মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১, ১২:১৮ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম:
রাজধানীর রামপুরায় বাসের চাপায় আরেক স্কুল ছাত্রের মৃত্যু,৮ বাসে আগুন দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা চেয়ারম্যান পদে জামানত হারিয়ে এবার এমপি নির্বাচন করতে চান ‘ভিক্ষুক’ মুনসুর করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট: এইচএসসি পরীক্ষা হবে কিনা জানালেন শিক্ষামন্ত্রী ১৪ মাসে হেফাজতের শীর্ষ চার নেতার ইন্তিকাল ভারতের ‘ওমিক্রন ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ ওমিক্রন: দক্ষিন আফ্রিকা থেকে আসা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৭ ব্যক্তির বাড়িতে লাল পতাকা হেফাজতের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হলেন মাওলানা সাজিদুর রহমান আল্লামা নুরুল ইসলামের জানাজার নামাজ সম্পন্ন আল্লামা নুরুল ইসলামের ইন্তেকালে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের শোক প্রকাশ যে কারণে হাটহাজারিতে হচ্ছে আল্লামা নূরুল ইসলাম জিহাদির দাফন

দলে দলে ঢাকা ছাড়ছে মানুষ

সোমবার (আগামীকাল) থেকে সারা দেশে কঠোর লকডাউন শুরু হবে- এমন তথ্য চাউর হতেই গত দুদিন ধরে রাজধানী ছেড়ে গ্রামের পথে ছুটতে দেখা গেছে অসংখ্য মানুষকে। গতকাল শনিবার সকাল থেকে তাই মহাসড়কে ও ফেরিঘাটে ব্যক্তিগত ও পণ্যবাহী গাড়ির চাপ অনেক বেড়ে গেছে। শুধু তাই নয়। এর প্রভাব পড়েছে ঢাকা মহানগরীতেও। গতকাল রাজধানীতে তুলনামূলকভাবে যানজট ছিল অনেক বেশি। এদিকে গতকাল রাতে প্রাপ্ত সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আগামীকাল থেকে শুরু হবে সীমিত পরিসরে লকডাউন। এ সময় গণপরিহণ চলবে না। সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে কিছু প্রতিষ্ঠান। আর সাত দিনের সর্বাত্মক লকডাউন শুরু হবে আগামী ১ জুলাই বৃহস্পতিবার থেকে। জানা গেছে, এ সময়কালে শিল্প কারখানা লকডাউনের আওতার বাইরে রাখা হতে পারে। এছাড়া রপ্তানিমুখী কার্যক্রম সচল রাখার স্বার্থে ব্যাংকিং সেবাও চালু রাখা হতে পারে সীমিত পরিসরে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সভাপতিত্বে উচ্চপর্যায়ের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। প্রাণঘাতী ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় ঢাকাকে সারা দেশ থেকে ৯ দিনের জন্য বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এ জন্য আশপাশের কয়েকটি জেলাসহ দেশের মোট সাতটি জেলায় সার্বিক কার্যাবলি ও চলাচল (জনসাধারণের চলাচলসহ) ৩০ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া ঢাকার সঙ্গে দূরপাল্লার বাস, নৌ যোগাযোগ ও রেলসেবা বন্ধ রয়েছে।

বিভিন্ন বিধিনিষেধ মেনে চলা এ ‘লকডাউন’ নয়, আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে ‘কঠোর লকডাউন’। এ ‘লকডাউনে’ সবকিছু বন্ধের খবরে আগাম ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন অসংখ্য মানুষ। করোনার ক্রান্তিকালে আয়-রোজগার সংকটের শঙ্কায় বাড়ি ফিরছেন তারা।

