রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ০৪:০৬ অপরাহ্ন

তুরস্কের বিশিষ্ট মুহাদ্দিস শায়খ আমিন সিরাজের ইন্তেকাল

যুবকণ্ঠ ডেস্ক;

করোনাক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করলেন তুরস্কের প্রখ্যাত ইসলামী ব্যক্তিত্ব ও বরেণ্য হাদিস বিশেষজ্ঞ শায়খ মুহাম্মাদ আমিন সিরাজ। গতকাল শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধায় তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর ইন্তেকালের খবর জানানো হয়। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স ছিল আনুমানিক ৯০ বছর। খবর আল জাজিরা

শায়খ মুহাম্মাদ আমিন সিরাজের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান, ভাইস প্রেসিডেন্ট ফুয়াত উকতাই এবং স্পিকার মুস্তাফা সেনটপ।

শায়খ সিরাজ আমিন তুরস্কের উত্তরাঞ্চলীয় টোকাট প্রদেশের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ঘরোয় পরিবেশে মাত্র ছয় বছর বয়সে কোরআন পাঠ সম্পন্ন করেন। তখনকার সময়ে কোরআন শিক্ষায় তুরস্কে নিষেধাজ্ঞা ছিল। সন্তানদের আরবি ভাষা ও পবিত্র কোরআন শেখানোর অপরাধে তাঁর বাবা হাফেজ মুস্তফা আফেন্দিকে ছয় মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।

১৯৪০ সালে তাঁর পরিবার তাঁকে মেরজিফন প্রদেশ এরপর ইস্তাম্বুল নগরীতে পাঠান। বিখ্যাত আল ফাতেহ মসজিদের ইমাম উমর আফেন্দির তত্ত্বাবধানে অনেক দিন শিক্ষা লাভ করেন। এরপর শায়খ সুলায়মান আফেন্দির কাছে সহিহ বোখারি গ্রন্থ পাঠ করেন এবং হাদিসের সর্বপ্রথম ‘ইজাজত’ তথা অনুমোদন লাভ করেন।

১৯৫০ সালে শায়খ সিরাজ মিশরের বিশ্ববিখ্যাত আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমান। মিশর সফর তখনকার সময়ে অনেক কঠিন ছিল। অনেক পথ গিয়েও প্রথম বার তাঁকে ফিরে আসতে হয়। কিন্তু উচ্চশিক্ষার দৃঢ় আকাঙ্ক্ষা তাঁকে মিশর যায়। এবং মিশরের জামিউল আজহারের উচ্চতর বিভাগে পড়াশোনা শুরু করেন। তৎকালীন সময়ে মিশর ও শাম অঞ্চলের শ্রেষ্ঠ ইসলামী ব্যক্তিত্বদের কাছে তিনি হাদিস ও তাফসির বিষয়ে পাঠ গ্রহণ করেন।

পঞ্চাশের দশকে রাজনৈতিক কারণে তুরস্কের বিখ্যাত ইসলামী স্কলাররা মিশরে অবস্থান করেন। এ সুযোগে উসমানি সম্রাজ্যের বিখ্যাত আলেম শায়খ জাহেদ আল কাওসারি ও মুসতফা সাবরি আফেন্দির সান্নিধ্যে শায়খ সিরাজ অবস্থান করেন এবং উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন। ১৯৬০ সালে শায়খ আমিন সিরাজ তুরস্কে ফিরে আসেন।

ষাটের দশকের অভ্যুত্থানকালে বাধ্যতামূলক সামারিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে শায়খ সিরাজ তুরস্কের ধর্মীয় ব্যক্তি হিসেবে নিয়োগ পান। কিন্তু ইসতাম্বুলে হাদিস অধ্যাপনা ছিল তাঁর একান্ত ইচ্ছা। তাই সরকারি দায়িত্ব ছেড়ে তিনি ইসলামী শিক্ষা প্রচারে পুরোপুরি আত্মনিয়োগ করেন।

আধুনিক তুরস্কের ধর্মহীনতার বেড়াজালে যে নিভৃতচারী আলেমরা ইসলাম প্রসারে ব্যাপক ভূমিকা পালন করেন, তাদের অন্যতম ছিলেন শায়খ আমিন সিরাজ। লেখালেখি, সম্পাদনা, অনুবাদ, পাঠদান, দাওয়াতসহ মুসলিম সমাজ পুনর্গঠনে সর্বত্র নিজেকে সম্পৃক্ত রাখেন তুরস্কের এ মহান মনীষী। সাইয়েদ কুতুব রচিত তাফসির গ্রন্থ ‘ফি জিলালিল কোরআন’ শায়খ সিরাজ তুর্কি ভাষায় অনুবাদ করেন।

সূত্র : আল জাজিরা নেট

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved ©2020 jubokantho24.com
Website maintained by Masum Billah