শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ১২:২৮ অপরাহ্ন

৯ দিনে ১৩ বিষয়ে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত কওমি মাদরাসা বোর্ডের:রুটিন নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

যুবকণ্ঠ ডেস্ক;

করোনাভাইরাসের কারণে এক বছর ধরে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও শর্তসাপেক্ষে কওমি মাদরাসাগুলো খুলে দেয় সরকার। সম্প্রতি কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড ‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ তাদের দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্স) পরীক্ষা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বোর্ডের ভ্যারিফাইড ফেসবুক পেজে এ রুটিন প্রকাশ করা হয়।

প্রকাশিত রুটিন অনুযায়ী, দাওরায়ে হাদিসের ২২ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর আগামী ৩১ মার্চ থেকে পরীক্ষা শুরু হবে, চলবে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত। অর্থাৎ ৯ দিনে ১৩ বিষয়ে পরীক্ষা নেবে বোর্ড। কোনো বিরতি ছাড়াই পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হবে।

৯ দিনে ১৩ বিষয়ের পরীক্ষা নেয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন দাওরায়ে হাদিসের শিক্ষার্থীরা। তারা পরীক্ষার রুটিন পুনর্বিবেচনা করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শুক্রবার পরীক্ষা না রাখাসহ তিন দফা দাবি জানিয়েছেন।

‘আল হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ কওমি মাদরাসাগুলোর জন্য সরকারস্বীকৃত শিক্ষাবোর্ড। সরকার ২০১৮ সালে ১১ এপ্রিল জাতীয় সংসদের ৪৮ নং আইনে এই বোর্ডের অধীনে কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিসকে (ইসলামী শিক্ষা ও আরবি) মাস্টার্সের সমমান মর্যাদা দেয়।

কওমি মাদরাসার ছয়টি বোর্ডের সবগুলোর দাওরায়ে হাদিস আল-হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের অধীনে নিবন্ধিত। বোর্ডগুলো হলো- বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া, বাংলাদেশ আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস, বাংলাদেশ বেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া গওহরডাঙ্গা, আযাদ দ্বীনী এদারায়ে তালীম বাংলাদেশ, তানযীমুল মাদারিসিল কওমিয়া বাংলাদেশ ও জাতীয় দ্বীনি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বাংলাদেশ।

রুটিন প্রকাশের পর কওমি মাদরাসার এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, দাওরায়ে হাদীস (মাস্টার্স) পরীক্ষার দশটি বিষয়ের জন্য সময় দেয়া হয়েছে মাত্র ৯ দিন। এক দিনে দুই পরীক্ষাও রয়েছে। এছাড়াও শুক্রবারেও রয়েছে পরীক্ষা। এমন রুটিন আমাদের জন্য চাপ হয়ে যাবে। এভাবে পরীক্ষা নিলে আমাদের মানসিক চাপের পাশাপাশি শারীরিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

তারা জানান, ৭ এপ্রিল এক দিনে দুইটি পরীক্ষা রাখা হয়েছে। ওই দিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত প্রথম পরীক্ষা এবং একই দিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত দ্বিতীয় পরীক্ষা হবে। পরের দিন সকালে আবারও সাড়ে তিন ঘণ্টার আরেকটি পরীক্ষা রয়েছে রুটিনে।

পরীক্ষার্থীদের দাবি, একটা পরীক্ষা দিয়ে পরের দিন আরেকটি পরীক্ষা দেয়া যেখানে চাপ হয়ে যায় সেখানে এক দিনে দুই পরীক্ষা রয়েছে। এজন্য আমরা রুটিন পুনর্বিবেচনা করার জন্য তিন দফা প্রস্তাব দিয়েছি। এগুলো হলো- এক দিনে দুই পরীক্ষা না নেয়া, কমপক্ষে এক দিন পর পর পরীক্ষা নেয়া এবং শুক্রবার পরীক্ষা না নেয়া।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved ©2020 jubokantho24.com
Website maintained by Masum Billah