মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১, ০৭:৩১ অপরাহ্ন

শিরোনাম:
রাবেতাতুল ওয়ায়েজীন বাংলাদেশ মাওলানা মামুনুল হকের পাশে থাকবে। গ্রেফতার ঝুঁকিতে হেফাজত নেতৃবৃন্দ : করণীয় কি? সৈয়দ শামছুল হুদা মসজিদে তারাবির নামাজে ২০ জনের বেশি নয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে কুরআন নাজিলের মাসে হিফজুল কুরআন ও ক্বেরাত বিভাগ খুলে দিন -আল্লামা মুফতি রুহুল আমীন ২৯শে মে জাতীয় ওলামা মাশায়েখ সম্মেলন গণগ্রেফতার ও হয়রানী বন্ধ করুন: মামুনুল হক মানহানী ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করতে পারবেন: সুপ্রিমকোর্ট আইনজী ৩১৭ বছরের পুরনো মসজিদ উদ্বোধন করলেন আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী পাথরের ট্রাকে ২কোটি টাকার হেরোইন উদ্ধার – আটক২ সাংসদ বেনজীর আহমেদ করোনায় আক্রান্ত সাভারে জোর করে বের করে দেয়া ভাড়াটিয়াদের রক্ষা করলো পুলিশ

আরব বিশ্বে তুরস্কের প্রভাব জেঁকে বসছে

যুবকণ্ঠ ডেস্ক;

মধ্যপ্রাচ্যের আধিপত্যের রাজনীতিতে তুরস্ক কোনও নতুন নাম নয়। দেশটির অটোমান সাম্রাজ্য ৫ শ’ বছর ধরে এই অঞ্চল শাসন করেছে। ২০১১ সালের আরব বসন্তে ইসলামীপস্থী আন্দোলন দমিয়ে দেয়ার পর এবং পশ্চিমা শক্তিগুলি এই অঞ্চল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলে, তুরস্ক অঞ্চলটিতে আরও দৃঢ়ভাবে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে। তুরস্কের শক্তিশালী নেতা রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান দেশটিকে ইসলামি শাসনের মডেল হিসাবে এবং নিজেকে মুসলিম বিশ্বের নেতা হিসাবে তুলে ধরেন।
গত এক বছরে তুরস্ক উত্তর-পূর্ব সিরিয়াতে ঘাঁটি গেড়েছে, ইরাকের অভ্যন্তরে আক্রমণ করেছে এবং লিবিয়ার গৃহযুদ্ধে হস্তক্ষেপ করেছে। ২০১৬ এর পর থেকে দেশটির সামরিক ব্যয় প্রায় অর্ধেক বেড়ে গেছে। অতি সম্প্রতি তুরস্ক সাংস্কৃতিক এবং অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতে শুর করেছে, বিশেষত তুর্কি ধারাবাহিক অনুষ্ঠান এবং উন্নয়ন প্রকল্পগুলির মাধ্যমে

তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরে সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বিদ্রোহীদের সমর্থন করেছে। সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলেও দেশটি সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে এখনও তাদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। তুরস্ক সেখানে পুলিশদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, একটি সিভিল সার্ভিসে অর্থায়ন করছে এবং দুর্বল সিরিয়ান পাউন্ডকে তুলনামূলক শক্তিশালী তুর্কি লিরা দিয়ে প্রতিস্থাপন করেছে। সিরিয়ার আজাজের মতো শহরগুলিতে খুব দ্রুত তুর্কি প্রভাব জেঁকে বসেছে। তুরস্ক বর্তমানে তার সীমান্তের ১ শ’ ৪৫ কিলোমিটার দূরে বিস্তৃত সিরিয়ার একটি ৩০ কিলোমিটার গভীর উপত্যকা অধিগ্রহন করে রেখেছে।

