বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ০৫:৪৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
চরমোনাই পীর ও মামুনুল হকের কিছু হলে তৌহিদী জনতা বসে থাকবে না মাওলানা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে গাজীপুরে যুব মজলিসের বিক্ষোভ ময়মনসিংহে যুব মজলিসের বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত!! মামুনুল হক যে বক্তব্য দেন তা রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল: রাব্বানী মাস্কের হাটে কারও মুখে মাস্ক নেই কেন রাজধানীর মহাখালীর সাততলা বস্তির আগুনে পুড়ে গেছে ২০০ ঘর ও ৩৫টির বেশি দোকান মুফতি ফয়জুল করীম ও মাও. মামুনুল হকের কিছু হলে তৌহিদী জনতা বসে থাকবে না: মুফতি আবদুল্লাহ ইয়াহইয়া “কথিত ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’ কর্তৃক ওলামায়ে কেরামদেরকে বিষোদগার ও ওয়াজ মাহফিলে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন” ইসলামের দৃষ্টিতে মূর্তি ও ভাস্কর্য ভাস্কর্য না করে স্মৃতি মিনার করুন, তাতে বঙ্গবন্ধুর আত্মা শান্তি পাবে : মুফতী ফয়জুল করীম

আজকের বিক্ষোভ : কিছু পর্যবেক্ষণ সৈয়দ শামছুল হুদা

বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশের সাথে সমন্বয় রেখে বাংলাদেশের তৌহিদী জনতাও আজ রাজপথে নেমে এসেছিল। সারা বাংলাদেশের সবগুলো শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলো তৌহিদী জনতা তথা নবী প্রেমিকদের পদভাবে প্রকম্পিত হয়ে উঠেছিল। আজকের বিক্ষোভে যা কিছু নতুনত্ব ছিল তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল কলরব শিল্পী গোষ্ঠীর শিশু-কিশোরদের চমৎকার সাংস্কৃতিক প্রতিবাদ। নবীর প্রতি তাদের ভালোবাসা প্রদর্শনে তাদের পারফরমেন্স ছিল খুবই আকর্ষণীয়। তাদের বক্তব্য, তাদের হাতে রাখা প্লে-কার্ড, তাদের গানে গানে প্রতিবাদের ধরণটা সত্যিই ছিল ব্যতিক্রম। এর পাশাপাশি দীর্ঘদিন পর আজ মাঠে নেমেছে হেফাজতের ব্যানার। নেতৃত্বে ছিলেন আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী দা.বা.। এই বৃদ্ধবয়সে আল্লামা বাবুনগরী দা.বা. যেভাবে ফ্রান্সের ঔদ্ধত্যের বিরুদ্ধে হুঙ্কার দিয়ে রাজপথে নেমে এসেছেন তা ছিল আশাব্যঞ্জক।

কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো আমি এই পর্যন্ত অনেকগুলো মিছিল এবং বিক্ষোভের ছবি দেখেছি। কোন একটি প্রোগ্রামের ব্যানারটি সুন্দরমতো পড়া যায় এমন একটি প্রোগ্রামও দেখতে পেলাম না। আর্ন্তজাতিক ইস্যুতে আমাদের প্রতিবাদের ধরণগুলোর মাধ্যমে বিশ্বকে আকর্ষণ করার যোগ্য করে তুলতে যে সকল পলিসি গ্রহন করা দরকার ছিল, সেটা আমরা কোনভাবেই পালন করতে পারিনি। অসংখ্য এলাকায় অনেক বড় ধরণের শোডাউন হয়েছে। কিন্তু সে সব মিছিলের একটিতেও বাংলাদেশের কোন পতাকা ছিল না। কোন ব্যানার ছিল না। কোন ব্যানার পাঠ করা যায় এমন কোন ছবি ছিল না।

আমরা কিছুদিন আগে দেখেছি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ফ্রান্স দূতাবাস ঘেরাওয়ের সময় বায়তুল মুকাররমে তারা খুব সুশৃংখলভাবে দাঁড়িয়েছিল, ব্যানার এর সামনে একজন লোককেও দাঁড়াতে দেয়নি। পরবর্তীতৈ মিছিল করার সময় সেখানেও তারা সুন্দর করে ছবি তোলার মতো করে সময় দিয়ে ব্যানার ব্যবহার করেছিল। যে কারণে সেদিনের মিছিলটি বিশ্ব মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। আল জাজিরা এসব মিছিলের ভিডিও প্রকাশ করেছে।আলী সাল্লাবীর মতো বিশ্ববিখ্যাত কলামিস্টগণ স্টেটাস দিয়েছেন। সেখানে খুব চমৎকারভাবে বড় ধরণের একটি পতাকাও ব্যবহার করা হয়েছিল। যা খুব চমৎকারভাবে বাংলাদেশকে প্রেজেন্টেশন করেছে।

