচনা করার শক্তি সাহস যে কারোর নেই তা হয়ত তিনি জানেনই না। মারুফ ভাই বলেছিলেন – মন্তব্য প্রতিবেদন করতে। জানি না প্রতিবেদনটা করতে পারবো কি না। কিন্তু রিভিউর এই লেখাটি অন্তত থাকুক। প্রশান্তি হয়ে।

আশা/চাওয়া :

এই শাহবাগে অদূর ভবিষ্যতে গাজী আতাউর রহমানের ঠান্ডা চিন্তার বিস্তারের বয়ান আর মুফতী সৈয়দ ফয়জুল করীমের রাজনৈতিক এক বজ্রকঠিন আওয়াজ দেখার সমূহ অপেক্ষায় থাকবো ইনশাআল্লাহ। এখান থেকেই ইসলামপন্থীদের ক্ষমতায়নের একটি নতুন ধারা তৈরি হবে বলে বিশ্বাস করি। ইসলামপন্থীদের সাথে নিজেরাই দূরত্ব তৈরি করে ফেলা ও ইসলামকে অছ্যুৎ বানিয়ে ফেলা তথাকথিত বামপন্থীরাও আশা করি এদেশের সত্য সুন্দর বাস্তবতা ধিরে ধিরে মেনে নিতে শিখে যাবে। শাহবাগের মালিকানা সকলের এ দলিলেও তারা গণস্বাক্ষর করে যাবেন।

ইনকিলাব জিন্দাবাদ।

দ্রষ্টব্য : যিনা-ব্যভিচার ও ধর্ষণ রোধে শাহবাগের ঐতিহাসিক সমাবেশ থেকে দেওয়া ইশা ছাত্র আন্দোলন-এর ৮ দফা সুপারিশমালা –

#এক. দেশের সর্বস্তরের নারী ও পুরুষদের প্রতি আহ্বান- পুরুষরা নারীকে সম্মান করুন। দৃষ্টি অবনত রাখুন ও নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করুন। অবৈধ সম্পর্ক নয়; বরং বৈবাহিক বৈধ সম্পর্ক গড়ে তুলে নারীত্বের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করুন।

নারীগণ চাল-চলন ও পোষাকে শালীনতা বজায় রাখুন। দেশীয় ও মুসলিম সংস্কৃতি পরিপন্থী আচরণ পরিহার করুন। বিবাহবহির্ভূ সম্পর্ক, পরকীয়া ও প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিরত রাকুন।

#দুই. পরিবার ও সমাজের প্রতি আহ্বান- আপনার সন্তানকে ধর্মীয় অনুশাসন ও নৈতিক মূল্যবোধ শিক্ষা দিন। সৎসঙ্গে উৎসাহিত করুন। বিবাহ বন্ধনকে সহজ করে তুলুন। যৌন, মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের বিরুদ্ধে ঘৃণা সৃষ্টি ও অপরাধীকে সামাজিকভাবে বয়কট ও প্রতিরোধ গড়ে তুলুন।

#তিন. শিক্ষক, ইমাম ও জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান- যিনা-ব্যভিচার ও ধর্ষণ বন্ধে শিক্ষকগণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে, ইমামগণ মসজিদের মিম্বার থেকে সামাজিক সচেতনতা ও জনমত গঠনে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করুন। জনপ্রতিনিধিগণ ধর্ষককে আর্থিক লেনদেন, আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়া থেকে বিরত থাকুন এবং নিপীড়িতকে বিচার পেতে ভূমিকা পালন করুন।

#চার. বিচারক ও আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে নিয়োজিতদের প্রতি আহ্বান-
ব্যভিচার ও ধর্ষণ রোধে আইনের শাসন বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ কার্যকরি শক্তি রয়েছে আপনাদের হাতে। তাই নিপীড়িতের প্রতি সদয় হোন এবং অপরাধীকে বিচারের মুখোমুখী করতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। ধর্ষনের মামলায় আরোপিত ফি বাতিল এবং শুধু আইনের নীতিগত অনুমোদন নয়; বরং দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল ও শরীয়া আইনের মাধ্যমে ধর্ষনের শাস্তি কার্যকর করুন।

#পাঁচ. মিডিয়া ও গণমাধ্যম ও ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান- ধর্ষণ ও ব্যভিচারে উস্কানিমূলক নাটক-সিনেমা, কমিক্স ও বিজ্ঞাপন প্রদর্শনী বন্ধ করুন। অবাধ যৌনাচার, অবৈধ সম্পর্ক, পরকীয়া, লীভ-টু-গেদার তথা অবৈবাহিক সম্মতিসূচক যৌন সম্পর্ক ও নারীকে পন্যরূপে উপস্থাপন থেকে বিরত থাকুন। পর্নোগ্রাফি, অশ্লীল ওয়েব সাইট, ওয়েব সিরিজ এবং ভারতীয় ও পশ্চিমাসহ ভিনদেশী অপসংস্কৃতি বিস্তার, ইতিবাচকভাবে প্রচার বন্ধ করতে কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

#ছয়. আইন প্রনেতাদের প্রতি বৃটিশ প্রবর্তিত ১৮৬০সালের দন্ড বিধির ধারা ৩৭২, ৩৭৩, ৩৭৫, ৩৭৬, ৪৯৭ এবং ৪৯৮ ধারাগুলো ধর্ষনের পৃষ্ঠপোষকাতায় অনেকাংশে ভূমিকা পালন করে। এক্ষেত্রে এ ধারাগুলো পরিবর্তন করতে হবে এবং শরীয়াহ বোর্ডের মাধ্যমে নতুন আইন প্রণয়ন করতে হবে।

#সাত. সরকারের প্রতি আহ্বান- মাদক উৎপাদক, আমদানী, বৈধাবৈধ মদের বার, নাইট ক্লাব, স্পা এবং সকল প্রকার পতিতাবৃত্তি বন্ধ করুন।

#আট. সর্বোপরি দেশের বিচারব্যবস্থা, সরকার ও বিরোধী দলের প্রতি সারাদেশে সরকারের ছত্রছায়ায় যিনা ব্যভিচার ও ধর্ষকদের উৎপাদন কারখানা বন্ধ করতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারী দল, বিরোধী দল শিক্ষক রাজনীতিবীদ, সকল দায়িত্বশীলদের ব্যক্তিদের ঐক্য বদ্ধ ভাবে এ মহামারী থেকে রক্ষা পেতে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

এই পোষ্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন।

Design & developed by Masum Billah