বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ০৪:৩১ অপরাহ্ন

শিরোনাম:
বন্ধ করে দেয়া হলো খার্তুম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পাকিস্তানে বিদ্রোহীদের সাথে সংঘর্ষে ৪ পুলিশ সদস্য নিহত কথিত প্রগতিশীলদের বাধা: যুক্তরাজ্যের প্রোগ্রামে যেতে পারেননি মাওলানা আজহারী কবরে থেকেও মামলার আসামি হাফেজ্জী হুজুরের নাতি নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩০ আমেরিকাসহ পশ্চিমা দেশগুলোর কূটনীতিকদের সঙ্গে আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক প্রথমবারের মতো ক্যামেরার সামনে আসলেন মোল্লা ইয়াকুব আজ বন্ধ হতে পারে অনেকের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট এখন শেখ হাসিনার অলৌকিক উন্নয়নের গল্প শোনানো হচ্ছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাবজি খেলতে দেয়ার প্রলোভনে শিশুদের বলাৎকার করতেন স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা

‘আল-জাজিরা প্রতিবেদন মিথ্যা প্রমাণ করুন’

যুবকণ্ঠ ডেস্ক;

কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সম্প্রচারমাধ্যম ‘আল-জাজিরা’ বাংলাদেশ সম্পর্কে যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, সেটি যে মিথ্যা- তা প্রমাণ করতে আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। আজ সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক প্রতিবাদ সমাবেশে এ আহ্বান জানান তিনি। এ সমাবেশে সরকারের সমালোচনা করেছেন বিএনপির স্থানী কমিটির নেতা- গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, রুহুল কবির রিজভীসহ অনেকেই।

আল জাজিরায় প্রকাশিত প্রতিবেদন সম্পর্কে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘এ বছর আমাদের স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তীর বছর। আমি শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের এবং আমার নেতা স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি, দেশ স্বাধীন করেছি; এ কথা শোনার জন্য নয় যে, বাংলাদেশ একটি মাফিয়া দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। এ কথা শোনার জন্য নয়; বাংলাদেশ একটা মাফিয়া রাষ্ট্র। এ কথা আমরা আর কখনো শুনতে চাই না। আমরা সরকারকে বলতে চাই; আপনারা দয়া করে প্রমাণ করুন আল-জাজিরায় যা কিছু আসছে সব মিথ্যা। আমরা আপনাদের সমর্থন দেবো, আমরা আপনাদের সাহায্য করবো। প্রমাণ করেন। শুধু মুখে ফাঁকা বুলি আওড়াচ্ছেন।’

আব্বাস আরও বলেন, ‘একজন মন্ত্রী আছেন, কী বলব নাম বলতে ঘৃণা লাগে। কি কয়, না কয় তার কোনো হিসাব নাই। কয় এই সমস্ত বাজে কথা। আমরা মামলা করবো। এই প্রসঙ্গ আমার এক বন্ধু খুব খারাপ ভাষায় বলেন আরকি- যে কাজটা করতে পারবেন না, সেটা নিয়ে আর টানাটানি কইরেন না। মামলা করলে মামলা করে দেখান। ঠিক আছে। কিন্তু এই কথা আমরা শুনতে চাই না স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তীতে যে, বাংলাদেশ মাফিয়া রাষ্ট্র। এটা দুঃখজনক, দুর্ভাগ্যজনক।’

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমরা কখনো আল-জাজিরা দেখতে চাই না। আমাদের দেখতে হচ্ছে কেনো? আল-জাজিরায় যে সমস্ত প্রকাশ করা হয়েছে তা বাংলাদেশের দুর্নীতির এক হাজার ভাগের এক ভাগ। সরকার তার স্বভাবসুলভ তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে তার প্রতিবাদ জানায়। তথ্য-প্রমাণ দিয়ে আপনাদেরকে প্রমাণ করতে হবে আল-জাজিরা সঠিক নয়। আল-জাজিরার খবর থেকে জনগণ মুক্তি চায়।’

গুলশানে খালেদা জিয়া গৃহবন্দী উল্লেখ করে গয়েশ্বর বলেন, ‘আজকে খালেদা জিয়া ভাই-বোনদের সাথে দেখা করতে পারে না কেন? কী কারণ, বুঝতে কষ্ট হয়। করোনার কারণে খালেদা জিয়াকে বাড়িতে রেখেছে। হাসপাতালে রাখলে সেই চিকিৎসা না দিতে পারলে যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে! খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয় না।
বিএনপি এতো বড় একটি দল, এই দলের হাজারো নেতা-কর্মী। কী কারণে খালেদা জিয়া বন্দি থাকবে? আর আমরাই বা কেন মুক্ত কণ্ঠে শুধু আকুতি জানাবো? মুক্তির জন্য কিছু করবো না? আশা করি আমার কথা আপনাদের বুঝতে কষ্ট হয় নাই। সকলের একই কথা- খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই, গণতন্ত্রের মুক্তি চাই, দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন চাই।’

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চুরি করেছে। চুরি করতে করতে অবস্থা এমন জায়গায় গিয়ে ঠেকেছে ছাত্রলীগ নেতারা এখন ছাগল চুরি করছে। এই দেশ চালাচ্ছে মাফিয়ারা। আপনারা দেখেছেন মাদারীপুরের একজন স্বতন্ত্রপ্রার্থী তাকে ঢাকায় তুলে আনা হয়েছে। এ কাজের সাথে পুলিশসহ আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা জড়িত।’

সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘এই সরকারের কাছে খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে লাভ নেই। এই সরকারের পতন ঘটাতে হবে।’

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেলের সভাপতিত্বে এবং দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার ও উত্তরের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম নকির পরিচালনায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা আমান উল্লাহ আমান, আব্দুস সালাম, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, আমিরুল ইসলাম খান আলিম, মুন্সী বজলুল বাছিত আঞ্জু, হাবিবুর রশিদ হাবিব, যুবদলের সাইফুল আলম নীরব, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, মহিলা দলের হেলেন জেরীন খান, স্বেচ্ছাসেবক দলের আব্দুল কাদির ভূইয়া জুয়েল, কৃষকদলের হাসান জাফির তুহিন, ছাত্রদলের ফজলুর রহমান খোকন, কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, সাইফ মাহমুদ জুয়েল প্রমুখ। আরও অংশ নেন বিএনপির হাবিবুর রহমান হাবিব, আজিজুল বারী হেলাল, মীর সরাফত আলী সপু, শামীমুর রহমান শামীম, নাজিমউদ্দিন আলম, নিপুণ রায় চৌধুরী, রফিক শিকদার, আবদুল খালেক, রাজীব আহসান, মোরতাজুল করীম বাদরু, মোস্তাফিজুর রহমান, একেএম মোয়াজ্জেম হোসেন, নবী উল্লাহ নবী, ইউনুস মৃধাসহ অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved ©2020 jubokantho24.com
Website maintained by Masum Billah