বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ০৬:০৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম:
বন্ধ করে দেয়া হলো খার্তুম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পাকিস্তানে বিদ্রোহীদের সাথে সংঘর্ষে ৪ পুলিশ সদস্য নিহত কথিত প্রগতিশীলদের বাধা: যুক্তরাজ্যের প্রোগ্রামে যেতে পারেননি মাওলানা আজহারী কবরে থেকেও মামলার আসামি হাফেজ্জী হুজুরের নাতি নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩০ আমেরিকাসহ পশ্চিমা দেশগুলোর কূটনীতিকদের সঙ্গে আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক প্রথমবারের মতো ক্যামেরার সামনে আসলেন মোল্লা ইয়াকুব আজ বন্ধ হতে পারে অনেকের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট এখন শেখ হাসিনার অলৌকিক উন্নয়নের গল্প শোনানো হচ্ছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাবজি খেলতে দেয়ার প্রলোভনে শিশুদের বলাৎকার করতেন স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা

মুসলিম নিধনে এক লোমহর্ষকর ইতিহাস “ক্রোয়েশিয়া,সার্বিয়ার বসনিয়া যুদ্ধ 

রবিউল আউয়াল:

আজকের দিনে — বসনিয়ার যুদ্ধ বা বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার যুদ্ধ হচ্ছে একটি আন্তর্জাতিক সামরিক যুদ্ধ। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় এ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। … এর মধ্যে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা ছিলো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র, যার মোট জনগোষ্ঠীর ৪৪% মুসলিম বসনীয়, ৩১% অথোর্ডক্স সার্বীয়, এবং ১৭% ক্রোয়েশীয় ক্যাথলিক। ১৯৯১ সালে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধ চলে কয়েক বছর জুড়ে। যুদ্ধে লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণের বিনিময়ে জন্ম নেয় এক অভিশপ্ত ইতিহাস। আর সেই ইতিহাসের খলনায়কদের মধ্যে প্রথম যে তিনজনের নাম মনে আসে তারা হলো স্লোবোদান মিলোসেভিচ, রাদোভান কারাদজিচ এবং রাতকো ম্লাদিচ। উগ্র জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী এই তিন সার্ব নেতার হাতে লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়। ইতিহাসের পাতায় এদেরকে একসাথে ‘বলকান কসাই’ নামে ডাকা হয়। কারাদজিচ বসনিয়ার মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা সারায়েভো অবরোধের আদেশ দেন। ৪৪ দিনব্যাপী নির্বিচারে মুসলিম হত্যা করা হয়। ইন্ডিপেন্ডেন্ট পত্রিকার হিসাব অনুযায়ী প্রায় ১,৫০০ শিশুসহ ১০ হাজারের মতো মুসলিম হত্যা করা হয়। রাদোভান কারাদজিচ একজন আত্মকেন্দ্রিক নেতা। তিনি কিছু কবিতাও রচনা করেন। তার কবিতার ভাষায় ফুটে উঠেছে তার উগ্রতা। একটি কবিতায় তিনি নিজেকে ‘লৌহমানব’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তার প্রচণ্ড ক্ষমতার নেশা ছিল। ১৯৯২ সালে তিনি বসনিয়া এবং হার্জেগোভিনার রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তার শাসনামলে বসনিয়ায় বসবাসরত মুসলিম এবং ক্রোটদের সাথে সার্বদের দ্বন্দ্ব বেঁধে যায়। স্রেব্রেনিৎসায় প্রায় ৮ হাজার মুসলিমকে হত্যা করা হয়। কারাদজিচ এবং মিলোসেভিচের লক্ষ্য ছিলো এই অঞ্চল থেকে নন-সার্ব জাতিদের বিতাড়িত করা। গণহত্যার পর ম্লাদিচ তার সৈনিকদের শহর থেকে নন-সার্বদের তাড়িয়ে দেয়ার নির্দেশ দেন। প্রায় ২০ হাজার মুসলিম নারী এবং শিশুকে তাড়িয়ে দেয়া হয়। সার্বসেনারা বসনিয়ান মুসলিম এবং ক্রোট নারীদের ধর্ষণ করার মতো ঘৃণ্য অপরাধে লিপ্ত হয়। সে ২০১৩ সালের কথা প্রিয়েডোর শহরের কাছে এক গ্রামে গণকবর। এই গণকবর থেকে ২০১৩য় উদ্ধার করা হয় বসনিয় সার্ব বাহিনীর নৃশংস হত্যাযজ্ঞে নিহত বসনিয় মুসলিম ও ক্রোয়াটদের দেহাবশেষ। ঐ এলাকায় আরও দেড় হাজারের মত নিখোঁজ মানুষের চিহ্ণ খুঁজে ফিরছেন স্বজনেরা। বসনিয়া হার্সেগোভিনা কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী বসনিয়ায় ৫০ হাজারের মত নারী গণধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved ©2020 jubokantho24.com
Website maintained by Masum Billah