শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ০১:৩১ অপরাহ্ন

দিল্লিতে হাহাকার, শ্মশান থেকে লাশ নিয়ে ছিঁড়ে খাচ্ছে কুকুর

যুবকণ্ঠ ডেস্ক:

করোনার ধ্বংসাত্মক সংক্রমণ ধীরে ধীরে গ্রাস করছে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতকে। প্রতিদিন রেকর্ডহারে মৃত্যুবরণ করছে দেশটির হাজার হাজার মানুষ। ভারতে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে দেশটির রাজধানী দিল্লিতে। মৃত্যুপুরীতে তৈরি হয়েছে শহরটি। শহরের শ্মশানগুলোতে জায়গা খালি নেই। মরদেহের দীর্ঘ লাইন দেখা যায় শ্মশানগুলোতে। দিল্লির গাজিয়াবাদ জেলায় দেখা গিয়েছে আরও মর্মান্তিক চিত্র। দীর্ঘ সময় মরদেহ বাইরে রাখায় সেখানে দেখা গেছে রাস্তার কুকুর মরদেহ ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাচ্ছে! খবর; দ্যা হিন্দু

ভারতের শীর্ষ সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সেখানে করোনায় মারা যাওয়া আদালতের এক কর্মীকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল হিন্দোন শ্মশানে। মৃত ওই ব্যক্তির সহকর্মী ত্রিলোকী সিংহ জানান, তারা সকাল ৮টায় পৌঁছানোর পর টোকেন দেয়া হয় বেলা ১০টার। কারণ লম্বা লাইন ছিল। পরে সেই টোকেন বদলে নতুন সময় দেয়া হয় সন্ধ্যা ৬টায়। এ সময় তারা একটু দূরে গিয়ে অপেক্ষা করছিলেন।

হঠাৎ এক ব্যক্তি এসে তাদের খবর দেন, রাস্তার কুকুর এসে তাদের মরদেহ টেনেছিঁড়ে দিচ্ছে। তারা দৌড়ে যান। সেই ছবি এবং সংবাদ বিড়ম্বনায় ফেলেছে দিল্লি সরকারকে। শুধু একটি শ্মশানেই এমন অবস্থা নয়। দিল্লির সব শ্মশানে একই অবস্থা।

সোমবার বিকেলে ওই সুভাষনগরের শ্মশানটিতেই কোভিডে মৃত বাবার দেহ নিয়ে গিয়েছিলেন বছর ৪০-এর মনমীত সিংহ। সংবাদমাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, অ্যাম্বুলেন্স, গাড়ির ভিড় কাটিয়ে শ্মশানে ঢুকতে যাবেন, তার আগেই রাস্তা আটকালেন এক কর্মী। জানিয়ে দিলেন, আর দেহ নেওয়া যাবে না। কারণ দাহ করার জায়গা ও কাঠ নেই। আর সিএনজি চুল্লিতে একসঙ্গে দুইটির বেশি মরদেহ দাহ করা যায় না। তাতেও এক একটি দেহের পেছনে কমপক্ষে ৯০ মিনিট সময় লাগবে। ইতোমধ্যে লাইনে ২৪টি দেহ রয়েছে। তাই অন্য কোথাও যেতে হবে তাকে। এর পর পশ্চিম বিহার এলাকার একটি শ্মশানে গিয়ে বাবাকে দাহ করেন তিনি। সংবাদ সংস্থাকে মনমীত বলেছেন, ‘সরকার হাসপাতালে অক্সিজেন দিতে পারছে না। অন্তত শ্মশানে জায়গা তো দিক, যাতে পৃথিবী থেকে বিদায়টা ঠিকমতো হয়!’

এদিকে ভারতে আজ বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) করোনায় মৃত্যু ও শনাক্তে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে নতুন করে মারা গেছেন তিন হাজার ৬৪৫ জন। আক্রান্ত হয়েছেন তিন লাখ ৭৯ হাজারের বেশি মানুষ। এর ফলে দেশটিতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ২ লাখ ৪ হাজার ৭৩২ জনে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved ©2020 jubokantho24.com
Website maintained by Masum Billah