বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ০৫:০৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম:
বন্ধ করে দেয়া হলো খার্তুম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পাকিস্তানে বিদ্রোহীদের সাথে সংঘর্ষে ৪ পুলিশ সদস্য নিহত কথিত প্রগতিশীলদের বাধা: যুক্তরাজ্যের প্রোগ্রামে যেতে পারেননি মাওলানা আজহারী কবরে থেকেও মামলার আসামি হাফেজ্জী হুজুরের নাতি নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩০ আমেরিকাসহ পশ্চিমা দেশগুলোর কূটনীতিকদের সঙ্গে আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক প্রথমবারের মতো ক্যামেরার সামনে আসলেন মোল্লা ইয়াকুব আজ বন্ধ হতে পারে অনেকের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট এখন শেখ হাসিনার অলৌকিক উন্নয়নের গল্প শোনানো হচ্ছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাবজি খেলতে দেয়ার প্রলোভনে শিশুদের বলাৎকার করতেন স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা

তুরস্ক কি আফগানিস্তানে সেনা মোতায়েন অব্যহত রাখবে বা নতুন করে সেনা মোতায়েন করবে?

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ব্রাসেলসে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সাথে সাক্ষাতের পরে এই এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, বিশেষ করে ভূ-রাজনৈতিক খোঁজখবর যারা রাখেন।

এই প্রশ্নের সরাসরি কোন উত্তর কেউ দিতে পারবে না। বিশ্লেষণ করতেও অনেক লম্বা করে লিখতে হয়। কারণ আফগানিস্তান একটা সুপার মাল্টিডাইমেনশন ব্যাটেল ফিল্ড। অনেক দেশের এবং প্লেয়ারের স্বার্থ জড়িত এই দেশে।

আমি চেষ্টা করব, সব ডাইমেনশন থেকে বিশ্লেষণ করতে। লিখাটা অনেক বড়, কাজেই কেউ কমেন্ট করলে সম্পুর্ণটা পড়ে কমেন্ট করার অনুরোধ করছি।

💥তুরস্ক আফগানিস্তানি কি করতে চাচ্ছে??
👉ন্যাটো সম্মেলনে বাইডেন-এরদোয়ান আলোচনায়, এরদোয়ান প্রস্তাব করে, এ বছরের ১১ সেপ্টেম্বরে ন্যাটোর সব সেনা আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহারের পরে, তুরস্ক আফগানিস্তানের হামিদ কারজাই ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের নিরাপত্তার দ্বায়িত্ব নিবে।

তবে তুরস্কের শর্ত-
১. আফগান এয়ারপোর্টের নিরাপত্তার কাজে তুরস্ক পাকিস্তান ও হাংগেরিয়ান সেনাবাহিনী সাথে নিবে।
২. এই কাজের জন্যে আমেরিকা তুরস্ককে ইকোনমিক, লজিস্টিক ও ডিপ্লোমেটিক সাপোর্ট দিবে।

এগুলো অফিসিয়াল, অনঅফিসিয়াল শর্ত হচ্ছে-
১. S-400 এর জন্যে তুরস্কের উপর থেকে যে অবরোধ আমেরিকা আরোপ করেছে, তা তুলে নিতে হবে।
২. F-35 এর প্রতিশ্রুত ফাইটার জেট তুরস্ককে দিতে হবে। এই প্রজেক্টে তুরস্কের প্রায় ২.৫-৩ বিলিয়ন ডলার এখনো আমেরিকার একাউন্টে। ফাইটার জেটও দেয় নি আবার টাকাও দেয় নি।

💥তুরস্কের উদ্দেশ্য কি?
১. উপরের অনঅফিসিয়াল স্বার্থগুলো তো আছেই।
তুরস্কের নিজেদের আরো কিছু স্বার্থ আছে।
২. এছাড়া আফগানিস্তানে তুরস্কের প্রভাব বৃদ্ধি পেলে, সেন্ট্রাল এশিয়ার তুর্কীক দেশগুলোর সাথে ইকোনমিক্যাল এবং পলিটিক্যাল প্রভাব বাড়বে।

