শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ০১:৩১ অপরাহ্ন

হেফাজতের কর্মসূচী প্রসঙ্গে কিছু কথা

সৈয়দ শামছুল হুদা
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ পরিস্থিতির ভয়াবহতায় জরুরী ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ কর্মসূচী ঘোষণা করেছে। রাষ্ট্রীয় দানবীয় শক্তির সামনে এ কর্মসূচী কতটা শান্তিপূর্ণ ভাবে সম্পাদন করা যাবে তা গতকালের বায়তুল মুকাররম মসজিদে আগ্রাসনকারী শক্তির নৃশংসতায় বুঝা গেছে। অনেক তরুন ভাই কঠিন ও কঠোর কর্মসূচী দেওয়ার জন্য নেতৃবৃন্দের ওপর প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি করে। কঠোর কর্মসূচী না দিলে মনে করে নেতৃবৃন্দ দালালীতে ব্যস্ত। আবার কঠোর কর্মসূচী দিলে বাস্তবায়নের যথেষ্ট লোক পাওয়াও বর্তমান প্রেক্ষাপটে অনেক ঝুঁকির্পূণ।যেভাবেই হোক নেতৃবৃন্দ কর্মসূচী ঘোষণা করেছেন। এ প্রেক্ষিতে কিছু করণীয় বিষয়ে আলোচনা করতে চাই।
* কী প্রেক্ষিতে হেফাজত নেতৃবৃন্দ কঠোর কর্মসূচী দিতে বাধ্য হয়েছে, সেটা জনগণের সামনে বারবার বলে পরিস্কার করা। এ বিষয়ে স্যোসাল মিডিয়াসহ জাতীয় মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রচার করা। বিশেষকরে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মুকাররমে যে নারকীয় তান্ডব চালানো হয়েছে তা জাতির সামনে তুলে ধরা। জাতীয় মসজিদে মুসুল্লিদের দুর্দশা দেখেই হাটহাজারীর ছাত্রজনতা ঈমানী তাগাদায় রাজপথে নেমে আসলে সেখানে হায়েনার দল কীভাবে সরাসরি ব্রাশ ফায়ার করে ৪জন ছাত্রকে শহীদ করে ফেলেছে, এসব বিষয় লাখ লাখ মানুষ তান্ডবের ভিডিও দেখেছে বটে, মনে রাখবেন, কোটি কোটি মানুষ এখনো জানেই না, গতকাল বায়তুল মুকাররম এবং হাটহাজারীতে আসলে কী হয়েছে।
* হেফাজতের পক্ষ থেকে ঢাকা এবং চট্টগ্রামে দুটি মুখপাত্র টিম গঠন করা। তারা সারাদেশে আলেম-উলামা ও সাধারণ মানুষের ওপর কীভাবে রাষ্ট্রীয় জুলুম চালানো হয়েছে সে বিষয়টি পরিস্কার করবে। এ দুটি টিমই সংগঠনের সার্বিক বিষয়ে জনগণকে ব্রিফিং করবে। অন্য কেউ নয়। তাদের বক্তব্যের বাইরের কোন বক্তব্য হেফাজতের নয় হিসেবে পরিস্কার করতে হবে।
* যেহেতু তাৎক্ষণিক বৈঠক থেকে কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়েছে, হয়তো অনেকের সাথে যোগাযোগ করা, মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাই আজ সারাদিন দেশের জেলা শহরের সকল দায়িত্বশীলদের টেলিফোনে, স্যোসাল মিডিয়ার যত দ্রুত সম্ভব যোগাযোগ করুন। তারা সবই জানে, অথবা তারাওতো স্যোসাল মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরেছে এটা মনে করে বসে থাকবেন না। মনে রাখবেন, কর্মসূচী বাস্তবায়নে জেলাগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপুর্ণ। জেলা দায়িত্বশীলদের ফোনের মাধ্যমে কেন কঠোর কর্মসূচী গ্রহন করা হলো সেটা অফিসিয়াললি বুঝিয়ে দিন।
* হরতালের দিন নেতৃবন্দ কে কোথায় থাকবেন, কীভাবে নেতৃত্ব দিবেন সেটাও জনগণের সামনে পরিস্কার করা দরকার। সাধারণ মানুষ কীভাবে অংশ গ্রহন করবে, কীভাবে সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবেলা করবে, এসব বিষয়ে আপনারা অবশ্যই তদারকি করবেন। নতুবা মানুষ আপনাদের প্রতি আস্থা রাখতে পারবে না।
