বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ০৬:১৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম:
বন্ধ করে দেয়া হলো খার্তুম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পাকিস্তানে বিদ্রোহীদের সাথে সংঘর্ষে ৪ পুলিশ সদস্য নিহত কথিত প্রগতিশীলদের বাধা: যুক্তরাজ্যের প্রোগ্রামে যেতে পারেননি মাওলানা আজহারী কবরে থেকেও মামলার আসামি হাফেজ্জী হুজুরের নাতি নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩০ আমেরিকাসহ পশ্চিমা দেশগুলোর কূটনীতিকদের সঙ্গে আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক প্রথমবারের মতো ক্যামেরার সামনে আসলেন মোল্লা ইয়াকুব আজ বন্ধ হতে পারে অনেকের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট এখন শেখ হাসিনার অলৌকিক উন্নয়নের গল্প শোনানো হচ্ছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাবজি খেলতে দেয়ার প্রলোভনে শিশুদের বলাৎকার করতেন স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা

কান্দাহারসহ ১১০ জেলার দখল নিয়েছে তালেবান

যুবকণ্ঠ ডেস্ক:

আফগানিস্তানের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র কান্দাহার পুনরায় দখলে নিয়েছে তালেবান। বেদখল হওয়ার আগে অঞ্চলটি তালেবানের পুরাতন দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল। শনিবার রাতে আফগানিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ের মাধ্যমে শহরটি দখলে নেয় তালেবান। গত ২৪ ঘণ্টায় তালেবান আফগানিস্তানের আরও ১৩টি জেলা নিজেদের দখলে নিয়েছে। এনিয়ে দেশটির ৩৭২টি জেলার মধ্যে তালেবানের দখলে এলো ১১০টি জেলা।

আফগানস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকে আশরাফ ঘানি সরকারের মধ্যে হতাশা বেড়েছে। কারণ একের পর এক জেলা দখল করে নিচ্ছে তালেবান।

জেলাগুলো পুনরুদ্ধারে সেনাবাহিনীর সঙ্গে তালেবানদের তীব্র লড়াই চলছে। এতে আতঙ্ক বাড়ছে সাধারণ জনগণের মাঝে। এরই মধ্যে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘাতে নিহত হয়েছে বহু সাধারণ মানুষ। তারা চাচ্ছে যে কোনো একপক্ষের বিজয়ের মাধ্যমে এই লড়াইয়ের অবসান হোক।

আফগানিস্তানে সাম্প্রতিক তালেবানের উৎপাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কোন পদক্ষেপ দেখা যায়নি। আপাতত দৃষ্টিতে তাই মনে হচ্ছে আফগানিস্তানে তালেবানের প্রতি তাদের সমর্থন রয়েছে।

এদিকে রবিবার (৪ জুলাই) বিকেলে কান্দাহার গভর্নরের পার্কিং চত্বরে বিস্ফোরণে দুই জন নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে একজন গভর্নরের সেক্রেটারি এবং অন্যজন নিরাপত্তা প্রহরী। এছাড়া আহত হয়েছে আরও এক নিরাপত্তা প্রহরী।

এর আগে শনিবার ৩ জুলাই আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ বাদাখশানে নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ২০ তালেবান সদস্য নিহত হয়েছে। এছাড়া প্রদেশটিতে গত দুই দিনের সংঘাতে অন্তত তিনজন নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন।

গত ১ জুলাই রাতে আফগানিস্তানের বাদাখশান ও উত্তরাঞ্চলীয় বাঘলান প্রদেশে তালেবানের হামলায় অন্তত ২৩ জন নিহত হয়। নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিল সাধারণ মানুষ। তবে কয়েকজন নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্য ও তালেবানা যোদ্ধাও ছিল নিহতের তালিকায়।

এদিকে আফগানিস্তান থেকে বিদেশি সৈন্য প্রত্যাহার হচ্ছে অন্যদিকে নিজেদের পেশিশক্তি বাড়াচ্ছে তালেবান। ২ জুলাই প্রায় দুই দশক পর আফগানিস্তানে নিজেদের প্রধান সামরিক ঘাঁটি থেকে বিদায় নিল যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর সেনারা। তারা বাগরাম বিমান ঘাঁটি খালি করে দিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন এক মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো বাহিনীর সব সদস্য বাগরাম বিমান ঘাঁটি ছেড়ে গেছে।

কাবুল থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত এই ঘাঁটি থেকেই আফগানিস্তানে সকল বিমান হামলা ও কৌশলগত কার্যক্রম পরিচালনা করতো মার্কিন সামরিক বাহিনী। ঘাঁটিটি এবার আফগান সরকারের হাতে তুলে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এখন থেকে যার নেতৃত্ব দেবে আফগান বাহিনী।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর টুইন টাওয়ারসহ তালেবানের আরও দুটি হামলায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় তিন হাজার মানুষ প্রাণ হারায়। এই হামলার জন্য আল কায়দার প্রধান ওসামা বিন লাদেনকে দায়ী করা হয়। এরপর থেকে আফগানিস্তানে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। ২০১১ সাল থেকে চলা যুদ্ধ-সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৬৪ হাজারের বেশি আফগান সেনা ও পুলিশ নিহত হয়েছেন। প্রাণ হারিয়েছেন ৪০ হাজারের বেশি সাধারণ মানুষ। এছাড়া আরও প্রায় সাড়ে তিন হাজার বিদেশি সেনা নিহত হয়েছেন।

এ অবস্থায় সম্প্রতি আফগানিস্তান যুদ্ধে ইতি টানার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি জানিয়েছেন, ৯/১১ হামলার দুই দশকপূর্তির আগেই আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে সকল মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হবে।

সূত্র: আল আরাবিয়া নিউজ, তোলো নিউজ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved ©2020 jubokantho24.com
Website maintained by Masum Billah