শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ০২:০৩ অপরাহ্ন

তাণ্ডবের বিচার চেয়ে পদত্যাগ করা সেই হেফাজত নেতা গ্রেপ্তার

যুবকণ্ঠ ডেস্ক;

হেফাজতে ইসলামের কর্মী-সমর্থকদের চালানো তাণ্ডবে জড়িতদের বিচার চেয়ে পদত্যাগ করা সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফতি আব্দুর রহিম কাসেমীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৪ মে) বিকেল ৪টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদরের ভাদুঘর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মো. রইছ উদ্দিন বলেন, ‘হামলার ঘটনার পর থেকে আব্দুর রহিম কাসেমীর গতিবিধি নজরদারি করে আসছিল পুলিশ। বিকাল ৪টার দিকে সিএনজি অটোরিকশায় করে শহরের দক্ষিণ দিকে যাওয়ার পথে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।’

তিনি আরো জানান, গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত তাণ্ডবের ঘটনায় তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মাওলানা আব্দুর রহিম কাসেমীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে ভাঙচুর অগ্নিসংযোগের একাধিক মামলায় আসামি করা হতে পারে।

জেলা পুলিশের অপর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ হেফাজতে ইসলামের বিক্ষোভ ও হরতাল কর্মসূচি চলাকালে তাণ্ডবের ঘটনার মূল হোতা এবং প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন কাসেমী। তিনি হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের নির্দেশে সরকার উৎখাতের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসাসহ আশেপাশের বিভিন্ন মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষককে নিয়ে ব্যাপক তাণ্ডবলীলা চালান। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হেফাজতের তাণ্ডবে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।

এর আগে হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডবের ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবি করেন তিনি। গত ২৩ এপ্রিল হেফাজতের তাণ্ডব ইস্যুতে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে সাংবাদিকদের কাছে লিখিত বক্তব্য পাঠান আব্দুর রহিম কাসেমী। লিখিত বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপন উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী হেফাজতে ইসলামের ডাকে যে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, তা নজিরবিহীন ও অমানবিক। দেশ ও জনগণের জানমালের ক্ষতি কোনোভাবেই ইসলামসম্মত হতে পারে না। তাই আমি ব্যক্তিগতভাবে এ সমস্ত কার্যক্রম থেকে নিষ্ক্রিয় থাকি এবং আমার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত সব মাদ্রাসার শিক্ষক ও ছাত্রদের এসব দেশ ও ইসলামবিরোধী কাজে যোগদান না করতে বাধ্য করি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আনুষ্ঠানিকভাবে হেফাজতে ইসলামের সব কার্যক্রম ও জাতীয় এবং জেলা কমিটির পদ থেকে পদত্যাগ করছি। যাদের প্ররোচণায় দেশ ও জনগণের জানমালের এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার জন্য সরকার ও প্রশাসনকে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি।’

প্রসঙ্গত, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অর্ধশতাধিক সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক তাণ্ডব চালায় হেফাজতে ইসলামের কর্মী-সমর্থকেরা। এ সব ঘটনায় ৫৬টি মামলা দায়ের হয়েছে। এ মামলাগুলোতে এজাহারনামীয় ৪১৪ জন ও অজ্ঞাত ৩৫ হাজারেরও বেশি আসামি। এসব মামলায় আজ (মঙ্গলবার) সকাল পর্যন্ত ৪১৪ জনকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved ©2020 jubokantho24.com
Website maintained by Masum Billah