মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১, ০৭:৫২ অপরাহ্ন

শিরোনাম:
রাবেতাতুল ওয়ায়েজীন বাংলাদেশ মাওলানা মামুনুল হকের পাশে থাকবে। গ্রেফতার ঝুঁকিতে হেফাজত নেতৃবৃন্দ : করণীয় কি? সৈয়দ শামছুল হুদা মসজিদে তারাবির নামাজে ২০ জনের বেশি নয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে কুরআন নাজিলের মাসে হিফজুল কুরআন ও ক্বেরাত বিভাগ খুলে দিন -আল্লামা মুফতি রুহুল আমীন ২৯শে মে জাতীয় ওলামা মাশায়েখ সম্মেলন গণগ্রেফতার ও হয়রানী বন্ধ করুন: মামুনুল হক মানহানী ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করতে পারবেন: সুপ্রিমকোর্ট আইনজী ৩১৭ বছরের পুরনো মসজিদ উদ্বোধন করলেন আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী পাথরের ট্রাকে ২কোটি টাকার হেরোইন উদ্ধার – আটক২ সাংসদ বেনজীর আহমেদ করোনায় আক্রান্ত সাভারে জোর করে বের করে দেয়া ভাড়াটিয়াদের রক্ষা করলো পুলিশ

চাঁদাবাজ হিজড়াদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি গুরুমাতাদের

যুবকণ্ঠ ডেস্ক:

বাস-ট্রাক ও রাস্তাঘাটে যেসব হিজড়া চাঁদাবাজি করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছে তৃতীয় লিঙ্গের গুরুমাতারা। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানায় তারা। এ সময় তৃতীয় লিঙ্গের এক শ’ জনেরও বেশি সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে গুরুমাতা রাখি শেখ বলেন, আমরা পাবলিক পরিবহনে সাধারণ মানুষদের বিরক্ত করে চাঁদা তোলার বিরুদ্ধে। আমরা একইসাথে মাদক বিক্রি, ছিনতাই, চুরি ও যৌনকর্মেরও সমর্থন করি না। যারা এ ধরনের কাজ করছে, আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। যারা পথে-ঘাটে সাধারণ মানুষকে বিরক্ত করে, জোর করে টাকা নিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

রাখি শেখ বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরে দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। আমরা যারা তৃতীয় লিঙ্গের তাদেরও জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এসেছে। আমরা এখন কর্মমুখী হওয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে পরিচিতি পেলে নিজ পরিবার কিংবা সমাজ থেকে তাকে আলাদা চোখে দেখা হয়। পরিবার, প্রতিবেশী কিংবা সমাজে অবহেলিত হওয়ার পর তৃতীয় লিঙ্গের ওই মানুষটিকে আশ্রয় দেয় একজন বয়স্ক তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ। যিনি গুরুমা হিসেবে পরিচিত। অনেকেই আশ্রয় নেন একজন গুরুমার কাছে। গুরুমাই তাদের ভরণ-পোষণ, ভালো-মন্দের দেখাশুনা করেন। এখন আমরা যারা এখানে গুরুমা আছি, আমাদের আশ্রয়ে যারা আছে, আমরা তাদের স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। যে কাজে তারা আগ্রহী বা পারদর্শী তাকে ওই কাজে লাগানোর চেষ্টা করছি। কেউ পোশাক তৈরির কাজ করছে, কেউ পার্লারে কাজ করছে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের তৃতীয় লিঙ্গের মানুষজন এখন নিজ পায়ে দাঁড়াতে শিখছে। সরকারি-বেসরকারি নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ আমাদের প্রতি পুরনো দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বেরিয়ে এসেছেন। আমাদের প্রতি অনেকের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাচ্ছে। কিন্তু দুঃখের সাথে বলতে হয়, আমাদের কমিউনিটির বেশির ভাগ মানুষ যখন জীবনমান উন্নয়নে, কর্মমুখী পথে অগ্রসর হচ্ছে, ঠিক তখনই একটি চক্র আমাদের অগ্রযাত্রায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে বিভিন্ন মাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমরা এসব অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

রাখি শেখ বলেন, আমাদের কমিউনিটির মানুষের ওই পুরনো চিত্র এখন আর নেই। বিভিন্ন মাধ্যমে আমাদের বিরুদ্ধে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে তার কোনো ভিত্তি নেই। আমরা পাবলিক পরিবহনে সাধারণ মানুষদের বিরক্ত করে চাঁদা তোলার বিপক্ষে। মাদক বিক্রি, ছিনতাই, চুরি, যৌনকর্মের সমর্থন করি না। যারা এ ধরনের কাজ করছে, আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমরা চাই না, তাদের এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে আমাদের প্রতি সাধারণ মানুষের নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হোক। আমরা আমাদের পরম্পরায় পাওয়া যেমন : বিয়ে অনুষ্টান, বাচ্চা নাচানো, বিভিন্ন উৎসবে মানুষ খুশি হয়ে যা দেয় তা নিয়েই সন্তুষ্ট।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর আমাদের তৃতীয় লিঙ্গের স্বীকৃতি দিয়েছে। প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা আমাদের জীবন মান উন্নয়নে প্রতিনিয়ত সহযোগিতা করে আসছে। বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে আমাদের স্বাবলম্বী করতে সহায়তা করছেন। বিভিন্ন জায়গায় আমাদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছেন। যার ফলে আমরা সমাজের অবহেলা থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি। আমরাও সমাজের অন্য দশজন মানুষের মতো স্বাভাবিকভাবেই বেঁচে থাকতে চাই। সবার মতো স্বাভাবিকভাবেই জীবিকা নির্বাহ করতে চাই। যারা পথে-ঘাটে সাধারণ মানুষকে বিরক্ত করে, জোর করে টাকা নিচ্ছে তারা চাঁদাবাজ হিজড়া। আমরা আশা করবো প্রশাসন তাদের ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved ©2020 jubokantho24.com
Design & Developed BY Masum Billah