মনে রাখবেন, কর্মসূচী ঘোষণা করা সহজ, বাস্তবায়ন করা অনেক কঠিন। বিশেষ করে বর্তমান সরকারের আমলে আরো বেশি কঠিন। একটা সময় ছিল, যখন সিনিয়র নেতা বা আলেমদের সম্মান করা হতো, বর্তমানে এর সর্ম্পুর্ণ বিপরীত। এখন সিনিয়রদের ওপর আগে হামলা করা হয়। যাতে সাধারণ মানুষ এমনিতেই ভয় পেয়ে যায়।
* ঢাকা এবং চট্টগ্রামে আন্দোলন সমন্বয় করার জন্য একটি নির্দিষ্ট মেইল এড্রেস ব্যবহার করা উচিত, যাতে সারাদেশ থেকে সংগঠনের অধ:স্তন কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিক সংবাদ দিতে পারে। কোথায় কী ঘটছে তার খবর অবশ্যিই সংগঠনের কাছে থাকতে হবে।
* সংগঠনের দায়িত্ব অনেক কঠিন জিনিস। ঝুঁকি আসলে তখন বুঝা যায় কে কতটা সংগঠনের জন্য দরদী। আর কে কতটা পদলোভী। আজ ও আগামীকাল দুদিন হেফাজতের জন্য অগ্নিপরীক্ষার সময়। পিছুও হঠা যাবে না। আবার হঠকারিতা হয় এমন কিছুও করা যাবে না। বাগাড়ম্বর না করে, হেফাজতকে ভালোবাসে এমন সকল শক্তির সাথে যোগাযোগ তৈরি করে আন্দোলন বাস্তবায়ন করতে হবে।
* হেফাজতের প্রোগ্রামের প্রতি যে সকল সংগঠন সমর্থন দিবে, তাদের সবার সাথে যোগাযোগ করার জন্যও হেফাজতের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট লোক ঠিক করে রাখতে হবে। যাতে সবকিছু সুন্দরভাবে সমন্বয় করা যায়। যেহেতু কঠোর কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়ে গেছে, এখন পিছিয়ে আসার সুযোগ একেবারেই নেই। সামর্থের সবটুকু দিয়ে এটা বাস্তবায়নের চেষ্টা করতে হবে।
*উলামায়ে কেরামগণের ওপর জনগণের অনেক আশা, জুলুমের মোকাবেলায় উলামায়ে কেরামগণই সর্বশেষ ভরসাস্থল। উলামাদের ওপর মানুষের যে শ্রদ্ধা এবং ভক্তি রয়েছে এটাকে কেউ যেন নষ্ট করতে না পারে, সেদিকে সকলকেই লক্ষ্য রাখতে হবে। আবার কেউ যেন অনাকঙ্খিত কিছু ঘটাতে না পারে, সেটাও মাথায় রাখতে হবে।
* সবশেষে একটি কথা বলতে চাই, যারা সংগঠনের বাইরে আছেন, অথবা ছোট দায়িত্বে আছেন তারা দয়াকরে দায়িত্বশীলদের ওপর আস্থা রেখে কথা বলবেন। তাদেরকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে আমার-আপনার কোন লাভ নেই। বড়রা ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া মানেই আমি নিজে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া। আমরা প্রায়শই এ কাজটা করে আসছি। ফলে দায়িত্বশীলরা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনে ইতস্থত: বোধ করে। ছোট-খাট ভুলের জন্য বড়দেরকে আমরা বিব্রত না করি। তাদেরকে কাজে সহযোগিতা করি।
আল্লাহ তায়ালা আলেম-উলামাদের ইজ্জত রক্ষা করুন। গতকাল বায়তুল মুকাররম, হাটহাজারী, যাত্রাবাড়ি, বি.বাড়িয়ায় যে সকল ভাই শহীদ হয়েছেন, যারা নাজেহাল হয়েছেন, তাদের সকলের প্রতি শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করছি। যার যার অঙ্গন থেকে সরকারী পেটুয়া বাহিনীর জুলুমের বাস্তব চিত্রটা সাধারণ মানুুষের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করুন। এবং হেফাজতের কর্মসূচীর বাস্তবতা বুঝতে জনগণকে সাহায্য করুন।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved ©2020 jubokantho24.com
Website maintained by Masum Billah