মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২১, ০৪:১১ পূর্বাহ্ন

প্রেমের বিয়ের পর মৃত্যু, কবর থেকে তোলা হলো নারীর লাশ

তাহমিনা আক্তার ঝুমুর। মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার শ্রীনগরের সামষপুর গ্রামের জয়নাল খানের মেয়ে। প্রেমের সম্পর্ক থাকায় ১৭ বছর আগে তার বিয়ে হয় উপজেলার মেদিনী মণ্ডল আনোয়ার চৌধুরী উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক আবু নাছের লিমনের সঙ্গে। তাদের ঘরে মো. আনাছ খান (১৪) ও মো. আহাদ খান (৭) দুই সন্তান রয়েছে।

গত বছর ২৪ জুলাই হঠাৎ মৃত্যু হয় ঝুমুরের। কাউকে কিছু না জানিয়ে স্ত্রীর লাশ দাফন করে ফেলেন লিমন। সম্প্রতি ভগ্নীপতির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন মৃতের ভাই মো. কামরুজ্জামান খান কামরুল। ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আজ রোববার ঝুমুরের লাশ কবর থেকে ময়নাতদন্তের জন্য তুলেছে পুলিশ।

আজ রোববার দুপুর ১টার দিকে মাওয়া চৌরাস্তা সংলগ্ন পশ্চিম কুমারভোগ কবরস্থানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইলিয়াস শিকদারের উপস্থিতিতে কবর থেকে  ঝুমুরের লাশ উত্তোলন করা হয়।

 

কামরুলের দায়ের করা মামলায় লিমন ছাড়াও অপর আসামি হলেন তার পরকীয়া প্রেমিকা দিলরুবা আক্তার। মামলার পর থেকে শিক্ষক লিমন পলাতক আছেন। আজ রোববার উত্তোলনের পর ঝুমুরের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের পর বহু বছর কেটে গেলেও সামষপুর গ্রামের বাসিন্দা ইসমাইল সরকারের স্ত্রী দিলরুবা আক্তারের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন মেদিনী মণ্ডল আনোয়ার চৌধুরী উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক আবু নাছের লিমন। এ সম্পর্কের বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়ে গেলে বিষয়টি স্বামীকে জিজ্ঞাসা করেন ঝুমুর। লিমনকে বাধাও দেন তিনি। এরপর থেকে তাকে নানাভাবে অত্যাচার করতে শুরু করেন এই শিক্ষক।

গত বছর ২৪ জুলাই পরকীয় প্রেমিকাকে ঘরে নিয়ে আসেন লিমন। বিষয়টি মেনে না নিয়ে দিলরুবাকে ঘর থেকে বের হয়ে যেতে বলেন ঝুমুর। এ সময় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন লিমন। পরে প্রেমিকাসহ স্ত্রীকে মারধর করেন। একই দিন বিকেল ৫টায় স্ত্রীকে গলাটিপে হত্যা করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করেন ঝুমুরের ভাই কামরুল।

এজাহারে কামরুল আরও বলেন, কাউকে কিছু না জানিয়ে ১৫/২০ জন লোক মিলে ২৪ জুলাই রাত আড়াইটার দিকে পশ্চিম কুমারভোগ কবরস্থানে ঝুমুরের লাশ দাফন করে ফেলা হয়। স্বজনরা ঝুমুরের মৃত্যু সংবাদ জানতে পেরে লিমনের কাছে মৃতুর কারণ জানতে চাইলে তিনি কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি।

মুন্সীগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-৬ এ দ.বি. ৩২০/৩০২/৩৪ ধারায় গত ১০ অক্টোবর সিআর মামলা (৮১) দায়ের করা মামলায় এ তথ্যগুলো লিপিবদ্ধ করেছেন মো.কামরুজ্জামান খান।

লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর হোসাইন বলেন, ‘গত মাসে মামলাটি আদালত হতে থানায় আসে। আজ ১০ জানুয়ারি রোববার দুপুর ১টার দিকে ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইলিয়াস সিকদারের উপস্থিতিতে নিহত ঝুমুরের লাশ কবর হতে তুলে ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারের হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

এদিকে নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঝুমুরকে দাফন-কাফন ও গোসল করার সময় তার গলায় কালো দাগ দেখা গিয়েছিল। মুঠোফেনে দাগের ছবি তুলে রাখে মৃতের পরিবার। দাগের কারণেই ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড বলে মনে করা হচ্ছে বলেও ওসি জানান।

এই পোষ্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন।

Design & developed by Masum Billah