গতকাল শনিবার সকাল থেকেই ঢাকা ছাড়তে শুরু করে মানুষ। যানবাহন সেভাবে না চললেও সকাল থেকে বাস টার্মিনালে ছিল মানুষের ভিড়। অনেকে রওনা হয়েছেন হেঁটে। দূরপাল্লার গণপরিবহন বন্ধ থাকায় বিকল্প যানবাহনে ঝুঁকি নিয়ে যাত্রা করছেন অনেকে। সে ক্ষেত্রে বাড়তি টাকা যেমন খরচ করতে হচ্ছে, তেমনি পদে পদে ভোগান্তিরও শেষ নেই। ভিড়-ব্যস্ত এসব ঘরমুখো মানুষের যাত্রায় উপেক্ষিতও করোনা ভাইরাসের স্বাস্থ্যবিধি।

ঝুঁকিপূর্ণভাবে এমন যাত্রায় কোনো রকম স্বাস্থ্যবিধি মানার তোয়াক্কা নেই। বিশেষ করে বয়স্ক, নারী ও শিশুরা সর্বাধিক বিপাকে পড়ছেন। তিন-চার গুণ বেশি ভাড়া দিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশে ছুটছে সবাই। সুযোগ বুঝে চড়া দাম হাঁকছেন বিকল্প এসব বাহনের চালকরা, দৌরাত্ম্য বেড়েছে এক শ্রেণির দালালেরও। আর চলাচলে বিধিনিষেধ থাকলেও প্রশাসনের চোখের সামনেই চলছে এসব। মানুষের এমন বেপরোয়া চলাচলে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়া স্বাভাবিক।

হাসান নামের এক যাত্রী বলেন, গতবার লকডাউনে ঢাকাতেই আটকে পড়েছিলাম। পরে কষ্ট করতে হয়েছে অনেক। তাই এবার গ্রামে ফিরছি। কাজ বা খাদ্যের সমস্যা অন্তত হবে না আশা করি। আর নি¤œআয়ের মানুষদের পরিবারই তো সবকিছু। তাই গ্রামে পরিবারের কাছে ফিরছি।

কঠোর লকডাউন শুরু হওয়ার আগেই আারিফ গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রাম ফিরতে চান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থী তাই সকালে এসেছিলেন যাত্রাবাড়ীতে। এসে জানতে পারেন, মাইক্রোবাসে চট্টগ্রাম ফেরার ব্যবস্থা আছে। তবে সরাসরি চট্টগ্রাম পর্যন্ত মাইক্রোবাস পাওয়া যাচ্ছে না। প্রথমে কুমিল্লা পর্যন্ত যেতে হবে, তারপর আবার কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তিনি বলেন, কুমিল্লা পর্যন্ত সবার কাছ থেকে ৬০০ টাকা করে নিচ্ছে। আর কুমিল্লা থেকে গাড়ি পরিবর্তন করে চট্টগ্রাম যাওয়া যাবে। এতে আরও ২০০ থেকে ৩০০ টাকা খরচ হতে পারে।

ঢাকা থেকে কুমিল্লায় অনেককেই মোটরসাইকেল ভাড়া করেও যেতে দেখা গিয়েছে। বিশেষ করে যারা চাঁদপুর দিকে যাচ্ছিলেন, তারা মোটরসাইকেলে প্রথমে কুমিল্লায় যান। আর এতে খরচ পড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা।

যাত্রাবাড়ী ও সায়েদাবাদে যাত্রী, চালক ও সহকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কুমিল্লা থেকে মেঘনা ব্রিজ পর্যন্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশায় এসে ঢাকার লোকাল বাসে করে রাজধানীতে ঢুকতে হচ্ছে। একইভাবে ঢাকা থেকে ফিরতে থেকেও যেতে হচ্ছে যাত্রীদের। রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ঢাকায় ঢুকছেন ও ঢাকা ছাড়ছেন অনেক মানুষ। যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারের নিচে ও যাত্রাবাড়ী থানার পাশে অবস্থান করে দেখা যায়, অনেকেই মাইক্রোবাসে ঢাকায় ঢুকছেন। থানার পাশ থেকে অনেকে সরাসরি মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলে করে ঢাকা থেকে কুমিল্লা যাচ্ছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved ©2020 jubokantho24.com
Website maintained by Masum Billah