বুধবার, ১২ মে ২০২১, ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র শীতে ২১ জনের মৃত্যু, বিদুৎহীন লাখ লাখ মানুষ

যুবকণ্ঠ ডেস্ক;

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলের বড় অংশ জুড়ে মারাত্মক ঠাণ্ডা আবহাওয়া চলছে। এর প্রভাবে বিদুৎহীন হয়ে পড়েছে লাখ লাখ মানুষ। একাধিক রাজ্যে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ২১ জন মানুষের। বিদ্যুতের সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হয় টেক্সাসে। মঙ্গলবার সেখানকার ৪০ লাখ বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বরফ পড়া ঠাণ্ডাতে বিদুৎহীন হয়ে পড়ে। আপ্পালেসিয়ার অংশ বিশেষে আরও প্রায় আড়াই লাখ মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। এছাড়া উত্তর-পশ্চিম ওরেগনে তুষার ঝড়ের পর প্রায় চার লাখ মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে যায়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

নর্থ ক্যালিফোর্নিয়ার একটি সমুদ্র তীরবর্তী শহরে টর্নেডো আঘাত হানার পর তিন জনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে।  ক্যালিফোর্নিয়ায় ঘর গরম রাখতে ব্যবহার করা আগুন ছড়িয়ে পড়ে নিহত হয়েছে একই পরিবারের চার সদস্য। এছাড়া লুইজিয়ানা, কেন্টাকি এবং মিসৌরিতে গাড়ি দুর্ঘটনা, বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়াসহ বিভিন্ন কারণে বাকিদের মৃত্যু হয়েছে।

ঝড়ের কারণে বিদ্যুৎহীনতা তীব্র হয়েছে আর অচল হয়ে পড়েছে দক্ষিণাঞ্চল। ভারি তুষারপাত আর বরফ বৃষ্টিতে তীব্র হয়েছে ঠাণ্ডা। শিকাগোতে প্রায় দেড় ফুট তুষারপাতের কারণে মঙ্গলবার বন্ধ করে দেওয়া হয় স্কুল।
চরম ঠাণ্ডা আবহাওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কোভিড-১৯ টিকাদান কর্মসূচি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন জানিয়েছে, টিকা পরিবহন ও সরবরাহ বিঘ্নিত হতে পারে।

টেক্সাসে বিদুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে না পারায় সমালোচনার মুখে পেড়ছে সেখানকার কর্তৃপক্ষ। বাড়ি গরম রাখতে হিমশিম খাচ্ছে সেখানকার বহু মানুষ। অস্টিনের বাসিন্দা ম্যাথু মিকিকের বাড়ি ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকে। বাড়ির তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি বাড়াতে ব্যর্থ হয়ে তিনি বরফ আর তুষারের মধ্যে কাছের স্যান মার্কোস শহরের একটি হোটেল রুমে আশ্রয় নেন। পরে সেখানেও বিদ্যুৎ চলে গেলে গাড়িতে রাত কাটাতে বাধ্য হন তিনি।

এছাড়া বরফ হয়ে যাওয়ায় এবং সরবরাহ লাইন ফেটে যাওয়ায় পানি পাচ্ছেন না অনেকেই। অনেক বাসিন্দাই পানির জন্য বরফ ফুটিয়ে পান করছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved ©2020 jubokantho24.com
Website maintained by Masum Billah