মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১, ০৬:৪১ অপরাহ্ন

শিরোনাম:
রাবেতাতুল ওয়ায়েজীন বাংলাদেশ মাওলানা মামুনুল হকের পাশে থাকবে। গ্রেফতার ঝুঁকিতে হেফাজত নেতৃবৃন্দ : করণীয় কি? সৈয়দ শামছুল হুদা মসজিদে তারাবির নামাজে ২০ জনের বেশি নয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে কুরআন নাজিলের মাসে হিফজুল কুরআন ও ক্বেরাত বিভাগ খুলে দিন -আল্লামা মুফতি রুহুল আমীন ২৯শে মে জাতীয় ওলামা মাশায়েখ সম্মেলন গণগ্রেফতার ও হয়রানী বন্ধ করুন: মামুনুল হক মানহানী ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করতে পারবেন: সুপ্রিমকোর্ট আইনজী ৩১৭ বছরের পুরনো মসজিদ উদ্বোধন করলেন আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী পাথরের ট্রাকে ২কোটি টাকার হেরোইন উদ্ধার – আটক২ সাংসদ বেনজীর আহমেদ করোনায় আক্রান্ত সাভারে জোর করে বের করে দেয়া ভাড়াটিয়াদের রক্ষা করলো পুলিশ

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম আর নেই

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম আর নেই!
ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ বৃহস্পতিবার তার মৃত্যু হয়েছে।

এইচ টি ইমামের বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তিনি বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন বিশেষ করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগছেন।

আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এইচ টি ইমামের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। তার জানাজা ও দাফনের বিষয়টি পরে জানানো হবে বলে জানানো হয়েছে।

আজ রাত সোয়া ১টায় চিকিৎসকরা এইচ টি ইমামকে মৃত ঘোষণা করেন বলে বিপ্লব জানান।

এর আগে গতকাল (৩মার্চ) তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসা নিতে ভর্তি করা হয়েছিলো।

২০১৪ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন হোসেন তৌফিক ইমাম। যিনি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এইচ টি ইমাম নামে পরিচিত।

এইচ টি ইমামের পূর্ণ নাম হোসেন তওফিক ইমাম। ১৯৩৭ সালের ১৫ই জানুয়ারি তারিখে টাঙ্গাইল শহরে তাঁর জন্ম। পিতা মরহুম তাফসির উদ্দীন আহমেদ বি.এ. বি.এল. এবং মাতা মরহুম তাহসিন খাতুন।

এইচ টি ইমামের শিক্ষা জীবনের শুরু রাজশাহীতে এবং পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া ও কলকাতায়। তিনি ঢাকা কলেজিয়েট হাইস্কুল থেকে ১৯৫২ সালে ম্যাট্রিক, ১৯৫৪ সালে পাবনা এডওয়ার্ড করেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট, ১৯৫৬ সালে রাজশাহী কলেজ থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক এবং ১৯৫৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থশাস্ত্রে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। তৎকালীন নিখিল পাকিস্তানে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় চতুর্থ স্থান অধিকার করে তিনি ১৯৬১ সালে সিএসপি হন। এর আগে তিনি রাজশাহী সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগে লেকচারার পদে কর্মরত ছিলেন।

ছাত্রাবস্থাতেই রাজনীতিতে যোগ দেন তিনা। তিনি ১৯৫২ সাল থেকে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন এবং প্রগতিশীল ছাত্র রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট হন। ১৯৫২-’৫৪ শিক্ষাবর্ষে পাবনা কলেজ ছাত্র-সংসদের সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক, ১৯৫৪-’৫৬ শিক্ষাবর্ষে রাজশাহী সরকারি কলেজ ছাত্র-সংসদে সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৫৬-’৫৭ সালে বিনা-প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র ইউনিয়নের (ডাকসু-র) কমনরুম সেক্রেটারি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৬২-’৬৩ সালে তিনি রাজশাহী জেলার অ্যাসিসটেন্ট কমিশনার, ১৯৬৩-’৬৪ সালে নওগাঁর এসডিও, ১৯৬৪ সালে নারায়ণগঞ্জের এসডিও, ১৯৬৫ সালে ঢাকার অতিরিক্ত জেলা-প্রশাসক, ১৯৬৫-’৬৭ সালে তৎকালীন পাকিস্তানের তথ্য ও বেতার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র মন্ত্রী খাজা শাহাবুদ্দিনের একান্ত সচিব, ১৯৬৮-’৬৯ সালে তৎকালীন পূর্বপাকিস্তান সরকারের অর্থবিভাগের উপসচিব পদে দায়িত্ব পালন করেন। মাঝখানে ১৯৬৭-’৬৮ সাল লন্ডন স্কুল অব ইকনমিকস-এ অধ্যয়ন করেন।

চাকুরিজীবনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সড়ক ও সড়ক পরিবহণ বিভাগের সচিব, প্ল্যানিং ডিভিশনের সচিব, প্ল্যানিং কমিশনের সদস্য, পিএটিসি-র প্রকল্প পরিচালক এবং যমুনা বহুমুখী সেতু কর্তৃপক্ষের কার্যনির্বাহী পরিচালক পদের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬-’৯৭ সালে অগ্রণী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানও ছিলেন।

৬০-এর দশকের পূর্ববাংলার রাজনৈতিক অবস্থা তাকে ক্ষুব্ধ করে। সরকারের উচ্চপদে অধিষ্ঠিত থাকায় তার চোখে পাকিস্তান মুসলিম লীগ ও সামরিক প্রশাসকদের শোষণ, বৈষম্য, বঞ্চনার রূপ প্রকট হয়ে ওঠে। ’

১৯৭১-এর ভয়াল পঁচিশে মার্চ রাতের সংবাদ পাওয়ার আগেই দেশের সংকটজনক পরিস্থিতির কর্মপন্থা নির্ধারণ করে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ, বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সংকট মোকাবিলার সিদ্ধান্ত নেন।

মুক্তিযুদ্ধকালে ১৯৭১ সালের জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের আহ্বানে পূবাঞ্চলের আঞ্চলিক প্রশাসনের পদে থেকে মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিপরিষদ সচিক পদে যোগদান করেন। ১৯৭৫ সালের ২৬শে আগষ্ট পর্যন্ত তিনি এই পদে আসীম ছিলেন। বিজয়ের অব্যবহিত পর বাংলাদেশের বিপর্যস্ত প্রশাসন-ব্যবস্থা সচল করে তোলা এবং দেশ পুনর্গঠনের কাজে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে অন্যান্য সহকর্মী এবং মন্ত্রিবর্গের সঙ্গে তিনি নিয়োজিত ছিলেন। এই দায়িত্বে সাড়ে চার বছরে তিনি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ সরকারের নতুন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, করপোরেশন ইত্যাদির রূপরেখা তৈরি ছাড়াও পাকিস্তান আমলের পুরাতন নিয়ম-কানুন ও পদ্ধতির আমূল সংস্কারে মুখ্য ভূমিকা রাখেন তিনি।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved ©2020 jubokantho24.com
Design & Developed BY Masum Billah