এরদোয়ান উত্তর ইরাকের কুর্দি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলেও পিকেকের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। তুরস্ক জানিয়েছে যে, তারা এ বছর ইরাক ও সিরিয়ায় ১ হাজার ৪ শ’ কুর্দি যোদ্ধাকে নিষ্ক্রিয় করেছে। অনেকের ধারণা, তুরস্ক ইরাক সীমান্তে বাফার জোন তৈরি করতে চায়, যেমনটি তারা সিরিয়ায় করেছে।
পূর্ব ভ‚মধ্যসাগরে কোন দেশগুলি সমুদ্রের কোন অংশ এবং এর নীচে লুকায়িত গ্যাসক্ষেত্রগুলি নিয়ন্ত্রণ করে তা, নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে বিতর্ক চলে আসছে। এর্দওয়ান আশঙ্কা করেছিলেন যে মিশর, ইসরায়েল, গ্রীস এবং সাইপ্রাসের একটি জোট তুরস্ককে এই অঞ্চলে অকেজো করে দিতে পারে। তাই গত বছর তিনি লিবিয়ার জাতিসংঘ-সমর্থিত সরকারের সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন, যা তাদের সমুদ্রসীমা নির্ধারণ করেছে এবং তুরস্ককে গ্রীক সমুদ্রে খনন করার বৈধতা দিয়েছে।

এর বিনিময়ে তুরস্ক লিবিয়ার সরকার এবং তার মিত্রদের কাছে সৈন্য, অস্ত্র, ড্রোন এবং ভাড়াটে বাহিনী সরবরাহ করেছে। তুরস্ক এখন ভূমধ্যসাগরের ৬ শ’ কিলোমিটার অঞ্চল দভল করে রাখা একটি শক্তি দেশ। বর্তমানে তুরস্ক তিউনিসিয়া-লিবিয়া সীমান্তের নিকটবর্তী আল-ওয়াতিয়ায় একটি বিমান ঘাঁটি নিয়ন্ত্রণ করছে। তার নৌবাহিনী লিবিয়ার পশ্চিম উপকূল রক্ষা করছে।
এরদোয়ান অন্যাস্য স্থানেও সক্রিয়। তিনি কাতারে একটি তুর্কি সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেছেন। সউদী আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) নিষেধাজ্ঞার শিকার কাতার তুরস্কের ইসলামপন্থী আন্দোলনের সহযোগী ও সহযোগী সমর্থক। তিনি ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধেও আগ্রহও দেখিয়েছেন। দেশটির নির্বাসিত প্রেসিডেন্ট আবদ রাব্বু মনসুর হাদির পক্ষে যুদ্ধরত ইসলামপন্থীদের জন্য তুরস্কে নিরাপদ আশ্রয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন।

তুরস্ক আশা করছে যে, লোহিত সাগরের ওপাড়ে সুদানে ধ্বংস পাপ্ত অটোমান বন্দর সুকিনের বিকাশ ঘটাবে। তারা সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিশুতে তাদের বৃহত্তম বিদেশী ঘাঁটি স্থাপন করেছে। কাতার তুরস্কে বিনিয়োগের জন্য এগিয়ে এসেছে। এই বছরের শুরুর দিকে দেশটি তুরস্কের সাথে ১৫ বিলিয়ন ডলারের মুদ্রা-অদলবদল চুক্তি করে দুর্বল লিরাকে স্থিতিশীল করতে সহায়তা করেছে। এটি লিবিয়াতে তুরস্কের অর্থায়নে সহায়তা করতে পারে। সেখানে শান্তিকালীন পুনর্গঠন পুনরায় শুরু হলে তুরস্ক নতুন চুক্তি জিতে নিতে পারে বলে আশা করছে।

তুরস্কের আধিপত্য বিস্তার অনেকেরই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। মিশর লিবিয়া সীমান্তে তার বাহিনীকে একত্রিত করেছে এবং তুরস্ক আরও অগ্রসর হলে তারা সীমান্ত অতিক্রম করার শপথ করেছে। সউদী আরব এবং ইসলাম বিদ্বেষী ইউএই সম্ভবত মিশরকে সমর্থন দেবে। তাই পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে। তবে তুরস্ক নির্ভিকভাবে আরব বিশ্বে তার পদচিহ্নের বিস্তার ঘটাচ্ছে, কূটনীতির চেয়ে শক্তির প্রয়োগ বেশি করছে এবং সমগ্র আরব বিশ্বে প্রভাব বিস্তার করে চলেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved ©2020 jubokantho24.com
Design & Developed BY Masum Billah