দুঃখজনক বিষয় হলো, আজ শুক্রবার, অনেক বড় বড় বিক্ষোভ হয়েছে। কিন্তু কোন একটি মিছিলও খুব সুন্দরভাবে আজ প্রদর্শন করা সম্ভব হয়নি।কোন একটি মিছিলের ব্যানার আমরা পুরোটা দেখতে পাইনি। পড়তে পারিনি। আমার প্রশ্ন, আমাদের কেন এত তাড়াহুড়ো? আমরা যদি বিশ্বশক্তির দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই, তাহলে আমাদের এত তাড়া কেন? আমরা কেন স্বস্তির সাথে, দৃঢ়তার সাথে, পরিচ্ছন্নভাবে, গোছালোভাবে বড় মিছিলগুলো প্রদর্শন করতে পারি না? আজকে যদি সবগুলো মিছিল সুন্দরভাবে করতে পারতাম, তাহলে একদিনের মিছিলেই বিশ্ব মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করা সম্ভব হতো। প্রতিদিন আমাদের মিছিল করতে হতো না।

একটি বিষয় লক্ষ্য করছি, শুধু করার জন্য করা, এমন অনেক প্রোগ্রাম দেওয়া হচ্ছে। দু’দিন পরপর একই ইস্যুতে অগোছালো আন্দোলন করা হচ্ছে। একটি ইস্যুতে একটি দল খুব গুছিয়ে একটি বড় প্রোগ্রাম করলেইতো যথেষ্ট। দুদিন আগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বায়তুল মুকাররম উত্তর গেইটে ফ্রান্স দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচী পালন করেছে। তারা এটা জেনে বুঝেই করে যে, তারা দূতাবাসের ধারে-কাছেও যেতে পারবে না। তদুপরি একটি বড় ধরণের শৃ-সৃংখল প্রোগ্রাম সম্পন্ন করে। একই ইস্যুতে দুদিন পর হেফাজত ব্যানারে একই জায়গা থেকে দূতাবাস ঘেরাওয়ের কর্মসূচীর কথা ফেসবুকে ভেসে বেড়াচ্ছে। আসলে এগুলো কতটুকু আন্তরিকতার সাথে করা হচ্ছে, আর কতটুকু শুধুই দলবাজি, নিজেদেরকে জাহির করার জন্য করা হচ্ছে সেটা ভেবে দেখার সময় এসেছে।

আমার মনে হয় এখন রাজপথের আন্দোলন থেকে সরে এসে সরকার, বিভিন্ন ব্যবসায়ি গ্রুপ তাদের সাথে বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিদের বৈঠক হতে পারে। কূটনৈতিকভাবে কীভাবে ফ্রান্সের এহেন ঘৃন্য কাজের নিন্দা করা যায় তার একটি রূপরেখা তৈরী করা যেতে পারে। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের অবস্থান পরিস্কার হয়ে গিয়েছে। এখন কূটনৈতিক চ্যানেলে কাজ বাড়ানো দরকার। আন্দোলনের সফলতা অর্জনের জন্য এর কোন বিকল্প নেই। প্রতিদিন বিক্ষোভ মিছিল না করে জায়গামতো দুয়েকটা বৈঠক করতে পারলে এরচেয়ে অনেক বেশি কাজ হতো। এই ইস্যুতে সরকারের সাথে ইসলামী দলগুলোর বসা উচিত। সরাসরি সরকারের সাথে কাজ করা উচিত। বিশেষকরে পার্লামেন্টে নিন্দা প্রস্তাব পাশ করানো, ফ্রান্সের সাথে অর্থনৈতিক লেন-দেন সীমিত করণ ইত্যাদি বিষয়ে সরকার ও ব্যবসায়ী সমাজের সাথে আলেম-উলামাদের বসা উচিত বলে আমি মনে করি।

আমাদের সকল ইসলামী দলের নেতৃবৃন্দকে বিষয়টি ভেবে দেখার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি।

রুফাকা টাওয়ার
30.10.2020

এই পোষ্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন।

Design & developed by Masum Billah