৩. চীনের সিল্ক রোডের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট আফগানিস্তান। এখানে প্রভাব বাড়লে তুরস্কের নোগোসিয়েশন পাওয়ার বাড়বে চীনের সাথে।

৪. আফগানিস্তানে তুরস্ক প্রভাব বিস্তার করতে পারলে, এশিয়ান ইকোনমিক বাজারে তুরস্কের দাপট বাড়বে।এতে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে পাকিস্থান। সামরিক ও অর্থনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই পাকিস্তানের প্রভাব বাড়বে। এবং ভারতের হুমকি মোকাবিলা করায় পাকিস্তান এগিয়ে থাকবে।

💥তুরস্ক কিভাবে এগোবে?
👉আফগানিস্তানে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পাকিস্তানের এবং এরপরেই কাতারের। তুরস্কের সবচেয়ে কাছের বন্ধুও এই দুইটা দেশ। তুরস্ক চাইবে তালি/বানদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে একটা সমাধান করার এবং এক্ষেত্রে এই দুইটা দেশের সহযোগিতা নিবে।

পাকিস্তান ও তুরস্কের সম্পর্ক জমজ ভাইয়ের মত। এই বিষয়ে আগে অনেক আলোচনা করেছি।

💥লাভ-ক্ষতির হিসাব!!
👉তুরস্কঃ
১. তুরস্কের লাভ উপরে তুরস্কের উদ্দেশ্যগুলো।
২. ক্ষতি, যদি তালিবানের সাথে আলোচনা না করে আফগানিস্তানে অবস্থান করে, তবে তুরস্কের ক্ষতি হবে।
এক্ষেত্রে লাভ-ক্ষতি ক্যালকুলেশন করে প্রফিট কতটুকু থাকবে এইটা আলাদা হিসাব।

তবে তুরস্ক যদি চায়, তাহলে আফগানিস্তানে যুদ্ধ আরো অনেক দীর্ঘ করতে পারবে। মুসলিম দেশ ফ্লেবার দিয়েই আফগানিস্তানের জনগণকে দুই ভাগে ভাগ করতে পারবে। যদি সন্দেহ থাকে, তাহলে আফগানিস্তানের জনগণের ডেমোগ্রাফিটা চেক করে নিতে পারেন।

👉তালি/বানঃ
১. ক্ষতিঃ
তালি/বানদের ধারণা তুরস্কের সেনারা আফগানিস্তানে থাকলে ন্যাটো বা আমেরিকার স্বার্থে কাজ করবে। আমেরিকানপন্থী ঘানি সরকারকে ডিফেন্ড করবে তুরস্ক।
আফগানিস্তানের সরকারকে যদি তুরস্ক ব্যাকআপ দেয়, তাহলে তালি/বানদের ক্ষমতা দখল বিলম্বিত হবে।
বা আফগানিস্তানের তুর্কীক নাগরিক (দোস্তাম) এবং অন্যান্য তালি/বান বিরোধী শক্তিকে এক করে রুখে দাঁড়াবে।
এতে আফগানিস্তানের যুদ্ধ আরো লম্বা হবে। তুরস্ক মুসলিম কান্ট্রি, আফগানিস্থানে ইজিলি ডিভাইডেশিন ক্রিয়েট করতে পারবে।

তবে এই কাজ তুরস্ক করলে অবশ্যই একজন মুসলিম হিসাবে আমি প্রতিবাদ করব।

২. লাভঃ
তালি/বান যদি তুরস্কের সাথে আলোচনার মাধ্যমে একটা সমাধানে আসে, তাহলে সামরিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তুরস্কের ফুল সাপোর্ট পাবে। এতে নিজেরা পাশাপাশি পাকিস্তান শক্তিশালী হবে।

🔥তুরস্কে কেন আসবে দিবে তালি/বানঃ
আমেরিকান ফরেন পলিসিতে ইতিহাস বলে, এরা একটা দেশ ছেড়ে গেলেও সেই দেশ নিয়ে খেলে। এখন তুরস্ক না এলে অন্য কেউ সেই শূন্যস্থান পূরণ করবে। কে সেটা সময় বলে দিবে।

