শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ০২:০৬ অপরাহ্ন

হেফাজতের আন্দোলনে আমাদের অর্জন ও ছাত্রদের পরীক্ষা বর্জন নিয়ে কিছু কথা

মাওলানা এহসানুল হক

এক নরেন্দ্র মোদীর আগমনকে কেন্দ্র করে দেশের উপর দিয়ে বোয়ে গেলো টর্নেডো। বিক্ষোভ আন্দোলনের দমকা হাওয়ায় কেপে উঠলো সরকারের মসনদ থেকে টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া। লন্ডভন্ড হয়ে গেলো মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। তাউহিদি জনতার রক্তে রঞ্জিত হলো রাজপথ। ঝড়ে গেলো তরতাজা ২০ টি প্রাণ। কলংকিত হলো স্বাধীনতার সূর্বণ জয়ন্তী।

হেফাজতের এই আন্দোলনে আমাদের প্রাপ্তি কি?
আমাদের আন্দোলন ছিলো মোদীর আগমনের প্রতিবাদে। মোদীর আগমন ঠেকানো যায়নি। আন্দোলন বড় আকাড় ধারণই করেছে মোদীর আগমনের পর। বাইতুল মুকাররমে হেলমেট বাহিনির হামলার পর তা ছড়িয়ে গেছে সারা দেশে। এরপর একে একে প্রাণ দিয়েছে আমাদের এতগুলো ভাই, এর বদলা কি আমরা নিতে পেরেছি? স্বীকার করতে হবে এর বদলা আমরা নিতে পারিনি।

কেনো পারিনি? আজকে যদি উলামায়ে কেরামের সাংগঠনিক শক্তি থাকতো। আরও বেশি জনসম্পৃক্ততা ও জনসমর্থন থাকতো। সরকারের বিরুদ্ধে ভুমিকা রাখা সবগুলো দল যদি আজকে ঐক্যবদ্ধ থাকতো। তাহলে শুধু হাটহাজারি আর বিবাড়িয়ায় হত্যার বিচার হতো না। সরকারের সব অন্যায়েরই জন্যই সরকারকে কাঠগড়ায় দাড় করানো যেতো। কিন্তু তা হয়নি। এর দায় শুধু হেফাজতের নয়। এই ব্যার্থতার দায় সবার।

তবুও আমি মনে করি, আমাদের ভাইদের এই রক্ত বৃথা যাবে না। রক্তের বদলা সব সময় তৎক্ষনাৎ হয় না। কখনো কখনো আন্দোলনের চূড়ান্ত ফল ঘরে আসতে সময় লাগে। গুজরাটের কসাই নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে ভুমিকা রাখতে গিয়ে যারা জীবন দিলেন তারা এর বিনিময় পাবেন মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে। তারা শামিল হবেন সৌভাগ্যবান শুহাদাদের কাতারে।

আরও কিছু প্রাপ্তি আছে,
এই আন্দোলনের মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে ইসলামন্থীরা এখনো জেগে আছে। হেফাজত মরে নাই। দ্বীন ইসলাম ও দেশের প্রয়োজনে হেফাজত মাঠে নামবে। মুহুর্তেই অচল হবে সারা দেশে। এদেশে আর যাই হোক ইসলামের বিরুদ্ধে কিছু করা যাবে না। ছাত্রলীগ, যুবলীগ সব দখল করতে পারে। কিন্তু মসজিদ মাদরাসা দখল করতে এলে প্রতিরোধ হবে। আগুনের দাবানল জ্বলে উঠবে সারা দেশে।

মসজিদে হামলার প্রতিবাদে হাটহাজারিতে ৪ জন জীবন দিয়েছে। আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী লাশ সামনে রেখে হরতাল ঘোষণা দিয়েছেন। মধুপুরের পীর হরতাল বাস্তবায়নে গুলি খেয়েছেন। হেফাজত নেতৃবৃন্দ মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বে তিনদিন পল্টনে ভুমিকা রেখেছেন।

বিপ্লবের শহর বিবাড়িয়ায় লাশের মিছিলে নতুন ইতিহাস রচনা করেছে। নেতৃত্ব দিয়েছেন আল্লামা মুবারকুল্লাহ, আল্লামা সাজিদুর রহমান। চট্টগ্রামে গুরুত্বপূণ ভুমিকা রেখেছেন মুফতি হারুন ইজহার। হরতালের সমর্থন দিয়ে রাজপথে নেমেছেন পীর সাহেব চরমোনাই ও এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, হেফজত কারো ফাঁদে পা দেয়নি। ধাপে ধাপে কৌশলী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। আন্দোলন করতে গিয়ে নিজেরা এক জায়গায় বন্দী হয়নি। কালো রাতের মতো কোনো দূর্ঘটনা ঘটেনি। কেউ স্বার্থ হাসিল করতে পারেনি। তবে সময় ফুরিয়ে যায়নি। কর্মীদেরই সতর্ক থাকতে হবে কেউ যেন স্বাথ হাসিলের রাজনীতি করতে না পারে।

এরপর চূড়ান্ত ঘৃনার প্রকাশ ঘটিয়েছে ছাত্রজনতা। হাটহাজারি ও বিবাড়িয়ায় হত্যাযজ্ঞ পরিচালনার প্রতিবাদে এই সরকারের অধিনে ছাত্ররা পরীক্ষা বর্জনের সিদ্ধান নিয়েছে। সরকারী সনদ এভাবে ছুড়ে ফেলতে পারার এই শক্তি কে আমি সাধুবাদ জানাই।

কিন্তু এভাবে বিচ্ছিন্নভাবে পরীক্ষা বর্জন কোনো ভালো ফল বোয়ে আনবে না। এবার পরীক্ষায় অবশ্যই অংশ নিতে হবে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে সম্মিলিতভাবেই সনদ বর্জন করা হবে। আর হ্যা, জালিমের এই জুলুমকে ভুলে গেলে চলছে না। এই ক্ষোভ হৃদয়ে লালন করতে হবে যুগের পর যুগ। একদিন এই জুলুমের বিচার হবে ইনশাআল্লাহ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved ©2020 jubokantho24.com
Website maintained by Masum Billah