তুরস্কের ফরেন পলিসি বা রিসেন্ট এক্টিভিটিতে, এটা পরিষ্কার যে, তুরস্ক উইন-উইন পলিসি মেইনটেইন করে। কোন দেশ, সেটা মুসলিম বা অমুসলিম হোক হোক, শোষণ করে না। বা সেই দেশের জনগণের অধীকারকে শ্রদ্ধা করে। লিবিয়া বা সিরিয়া বা আজারবাইজানে তুরস্ক চাইলেই তেল, গ্যাস বা খনিজ সম্পদ লুটপাট করতে পারত। কিন্তু করে নি।

সুতরাং যার বলছে, তুরস্ক তালি/বানদের বিপক্ষে যাবে এই ধারণা আমি মনে করি ভুল। তালি/বানদের ও আফগান জনগণ সাথে নিয়েই কাজ করবে।

👉পাকিস্তানঃ
লাভঃ সামরিক ও অর্থনৈতিক দুই দিক থেকেই লাভবান হবে। বিশেষ করে ভারতের হুমকি মোকাবিলায়। আফগানিস্তানে ভারত নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর জন্যে অনেক ইনভেস্ট করেছে। এছাড়া চীনের পাশাপাশি একট ব্যাপআপও পাবে পাকিস্থান।
কাশ্মির ইস্যুতে অলওয়েদার মুসলিম ভাই পাবে।

ক্ষতিঃ তুরস্ক যদি আফগানিস্তানে পাকিস্তানের প্রভাব কমিয়ে নিজেই বস সাজতে চায়?
এই থিউরি ভুয়া। কারণ তুরস্ক এতটা আনাড়ি না যে এই রকম কাজ করবে। কোন ভাইকে পেছন থেকে ছুরি মারবে। আর চাইলেও প্রিভিয়াস ক্যালকুলেশন করলে তা তুরস্কের পক্ষে করা সম্ভব না।

👉আমেরিকাঃ
আমেরিকা প্রথম দিকে ভাববে তুরস্ককে দিয়ে নিজের স্বার্থ উদ্ধার করবে।
তবে তুরস্ক কখনোই অনের টুলস হবে না।
তুরস্ক নেগোসিয়েশনে যায়, কিন্তু নিজের লক্ষ্য স্থির রেখে কাজ করে৷ এটাই কূটনীতি বা ডিপ্লোম্যাসি।
ড্যামি হচ্ছে- ২০১৬ সালের পর থেকে রাশিয়া তালি/বানদের অস্ত্র সহযোগীতা দিয়ে, থ্রু ইরান।
এখন তালি/বান কি রাশিয়ার চামচা হিয়ে গিয়েছে? উত্তর হচ্ছে না।
তালি/বান নিজেদের লক্ষ্যে স্থির। এজন্যে এক শত্রুর কাছে থেকে অস্ত্র নিয়ে, অন্য শত্রুকে ধবংস করেছে।

রাশিয়া কি তালি/বানকে বন্ধু বানিয়েছে। রাশিয়াও বানাই নি৷ কিন্তু শত্রুকে দিয়ে শত্রু ধবংস করেছে। এটা ইরানের ক্ষেত্রেও সেই পলিসি।

👉ইরান, রাশিয়া ও ভারতঃ
তুরস্ক যদি তালি/বানদের সাথে ফ্রুটফুল নেগোসিয়েশন করে কাজ করে। তাহলে এই তিন দেশের ক্ষতি হবে৷ কোন লাভ নেই।
এজন্যে এই তিন দেশই চাচ্ছে তুরস্ক না আসুক।

🔥আমার চাওয়া কি?
আমি চাই, আফগানিস্তানে তুরস্ক পাকিস্তান, কাতার ও তালি/বান একসাথে কাজ করুক, যেন মুসলিম বিশ্ব লাভবান হয়।
যেন দুনিয়ার কোথাও আমার ভাই বোন নির্যাতিত হলে, প্রতিবাদ করতে পারি। কারো অধীকার কেউ কেড়ে নিলে বুক উচিয়ে বলতে পার,
তোকে অবশ্যই আমার অধীকার ফিরিয়ে দিতে হবে।

Hasan Akand
25/06/2021

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved ©2020 jubokantho24.com
Website maintained by Masum Billah